ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ভারতে পণ্য রপ্তানির বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের ‘আরেকটু ভালো হতে পারত’, ব্যাটিং ধসে আক্ষেপ ওপেনার সাদমানের ইউনেস্কোকে এআই ব্যবহারের কৌশল নির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশের খতিবের বক্তব্যে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি: জ্বালানিমন্ত্রী টুকু সন্দেহের বশে কাউকে বাংলাদেশি বলে তাড়ানো যাবে না: কলকাতা হাইকোর্ট নানা পাটেকারের মৃত্যুতে ‘ইভিল ডেড’ মন্তব্যে অনড় তনুশ্রী দত্ত সিলেট কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতাল পরিদর্শন করলেন বৃটিশ লর্ড ও দুই এমপি জীবনসঙ্গী হিসেবে কেমন পাত্র চান মিমি চক্রবর্তী? এক রাজনৈতিক নেতার ৭০০ অটোরিকশা থাকার তথ্য হাস্যকর: ডিএনসিসি প্রশাসক

ভারতের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের তরুণ মুখ নেহা বোরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কন্যা নেহা বোরা। তাঁর পরিবারের একাংশ বিজেপির সমর্থক হলেও, নেহা আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণী বর্তমানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে নাটক ও পরিবেশনা বিষয়ে পিএইচডি গবেষণারত নেহা ছাত্ররাজনীতিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন।

শিলিগুড়িতে পড়াশোনা শেষে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা নেহার রাজনৈতিক যাত্রার শুরুটা হয়েছিল নাটক থেকে। তিনি মনে করেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মর্যাদা এবং ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করার অধিকার—সবই রাজনীতির অংশ। তাঁর এই বিশ্বাস শিক্ষার বেসরকারীকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিলকিস বানোর বিচার, গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও মানবিক সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাঁকে সোচ্চার করেছে।

২০২৬ সালের জুন–জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আয়োজিত আন্দোলনে নেহার ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি দেয়। শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে ২৩ দিন অনশনে অংশ নিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে রাজনৈতিক ভাষা দেন। আইসা ও ককরোচ জনতা পার্টির সমন্বয়ে পরিচালিত সেই আন্দোলনকে তিনি কোনোভাবেই ‘রাজনীতিহীন’ বলতে নারাজ; বরং একে তিনি তরুণদের ভবিষ্যৎ ও সরকারের জবাবদিহির লড়াই হিসেবে দেখেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনেও নেহা সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সক্রিয়তার কারণে তিনি নানাভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ৭ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের এক বিক্ষোভে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তাঁর গায়ে কালি ছোড়া হয়েছে। বিজেপি-সমর্থিত এক কর্মী তাঁকে ‘দেশবিরোধী’ বলে এই হামলা করেন। নেহা পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই কালি তিনি ‘গর্বের সঙ্গে’ ধারণ করবেন।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করায় তিনি আরও তীব্র তোপের মুখে পড়েন। ১৪ সেপ্টেম্বর গোরখপুরে ‘জেন–জি মহাজুটান’ জনসভায় নেহা তাঁকে ‘গুণ্ডা’ ও ‘দাঙ্গাবাজ’ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ২ অক্টোবর থেকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৩ অক্টোবর তাঁকে আটক করা হয় এবং পরদিন পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে প্রতিবাদ জানান। আইসার অভিযোগ, তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে সংগঠনটির কাছে একাধিক বার্তা ও ভয়েস নোটও আসে, যার প্রমাণসহ ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

নেহার মতে, জেন-জি প্রজন্ম তাদের ভয় কাটিয়ে উঠেছে। তিনি বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী এবং তাঁর সংগঠন আইসা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সঙ্গে যুক্ত। তবে তিনি কেবল বামপন্থার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার অধিকার ও সাম্যের প্রশ্নে সব তরুণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি বাংলার প্রগতিশীল চিন্তাকে রক্ষার ডাক দিয়েছেন।

তাঁর স্পষ্টবাদিতা ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার সাহস তাঁকে ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক আইকনে পরিণত করেছে। যদিও তাঁর সামনে রয়েছে দমন ও হুমকির ঝুঁকি, তবুও নেহা বোরা শিক্ষা, সাম্য ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে নিজের অবস্থানে অবিচল। তাঁর সমর্থকরা তাঁকে আধুনিক ‘ঝাঁসির রানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, নেহা মনে করেন সংহতির ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই ভয় কাটিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের তরুণ মুখ নেহা বোরা

