কিংবদন্তি শিল্পী আবদুল গফুর হালীকে মরণোত্তর জাতীয় পুরস্কার দেওয়ার দাবি
- আপডেট সময় : ১২:০৪:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬ ১৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের লোকসংগীতের কিংবদন্তি সাধক ও গবেষক আবদুল গফুর হালীকে মরণোত্তর জাতীয় পুরস্কারে ভূষিত করার দাবি উঠেছে। এই কালজয়ী শিল্পীর ৯৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তারা সরকারের প্রতি এই দাবি জানান। গত বুধবার (১২ আগস্ট) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির হল রুমে আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টারের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, আবদুল গফুর হালী চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গানের ক্ষেত্রে একটি নতুন যুগের সৃষ্টি করেছেন, যা খুব কম শিল্পীর পক্ষেই সম্ভব হয়েছে। এই মুকুটহীন সম্রাটকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, সুর সাধনায় জীবন উৎসর্গ করা এই মাটির মানুষের যথাযথ মূল্যায়ন ও তার সৃষ্টি সংরক্ষণ করা জরুরি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই কিংবদন্তিকে সন্তানের মতো আগলে রাখা এবং তার আবাসন ও চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পিএইচপি ফ্যামিলির অবদানের কথাও তিনি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফিনল্যান্ডের হেলসিংকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো, লেখক ও গবেষক ড. সেলিম জাহাঙ্গীর এবং কবি ও কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। ড. সেলিম জাহাঙ্গীর তার বক্তব্যে বলেন, গফুর হালী কেবল চট্টগ্রামকেই আলোকিত করেননি, তার সৃষ্টিশীল কাজ চট্টগ্রামের সীমানা ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হয়েছে। তিনি ছিলেন চট্টগ্রামের লোকসংগীতের একনিষ্ঠ সাধক, যার কর্ম চাটগাঁইয়া সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে।
অন্যদিকে, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের তথাকথিত এলিট সমাজের তীব্র সমালোচনা করেন কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী। তিনি বলেন, এই এলিট সমাজ গফুর হালীকে শিল্পী ও সাধক হিসেবে যোগ্য স্থান দেয়নি বলেই তিনি আজীবন অবহেলিত রয়ে গেছেন। এ অঞ্চলে জাত-পাতের একটি অদৃশ্য দেয়াল রয়েছে, যার কারণে মাটি থেকে উঠে আসা প্রকৃত প্রতিভাদের মূল ধারায় সহজে গ্রহণ করা হয় না।
অনুষ্ঠানের সভাপতি এবং আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টার ও পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে গফুর হালীর সৃষ্টি নিয়ে কাজ করছেন। ইতোমধ্যে শিল্পীর সব গান স্বরলিপিসহ লিপিবদ্ধ ও কপিরাইট করা হয়েছে। তার লেখা নাটকগুলোও সংরক্ষণ করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি নাটক চলচ্চিত্র আকারে নির্মিত হয়েছে। নাটকটি মালয়েশিয়া ও কোরিয়াসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আবদুল গফুর হালী রিসার্চ সেন্টারের সেক্রেটারি ও সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার। তিনি চাটগাঁইয়া সংস্কৃতির এই মহানায়কের জীবন, কর্ম ও সংগীত সাধনা নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার সৃষ্টি সংরক্ষণের ওপর জোর দেন।
আলোচনা সভা শেষে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবদুল গফুর হালীর রচিত কালজয়ী আঞ্চলিক ও মাইজভাণ্ডারী গান পরিবেশন করেন বিশিষ্ট শিল্পী কল্যাণী ঘোষ, প্রখ্যাত সংগীতজ্ঞ আবদুল মান্নান কাওয়াল, গীতা আচার্য, জিয়াউদ্দিন বাদশা, আলাউদ্দিন কাওয়াল, নয়ন শীল ও জাবেদ হালী।





























