ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাতিসংঘে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে জাইমা রহমানের নতুন দায়িত্ব ৫ বছরেও শেষ হয়নি কয়রার কেওড়াকাটা পর্যটনকেন্দ্রের নির্মাণকাজ সাতক্ষীরায় ট্রাকে পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী একমি কর্মকর্তার মৃত্যু দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ পর্যটনে অপার সম্ভাবনা থাকলেও আয়ের মুখ দেখছে না বাংলাদেশ এথেন্সে আবাসিক ভবনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, চার মার্কিন পর্যটকসহ নিহত ৬ ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর, আটক ২ মাউন্ট এতনা থেকে ৪ কিমি উচ্চতায় ছাই, ইতালিতে রেড অ্যালার্ট মৌলভীবাজারে পাহাড় কেটে অবৈধ রিসোর্টের ছড়াছড়ি, বিপন্ন পরিবেশ আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সুযোগ আর মাত্র চার দিন

তীব্র দাবদাহে পোশাক শ্রমিকদের জীবন ও আয়ের ওপর বাড়তি চাপ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। গাজীপুরের কোনাবাড়ীর এক পোশাক কারখানায় কর্মরত নাসরিন বেগম (৩২) জানান, তীব্র গরমের মধ্যে নিজেকে সচল রাখতে তাকে নিয়মিত খাবার স্যালাইন, লেবু ও ডাবের পানি পান করতে হয়। তার ১৪,০০০ টাকা মূল্যের মাসিক বেতনের মধ্যে ১,০০০ টাকারও বেশি খরচ হয়ে যায় কেবল এই দাবদাহের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে, যা তার সীমিত আয়ের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিশ্বব্যাপী গড়ের চেয়ে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শিল্পকারখানার শ্রমিকদের তাপজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা বা মানদণ্ড নেই। ‘পিপলস ক্যারেজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকদের এই বাড়তি খরচকে ‘হিট ট্যাক্স’ বা ‘তাপ কর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

কারখানার ভেতরে ফ্যান ও এক্সস্ট ফ্যান চললেও তাপমাত্রা নিয়মিত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে। এর ফলে শ্রমিকরা কাজের ফাঁকে বারবার মুখ-হাত ধুতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গাজীপুর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভূমির তাপমাত্রা ২.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এছাড়া রাতে বিদ্যুৎ না থাকা এবং তপ্ত মেঝের তাপ বিকিরণের কারণে শ্রমিকরা ঘুমাতে পারছেন না। সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম ১৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।

অতিরিক্ত গরমের প্রভাব নারী শ্রমিক ও অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমের দিনে জন্ম নেয়া শিশুদের হিট স্ট্রোক, খিঁচুনি বা মাথাব্যথার ঝুঁকি থাকে এবং তাদের জন্মকালীন শারীরিক জটিলতা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অসুস্থতার কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে বা হাফ-ডে ছুটি নিলে শ্রমিকদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়। শরীর চাঙ্গা রাখতে শ্রমিকরা আখের রস, ঠাণ্ডা পানীয় ও ওষুধের পেছনে মাসে গড়ে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করছেন।

কারখানা মালিকরাও এই পরিস্থিতির কারণে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। ‘অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট’-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি খরচের প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পোশাক কোম্পানির মুনাফা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। গাজীপুরের ‘ডেনিম এক্সপার্ট লি.’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, শ্রমিকদের পানীয় জল, অতিরিক্ত বাতাস, স্যালাইন ও ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা করা এবং বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারখানার পরিচালন ব্যয় প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে তিনি সরকারের কাছে বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরাসরি বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

তীব্র দাবদাহে পোশাক শ্রমিকদের জীবন ও আয়ের ওপর বাড়তি চাপ

আপডেট সময় : ০৮:৩৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে দেশের তৈরি পোশাক খাতের প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক চরম স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আর্থিক সংকটের সম্মুখীন হয়েছেন। গাজীপুরের কোনাবাড়ীর এক পোশাক কারখানায় কর্মরত নাসরিন বেগম (৩২) জানান, তীব্র গরমের মধ্যে নিজেকে সচল রাখতে তাকে নিয়মিত খাবার স্যালাইন, লেবু ও ডাবের পানি পান করতে হয়। তার ১৪,০০০ টাকা মূল্যের মাসিক বেতনের মধ্যে ১,০০০ টাকারও বেশি খরচ হয়ে যায় কেবল এই দাবদাহের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে, যা তার সীমিত আয়ের ওপর বড় ধরনের আর্থিক বোঝা তৈরি করেছে।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশে গ্রীষ্মকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বিশ্বব্যাপী গড়ের চেয়ে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উচ্চ আর্দ্রতার কারণে অনুভূত তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে শিল্পকারখানার শ্রমিকদের তাপজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো নির্দিষ্ট জাতীয় নীতিমালা বা মানদণ্ড নেই। ‘পিপলস ক্যারেজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রমিকদের এই বাড়তি খরচকে ‘হিট ট্যাক্স’ বা ‘তাপ কর’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

কারখানার ভেতরে ফ্যান ও এক্সস্ট ফ্যান চললেও তাপমাত্রা নিয়মিত ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করে। এর ফলে শ্রমিকরা কাজের ফাঁকে বারবার মুখ-হাত ধুতে বাধ্য হন। ২০২৪ সালের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, গাজীপুর এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ২০০০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে ভূমির তাপমাত্রা ২.০১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এছাড়া রাতে বিদ্যুৎ না থাকা এবং তপ্ত মেঝের তাপ বিকিরণের কারণে শ্রমিকরা ঘুমাতে পারছেন না। সম্প্রতি বিদ্যুতের দাম ১৬ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়েছে।

অতিরিক্ত গরমের প্রভাব নারী শ্রমিক ও অন্তঃসত্ত্বা মায়েদের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে। জাতীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী, অতিরিক্ত গরমের দিনে জন্ম নেয়া শিশুদের হিট স্ট্রোক, খিঁচুনি বা মাথাব্যথার ঝুঁকি থাকে এবং তাদের জন্মকালীন শারীরিক জটিলতা ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। অসুস্থতার কারণে কাজে অনুপস্থিত থাকলে বা হাফ-ডে ছুটি নিলে শ্রমিকদের বেতন থেকে টাকা কেটে নেয়া হয়। শরীর চাঙ্গা রাখতে শ্রমিকরা আখের রস, ঠাণ্ডা পানীয় ও ওষুধের পেছনে মাসে গড়ে ১,০০০ থেকে ২,৫০০ টাকা অতিরিক্ত খরচ করছেন।

কারখানা মালিকরাও এই পরিস্থিতির কারণে আর্থিক চাপের মুখে পড়েছেন। ‘অ্যাপারেল ইমপ্যাক্ট ইনস্টিটিউট’-এর ২০২৬ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি খরচের প্রভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী পোশাক কোম্পানির মুনাফা ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। গাজীপুরের ‘ডেনিম এক্সপার্ট লি.’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল জানান, শ্রমিকদের পানীয় জল, অতিরিক্ত বাতাস, স্যালাইন ও ফার্স্ট এইডের ব্যবস্থা করা এবং বিদ্যুৎ ও জেনারেটরের জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারখানার পরিচালন ব্যয় প্রায় ২ থেকে ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদনশীলতা বজায় রাখতে তিনি সরকারের কাছে বিদ্যুৎ, পানি ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সরাসরি বিনিয়োগের দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin