ঢাকা ০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ স্পেনের সিউতায় অভিবাসীর ঢল, নিহত কমপক্ষে ৪১ আল-নাসরের প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পে এখনো যোগ দেননি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বৃষ্টি-বন্যার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে অদৃশ্য সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সবুজের বুকে সাদা ফুলের চাদর, পাবনায় শিম চাষে কৃষকের হাসি বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্ক গড়ার পরামর্শ ভারতীয় সংসদীয় কমিটির বিরামপুরে ১২ নারীকে সেলাই মেশিন ও শতাধিক শিক্ষার্থীকে অনুদান প্রদান মহারাষ্ট্রে বন্যার তোড়ে ভেসে গেলেন মা ও দুই কন্যা, জীবিত স্বামী জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে কামরুল-জসিম প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয় ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান তথ্যমন্ত্রীর

সবুজের বুকে সাদা ফুলের চাদর, পাবনায় শিম চাষে কৃষকের হাসি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন সবুজের বুকে সাদা ফুলের অপরূপ চাদরে ঢাকা। যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমগাছে ফুটেছে অসংখ্য ফুল। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। একদিকে যেমন এই শিমক্ষেত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে আগাম ফলন ও বাজারে ভালো দাম পেয়ে কৃষকরাও বেশ আশাবাদী।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বারইপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মাচাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে হাইব্রিড শিমের লতা। গাছের ফুলে ভরা ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কচি শিম। কৃষকরা এখন ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন; কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

বারইপাড়ার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমের আবাদ করেছেন। জমিটি চাষাবাদের জন্য তিনি প্রায় ৯ লাখ টাকা দিয়ে বন্ধক (কট) নিয়েছেন। জমি প্রস্তুত, মাচা নির্মাণ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যা বাবদ খরচ প্রতিনিয়ত বাড়লেও বর্তমান ফলন দেখে তিনি লাভের আশা করছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই মণ শিম সংগ্রহ করছেন এবং বাজারে প্রতি কেজি ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক মনজুর হোসেন জানান, আগাম জাতের শিম হওয়ার কারণে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকে এবং সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এই অঞ্চলের অনেক কৃষক প্রতি বছরই আগাম হাইব্রিড শিমের আবাদ করেন। তবে সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং অনুকূল আবহাওয়া নিশ্চিত করাই এই চাষের বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, পাবনার শিম এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে এবং দেশের সবচেয়ে বেশি শিম আটঘরিয়া উপজেলাতেই উৎপন্ন হয়। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে যাতে তারা কম সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে আগাম শিম উৎপাদন করতে পারেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও আগাম শিমের ভালো ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

সবুজের বুকে সাদা ফুলের চাদর, পাবনায় শিম চাষে কৃষকের হাসি

আপডেট সময় : ০৩:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
print news

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন সবুজের বুকে সাদা ফুলের অপরূপ চাদরে ঢাকা। যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমগাছে ফুটেছে অসংখ্য ফুল। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। একদিকে যেমন এই শিমক্ষেত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে আগাম ফলন ও বাজারে ভালো দাম পেয়ে কৃষকরাও বেশ আশাবাদী।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বারইপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মাচাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে হাইব্রিড শিমের লতা। গাছের ফুলে ভরা ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কচি শিম। কৃষকরা এখন ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন; কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।

বারইপাড়ার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমের আবাদ করেছেন। জমিটি চাষাবাদের জন্য তিনি প্রায় ৯ লাখ টাকা দিয়ে বন্ধক (কট) নিয়েছেন। জমি প্রস্তুত, মাচা নির্মাণ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যা বাবদ খরচ প্রতিনিয়ত বাড়লেও বর্তমান ফলন দেখে তিনি লাভের আশা করছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই মণ শিম সংগ্রহ করছেন এবং বাজারে প্রতি কেজি ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক মনজুর হোসেন জানান, আগাম জাতের শিম হওয়ার কারণে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকে এবং সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এই অঞ্চলের অনেক কৃষক প্রতি বছরই আগাম হাইব্রিড শিমের আবাদ করেন। তবে সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং অনুকূল আবহাওয়া নিশ্চিত করাই এই চাষের বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, পাবনার শিম এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে এবং দেশের সবচেয়ে বেশি শিম আটঘরিয়া উপজেলাতেই উৎপন্ন হয়। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে যাতে তারা কম সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে আগাম শিম উৎপাদন করতে পারেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও আগাম শিমের ভালো ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin