ঢাকা ০৭:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদনে বাংলাদেশকে ‘নিরাপদ দেশ’ হিসেবে দেখছে ইইউ অর্থনীতিতে যৌথভাবে নোবেল পেলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ ৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’ তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭ পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ

ফেনীতে মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা, নিজেস্ব প্রতিনিধি:
  • আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ ২১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




জান্নাতুল ফাহিমা তানহা
নিজেস্ব প্রতিনিধি:

ফেনীতে ভাড়া বাসা থেকে রোকসানা আক্তার লিপি (৩১) নামে এক মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোকছেদুর রহমান সড়কের খালেক ম্যানশন নামের ৬ তলা ভবনের ২য় তলার একটি ভাড়া বাসার আবদ্ধ কক্ষ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।

নিহত রোকসানা আক্তার লিপি সোনাগাজী উপজেলার কাছিম বাজার এলাকার আবুল বশর বাদশা মিয়ার মেয়ে এবং আমেরিকা প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী।

তিনি এ ভবনে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন, লিপি ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আহ্বায়ক এবং পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন, লিপির সঙ্গে তার ১৩ বছর বয়সী কন্যা সন্তান ও থাকতো।

নিহতের স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন লিপি, রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে মেয়েকে পাশ্ববর্তী মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেয় সে।

আজ সন্ধ্যা পযন্ত তার মোবাইলে কল করে তাকে না পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখে দরজা ভিতর থেকে লাগানো, পরে পাশের ভবনের জানালা দিয়ে দেখা যায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিপির মরদেহ ঝুলছে, তৎক্ষণিক খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তার মৃত্যুর খবরে স্বজন ও মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী হাসপাতালে ছুটে এলেও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাকে সেখানে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহিলা দলের এক নেত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো নেতা আসেননি, লিপির মরদেহ মর্গে পড়ে আছে, অথচ কারও যেন কোন দায় নেই।

নিহতের ছোট বোন পিংকি বলেন, আমি আমার বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতাম, ৫ দিন আগে নিজের বাসায় চলে আসি, আমাদের সম্পর্ক বোনের চেয়েও বন্ধুর মতো ছিল, তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কোনো ঝামেলা ছিল না, কেন সে এমন করলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা বলেন, লিপির রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আমার হাত ধরেই, সব কর্মসূচিতে সে আমার ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিল, সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে তার সঙ্গে কথা হয়, এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় যোগাযোগ হয়নি, এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড কিছুই নিশ্চিত না, যদি আত্মহত্যাও হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিশ্চয়ই কোনো সূত্র পাওয়া যাবে, আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।

ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান, বাসার প্রধান দরজা ভিতর থেকে আটকানো ছিল, শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে জরজেট ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছিল, গলার পাশে ডান হাতের আঙুল আটকে ছিল, ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁস লাগার সময় বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

ফেনীতে মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:৩৬:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জান্নাতুল ফাহিমা তানহা
নিজেস্ব প্রতিনিধি:

ফেনীতে ভাড়া বাসা থেকে রোকসানা আক্তার লিপি (৩১) নামে এক মহিলা দল নেত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

১১ ফেব্রুয়ারি বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের মোকছেদুর রহমান সড়কের খালেক ম্যানশন নামের ৬ তলা ভবনের ২য় তলার একটি ভাড়া বাসার আবদ্ধ কক্ষ থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।

নিহত রোকসানা আক্তার লিপি সোনাগাজী উপজেলার কাছিম বাজার এলাকার আবুল বশর বাদশা মিয়ার মেয়ে এবং আমেরিকা প্রবাসী দুলাল হোসেনের স্ত্রী।

তিনি এ ভবনে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন, লিপি ফেনী পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ড মহিলা দলের আহ্বায়ক এবং পৌর বিএনপির সদস্য ছিলেন, লিপির সঙ্গে তার ১৩ বছর বয়সী কন্যা সন্তান ও থাকতো।

নিহতের স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের সূত্রে জানা যায় যে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীর প্রচারণায় নিয়মিত সক্রিয় ছিলেন লিপি, রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে মেয়েকে পাশ্ববর্তী মায়ের বাসায় পাঠিয়ে দেয় সে।

আজ সন্ধ্যা পযন্ত তার মোবাইলে কল করে তাকে না পেয়ে বাসায় গিয়ে দেখে দরজা ভিতর থেকে লাগানো, পরে পাশের ভবনের জানালা দিয়ে দেখা যায় গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় লিপির মরদেহ ঝুলছে, তৎক্ষণিক খবর দেওয়া হলে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

তার মৃত্যুর খবরে স্বজন ও মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী হাসপাতালে ছুটে এলেও বিএনপির শীর্ষ পর্যায়ের কোনো নেতাকে সেখানে দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহিলা দলের এক নেত্রী বলেন, একজন রাজনৈতিক সহযোদ্ধার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও কোনো নেতা আসেননি, লিপির মরদেহ মর্গে পড়ে আছে, অথচ কারও যেন কোন দায় নেই।

নিহতের ছোট বোন পিংকি বলেন, আমি আমার বোনের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতাম, ৫ দিন আগে নিজের বাসায় চলে আসি, আমাদের সম্পর্ক বোনের চেয়েও বন্ধুর মতো ছিল, তার প্রবাসী স্বামীর সঙ্গেও কোনো ঝামেলা ছিল না, কেন সে এমন করলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

জেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক নুর তানজিলা বলেন, লিপির রাজনৈতিক বেড়ে ওঠা আমার হাত ধরেই, সব কর্মসূচিতে সে আমার ঘনিষ্ঠ সহকারী ছিল, সর্বশেষ ৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি প্রচারণার শেষ দিনে তার সঙ্গে কথা হয়, এরপর রাজনৈতিক ব্যস্ততায় যোগাযোগ হয়নি, এটি আত্মহত্যা না হত্যাকাণ্ড কিছুই নিশ্চিত না, যদি আত্মহত্যাও হয়, তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিশ্চয়ই কোনো সূত্র পাওয়া যাবে, আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছি।

ফেনী মডেল থানার উপপরিদর্শক গোলাম মোস্তফা জানান, বাসার প্রধান দরজা ভিতর থেকে আটকানো ছিল, শয়ন কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে জরজেট ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরদেহ ঝুলছিল, গলার পাশে ডান হাতের আঙুল আটকে ছিল, ধারণা করা হচ্ছে, ফাঁস লাগার সময় বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে, তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।