সবুজের বুকে সাদা ফুলের চাদর, পাবনায় শিম চাষে কৃষকের হাসি

- আপডেট সময় : ০৩:২০:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন সবুজের বুকে সাদা ফুলের অপরূপ চাদরে ঢাকা। যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমগাছে ফুটেছে অসংখ্য ফুল। প্রকৃতির এই নয়নাভিরাম দৃশ্য উপভোগ করতে প্রতিদিন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। একদিকে যেমন এই শিমক্ষেত পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, অন্যদিকে আগাম ফলন ও বাজারে ভালো দাম পেয়ে কৃষকরাও বেশ আশাবাদী।
বৃহস্পতিবার সরেজমিনে বারইপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি মাচাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে হাইব্রিড শিমের লতা। গাছের ফুলে ভরা ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে কচি শিম। কৃষকরা এখন ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন; কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন।
বারইপাড়ার কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমের আবাদ করেছেন। জমিটি চাষাবাদের জন্য তিনি প্রায় ৯ লাখ টাকা দিয়ে বন্ধক (কট) নিয়েছেন। জমি প্রস্তুত, মাচা নির্মাণ, সার, সেচ, শ্রমিক ও পরিচর্যা বাবদ খরচ প্রতিনিয়ত বাড়লেও বর্তমান ফলন দেখে তিনি লাভের আশা করছেন। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে প্রায় আড়াই মণ শিম সংগ্রহ করছেন এবং বাজারে প্রতি কেজি ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের প্রত্যাশা করছেন তিনি।
স্থানীয় কৃষক মনজুর হোসেন জানান, আগাম জাতের শিম হওয়ার কারণে মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকে এবং সরবরাহ কম থাকায় ভালো দাম পাওয়া যায়। তাই এই অঞ্চলের অনেক কৃষক প্রতি বছরই আগাম হাইব্রিড শিমের আবাদ করেন। তবে সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং অনুকূল আবহাওয়া নিশ্চিত করাই এই চাষের বড় চ্যালেঞ্জ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, পাবনার শিম এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও পরিচিতি পেয়েছে এবং দেশের সবচেয়ে বেশি শিম আটঘরিয়া উপজেলাতেই উৎপন্ন হয়। তিনি আরও বলেন, কৃষি বিভাগ কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে যাতে তারা কম সার ও কীটনাশক ব্যবহার করে নিরাপদ উপায়ে আগাম শিম উৎপাদন করতে পারেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছরও আগাম শিমের ভালো ফলনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।
























