ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজধানীর টিকাটুলিতে দুই বাসের রেষারেষিতে প্রাণ হারালেন নারী চার ঘণ্টায়ও নিয়ন্ত্রণে আসেনি চকবাজারের মার্কেটের আগুন ঝালকাঠিতে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ উদযাপনে জামায়াত-পূজা কমিটির মতবিনিময় ইলহান ওমরের বাড়িতে মার্কিন অভিবাসন বিভাগের তল্লাশি সরকারবিরোধী চক্রান্তের মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে আহসান মঞ্জিলের ৫ সিন্দুক: ৩টির রহস্য এখনো অমীমাংসিত ডেঙ্গুতে শিশুসহ ৪ জনের মৃত্যু, মোট আক্রান্ত ছাড়াল এক লাখ সৌদি আরবে ফ্লাইট বিধিনিষেধ: ঢাকা থেকে ৫১ ফ্লাইট স্থগিত সৌদি আরবে বাংলাদেশিদের সতর্ক থাকতে বলেছে রিয়াদ দূতাবাস লোহাগাড়ায় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা ও উৎসবের প্রস্তুতি নিয়ে মতবিনিময়

বোরো ধানের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জলঢাকার কৃষকেরা

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, বিভগীয় প্রধান রংপুর বুরো
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫ ৮০০ বার পড়া হয়েছে

বোরো ধানের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জলঢাকার কৃষকেরা

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি




হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, বিভগীয় প্রধান রংপুর বুরো

মাঘ মাসের শেষের দিকে হটাৎ করে কুয়াশার চাদরে ঢাকা উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা। এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে বোরোধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। এতে অতিরিক্ত খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরেছেন তারা। বর্তমানে বিদ্যুৎ, সার,ডিজেল, শ্রমিক সহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার বোরো ধান চাষে অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তা তাদের কপালে। মাঘের হিমেল কনকনে ঠান্ডা বাতাস,আর ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে জমি তৈরী ও বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বোরো ধানের চারা রোপনে পুরুষদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরাও। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেলে অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে দিতে পারবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৭ শত ২৫ হেক্টর জমি।
অন্যদিকে কৃষকদের সরকারী প্রণোদনা সহ কৃষি সংক্রান্ত সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করছে কৃষি অফিস।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা ও জানাযায়, জমি তৈরী সহ বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এতে প্রতি বিঘা জমিতে ডেপ ১০ -১৫ কেজি, পটাস ১০, টিএসপি ১০,
জিপসাম ৫ ও ৫-৭ কেজি ইউরিয়া সার মিশিয়ে ৩-৪ চাষের মাধ্যমে জমি তৈরী করে ধানের চারা রোপন করছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে এ উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপন শেষ হয়েছে জানায উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল দোলাপাড়া এলাকার গভীর নল কুপের মালিক আমিনুর রহমান জানান, প্রতিবছর আমার এই গভীর নলকুপ দিয়ে এই সময়ে প্রায় ২ শত থেকে ২৫০ বিঘা জমিতে পানি সেচ দিয়ে থাকি। এখন পর্যন্ত এই গভীর নলকুপের আওতায় প্রায় ৬০-৭০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করেছে কৃষকেরা। প্রতি এক একর জমির জন্য নেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার ২ শত টাকা। গত বছর নেওয়া হয়েছিল ৩৬০০-৩৮০০ টাকা।বিদ্যুৎ খরচ বেশী তাই। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান জানান আমি ৮ থেকে ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন শেষ হবে। তবে গতবছরের তুলনায় এবার খরচের হিসাব আমি বেশি গুনতে হবে। পানি সেচের খরচ, জমি চাষ করা সার কীটনাশক ও শ্রমিক সহ সবকিছুর দাম বেশি। তার দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রনোধনা হিসাবে হাইব্রিড জাতের ধানে বীজ ও সার পেয়ে খুব উপকার হয়েছে। এবার আবহাওয়া ভালো থাকলে গতবারের মতো এবারও বোরো ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।গত বছর ধানের ভালো দাম পেয়েছি। আশা করছি এবারও ভালো দাম পেলে খরচ পুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশা করছি। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার বর্গা চাষী গোপাল চন্দ্র রায় বলরন, হামরা ( আমরা) গরীব মানুষ নিজের কোন জমি নাই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করি। বর্তমানে বাজারে আগের চাইতে সার সহ কৃষির সকল পনের দাম বেশী। তবে আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং ধানের দাম বেশি পেলে খরচ পুষিয়ে নিতে পারবো। বালাগ্রাম এলাকার বোরো ধানের চারা রোপন কাজের শ্রমিক আব্দুল আজিজ বলেন আমরা কয়েকজন মিলে একটা দল তৈরী করেছি। দীর্ঘদিন থেকে আমরা সকল ধানের চারা রোপন করে থাকি। এবার প্রতি বিঘা (৩৩শতক)
বোরো ধানের চারা রোপন করার জন্য ১৩০০ টাকা করে নিচ্ছি। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করছি। শৌলমারী ইউনিয়নের এক নারী শ্রমিক জানান আমরা প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা হাজিরা হিসাবে বোর ধানের চারা রোপন করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ জানান চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষেের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমি। ইতি মধ্যে চারা রোপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। আর কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে।তিনি আরও বলেন সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার প্রায় ১০০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বোরো হাইব্রীড ধানের বীজ বিতরন করা হয়েছে। আর উফসি জাতের প্রণোদনা হিসাবে ২০০০ জনের মাঝে সার বিতরণ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

বোরো ধানের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় জলঢাকার কৃষকেরা

আপডেট সময় : ০৯:৫৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ মার্চ ২০২৫

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান, বিভগীয় প্রধান রংপুর বুরো

মাঘ মাসের শেষের দিকে হটাৎ করে কুয়াশার চাদরে ঢাকা উত্তরের জেলা নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা। এ উপজেলায় চলতি বোরো মৌসুমে বোরোধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। এতে অতিরিক্ত খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরেছেন তারা। বর্তমানে বিদ্যুৎ, সার,ডিজেল, শ্রমিক সহ সব কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার বোরো ধান চাষে অতিরিক্ত খরচের দুশ্চিন্তা তাদের কপালে। মাঘের হিমেল কনকনে ঠান্ডা বাতাস,আর ঘন কুয়াশাকে উপেক্ষা করে জমি তৈরী ও বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। বোরো ধানের চারা রোপনে পুরুষদের পাশাপাশি ব্যস্ত সময় পার করছেন নারীরাও। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন ও ভালো দাম পেলে অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে দিতে পারবে বলে আশা করছেন কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায় চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার ৭ শত ২৫ হেক্টর জমি।
অন্যদিকে কৃষকদের সরকারী প্রণোদনা সহ কৃষি সংক্রান্ত সব ধরনের পরামর্শ প্রদান করছে কৃষি অফিস।
বুধবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা ও জানাযায়, জমি তৈরী সহ বোরো ধানের চারা রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। এতে প্রতি বিঘা জমিতে ডেপ ১০ -১৫ কেজি, পটাস ১০, টিএসপি ১০,
জিপসাম ৫ ও ৫-৭ কেজি ইউরিয়া সার মিশিয়ে ৩-৪ চাষের মাধ্যমে জমি তৈরী করে ধানের চারা রোপন করছেন কৃষকেরা। ইতিমধ্যে এ উপজেলায় ২৫ হেক্টর জমিতে ধানের চারা রোপন শেষ হয়েছে জানায উপজেলা কৃষি অফিস। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল দোলাপাড়া এলাকার গভীর নল কুপের মালিক আমিনুর রহমান জানান, প্রতিবছর আমার এই গভীর নলকুপ দিয়ে এই সময়ে প্রায় ২ শত থেকে ২৫০ বিঘা জমিতে পানি সেচ দিয়ে থাকি। এখন পর্যন্ত এই গভীর নলকুপের আওতায় প্রায় ৬০-৭০ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করেছে কৃষকেরা। প্রতি এক একর জমির জন্য নেওয়া হচ্ছে ৪ হাজার ২ শত টাকা। গত বছর নেওয়া হয়েছিল ৩৬০০-৩৮০০ টাকা।বিদ্যুৎ খরচ বেশী তাই। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান জানান আমি ৮ থেকে ১০ বিঘা জমিতে ধান চাষ করি। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন শেষ হবে। তবে গতবছরের তুলনায় এবার খরচের হিসাব আমি বেশি গুনতে হবে। পানি সেচের খরচ, জমি চাষ করা সার কীটনাশক ও শ্রমিক সহ সবকিছুর দাম বেশি। তার দুশ্চিন্তার মধ্যে আছি। উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রনোধনা হিসাবে হাইব্রিড জাতের ধানে বীজ ও সার পেয়ে খুব উপকার হয়েছে। এবার আবহাওয়া ভালো থাকলে গতবারের মতো এবারও বোরো ধানের ফলন ভালো হবে বলে আশা করছি।গত বছর ধানের ভালো দাম পেয়েছি। আশা করছি এবারও ভালো দাম পেলে খরচ পুষিয়ে নিতে পারবো বলে আশা করছি। উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া এলাকার বর্গা চাষী গোপাল চন্দ্র রায় বলরন, হামরা ( আমরা) গরীব মানুষ নিজের কোন জমি নাই। অন্যের জমি বর্গা নিয়ে আবাদ করি। বর্তমানে বাজারে আগের চাইতে সার সহ কৃষির সকল পনের দাম বেশী। তবে আশা করছি আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং ধানের দাম বেশি পেলে খরচ পুষিয়ে নিতে পারবো। বালাগ্রাম এলাকার বোরো ধানের চারা রোপন কাজের শ্রমিক আব্দুল আজিজ বলেন আমরা কয়েকজন মিলে একটা দল তৈরী করেছি। দীর্ঘদিন থেকে আমরা সকল ধানের চারা রোপন করে থাকি। এবার প্রতি বিঘা (৩৩শতক)
বোরো ধানের চারা রোপন করার জন্য ১৩০০ টাকা করে নিচ্ছি। প্রতিদিন ৫ থেকে ৭ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা রোপন করছি। শৌলমারী ইউনিয়নের এক নারী শ্রমিক জানান আমরা প্রতিদিন ৫০০-৬০০ টাকা হাজিরা হিসাবে বোর ধানের চারা রোপন করছি। উপজেলা কৃষি অফিসার সুমন আহমেদ জানান চলতি মৌসুমে বোরো ধান চাষেের লক্ষমাত্রা ধরা হয়েছে ৮ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমি। ইতি মধ্যে চারা রোপনের কাজ শেষ পর্যায়ে। আর কয়েকদিনের মধ্যে শেষ হবে।তিনি আরও বলেন সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলার প্রায় ১০০০ জন প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বোরো হাইব্রীড ধানের বীজ বিতরন করা হয়েছে। আর উফসি জাতের প্রণোদনা হিসাবে ২০০০ জনের মাঝে সার বিতরণ করা হয়।