আপডেট সময় : ০৪:৫৯:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কন্যা নেহা বোরা। তাঁর পরিবারের একাংশ বিজেপির সমর্থক হলেও, নেহা আজ নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন সরকারের অন্যতম সমালোচক হিসেবে পরিচিত। ২৯ বছর বয়সী এই তরুণী বর্তমানে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) স্কুল অব আর্টস অ্যান্ড অ্যাসথেটিকসে নাটক ও পরিবেশনা বিষয়ে পিএইচডি গবেষণারত নেহা ছাত্ররাজনীতিকে মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে মনে করেন।

শিলিগুড়িতে পড়াশোনা শেষে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক এবং আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা নেহার রাজনৈতিক যাত্রার শুরুটা হয়েছিল নাটক থেকে। তিনি মনে করেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মর্যাদা এবং ক্ষমতাবানকে প্রশ্ন করার অধিকার—সবই রাজনীতির অংশ। তাঁর এই বিশ্বাস শিক্ষার বেসরকারীকরণ, প্রশ্নপত্র ফাঁস, বিলকিস বানোর বিচার, গাজায় ইসরায়েলের হামলা ও মানবিক সংকটসহ বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তাঁকে সোচ্চার করেছে।

২০২৬ সালের জুন–জুলাই মাসে নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও অনিয়মের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আয়োজিত আন্দোলনে নেহার ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি দেয়। শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে ২৩ দিন অনশনে অংশ নিয়ে তিনি তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভকে রাজনৈতিক ভাষা দেন। আইসা ও ককরোচ জনতা পার্টির সমন্বয়ে পরিচালিত সেই আন্দোলনকে তিনি কোনোভাবেই ‘রাজনীতিহীন’ বলতে নারাজ; বরং একে তিনি তরুণদের ভবিষ্যৎ ও সরকারের জবাবদিহির লড়াই হিসেবে দেখেন।

বর্তমানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনেও নেহা সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই সক্রিয়তার কারণে তিনি নানাভাবে আক্রমণের শিকার হয়েছেন। ৭ আগস্ট ঝাড়খণ্ডের এক বিক্ষোভে নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে তাঁর গায়ে কালি ছোড়া হয়েছে। বিজেপি-সমর্থিত এক কর্মী তাঁকে ‘দেশবিরোধী’ বলে এই হামলা করেন। নেহা পরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই কালি তিনি ‘গর্বের সঙ্গে’ ধারণ করবেন।

উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করায় তিনি আরও তীব্র তোপের মুখে পড়েন। ১৪ সেপ্টেম্বর গোরখপুরে ‘জেন–জি মহাজুটান’ জনসভায় নেহা তাঁকে ‘গুণ্ডা’ ও ‘দাঙ্গাবাজ’ বলে মন্তব্য করেন। এছাড়া ২ অক্টোবর থেকে যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় ৩ অক্টোবর তাঁকে আটক করা হয় এবং পরদিন পুলিশের ব্যারিকেডে উঠে প্রতিবাদ জানান। আইসার অভিযোগ, তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়ে সংগঠনটির কাছে একাধিক বার্তা ও ভয়েস নোটও আসে, যার প্রমাণসহ ১৫ সেপ্টেম্বর উত্তর প্রদেশ পুলিশের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে।

নেহার মতে, জেন-জি প্রজন্ম তাদের ভয় কাটিয়ে উঠেছে। তিনি বামপন্থী আদর্শে বিশ্বাসী এবং তাঁর সংগঠন আইসা সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সঙ্গে যুক্ত। তবে তিনি কেবল বামপন্থার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার অধিকার ও সাম্যের প্রশ্নে সব তরুণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছেন। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে তিনি বাংলার প্রগতিশীল চিন্তাকে রক্ষার ডাক দিয়েছেন।

তাঁর স্পষ্টবাদিতা ও ক্ষমতাকে প্রশ্ন করার সাহস তাঁকে ভারতের তরুণ প্রজন্মের কাছে এক আইকনে পরিণত করেছে। যদিও তাঁর সামনে রয়েছে দমন ও হুমকির ঝুঁকি, তবুও নেহা বোরা শিক্ষা, সাম্য ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে নিজের অবস্থানে অবিচল। তাঁর সমর্থকরা তাঁকে আধুনিক ‘ঝাঁসির রানি’ হিসেবে আখ্যায়িত করলেও, নেহা মনে করেন সংহতির ছোট ছোট কাজের মাধ্যমেই ভয় কাটিয়ে গণতন্ত্রকে রক্ষা করা সম্ভব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo