সার চাইতে গিয়ে ৮ দিন জেল খাটলেন কুড়িগ্রামের দুই কৃষক
- আপডেট সময় : ১২:৫১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার কিনতে গিয়ে মামলার আসামি হয়ে ৮ দিন কারাবাস করতে হয়েছে দুই কৃষককে। উপজেলার বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের গনাইরকুটি গ্রামের বাসিন্দা আল আমিন মোল্লা ও সুরুজ মিয়া নামের এই দুই কৃষক জামিনে মুক্তি পেলেও এখন মামলার খরচ ও হয়রানি নিয়ে চরম দিশেহারা। এদিকে গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে গনাইরকুটি গ্রাম। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল অবিলম্বে এই হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী কৃষক আল আমিন মোল্লা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তিনি শুধু নিজের জমির জন্য সার চাইতে গিয়েছিলেন, কোনো হট্টগোল বা মারামারি করেননি। অথচ তার নামে মামলা দিয়ে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ৮ দিন জেল খাটাল। তার স্ত্রী রওশান আরা বেগম জানান, স্বামীকে মুক্ত করতে তাকে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। দেড় বিঘা জমিতে ধান চাষের এই মৌসুমে এখন আবার নতুন করে মামলার হাজিরা দেওয়ার খরচ জোগাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। একই মামলার আরেক ভুক্তভোগী সুরুজ মিয়া জানান, সার আনতে গিয়ে সার তো পানইনি, উল্টো পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। গরিব মানুষ হওয়ায় জামিন নিতে গিয়ে অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে, এখন মামলার হাজিরার টাকা কোথায় পাবেন তা নিয়ে চিন্তিত।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের সার বিতরণের সময় হট্টগোল ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাতেই ভূরুঙ্গামারী থানায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও বেশ কয়েকজনকে আসামি করে মামলা করেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার। ওই রাতেই পুলিশ গনাইরকুটি গ্রামের সুলতান মিয়া, সুরুজ মিয়া ও আল আমিনকে আটক করে। পরে সুলতান মিয়াকে ছেড়ে দেওয়া হলেও অপর দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে ৮ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।
এই মামলার পর থেকে গনাইরকুটি গ্রামে গ্রেফতার আতঙ্ক বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক জানান, পুলিশি অভিযানের ভয়ে রাতে গ্রামের কোনো পুরুষ বাড়িতে থাকছেন না। গোনাইয়ের কুটি মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিউলি বেগম জানান, মামলায় নাম আসার পর থেকে তার স্বামী বাড়িতে নেই, ফলে জমিতেও কাজ করা যাচ্ছে না। কৃষক কলিম উদ্দিন জানান, তার ছোট ভাই আবদুস সালামকে আসামি করায় সে ভয়ে বাড়িছাড়া। বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম জানান, অজ্ঞাত আসামি থাকায় পুরো গ্রামের কৃষকরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি দ্রুত এই মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
এদিকে ঘটনার পর মামলার বাদী ভূরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বারকে বদলি করেছে কৃষি বিভাগ। বদলি হওয়ার আগে তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সার বিতরণের সময় বিক্ষোভের একপর্যায়ে তাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছিল, যার কারণে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন। ভূরুঙ্গামারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, মামলার পর দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজ দেখে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নিরপরাধ কাউকে হয়রানি করা হবে না। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ জানান, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে এবং উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণে কাজ করছে। যারা দোষী নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।




























