সরকারবিরোধী চক্রান্তের মামলায় সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা ৪ দিনের রিমান্ডে
- আপডেট সময় : ০৯:০৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার পল্লবী থানায় দায়ের করা সরকারবিরোধী চক্রান্ত, সহিংস উসকানি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কাজী গুলশান আরা (৪৩) এবং অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ (৪৭)। সোমবার (১২ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলমের আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে এই রিমান্ড আদেশ দেন।
এর আগে রোববার গভীর রাতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) রাজধানীর পৃথক দুটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গোয়েন্দা সুত্রে জানা গেছে, মিরপুরের পল্লবী এলাকা থেকে কাজী গুলশান আরাকে এবং বনানী ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষকে আটক করা হয়।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের পরিদর্শক (নি.) শেখ বশির আহমেদ সোমবার আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানান। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশিদ রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরেন, অন্যদিকে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মুনসুর রিপন রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে জামিন আবেদন নাকচ করেন এবং চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আদালতে পেশ করা রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামিরা পল্লবী এলাকার একটি বাড়িতে অবস্থান করে 'Bangladesh Awami League Supporters Alpha # ১’ এবং ‘BBM Transparency’ নামে দুটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে রাষ্ট্রবিরোধী ও সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে প্রচার করছিলেন। এ ছাড়া তারা ‘কালআজকাল.কম’ নামের একটি ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিলেন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করেন, ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ নামক প্ল্যাটফর্মকে কাজে লাগিয়ে আসামিরা সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং অন্যান্য পলাতক শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাষ্ট্রবিরোধী নানা চক্রান্ত চালিয়ে আসছিলেন। পুলিশ জানায়, আসামিদের সঙ্গে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার যোগাযোগের তথ্যও তদন্তে উঠে এসেছে।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে আসামিরা তৎকালীন ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন করেন। পরবর্তীতে এই সংগঠনের ১০১ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটিও গঠন করা হয়েছিল। আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থায়নের অভিযোগও আনা হয়েছে।



























