ভারতে পণ্য রপ্তানির বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের
- আপডেট সময় : ১০:২৫:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিভিন্ন শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার। বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও আমদানি-রপ্তানির বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা দূর করা এবং যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধগুলো পর্যালোচনা ও তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়। ভারতীয় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা দূর করার পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া, এলডিসি উত্তরণের পরও সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া বা সাফটা (SAFTA) চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া শুল্কসুবিধা কীভাবে বহাল রাখা যায়, তা নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা করা হয়েছে।
পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টিও বাংলাদেশ এই সভায় তুলে ধরে। একই সঙ্গে ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে নেপাল ও ভুটানে বাংলাদেশি পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর দাবি জানানো হয়। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার প্রস্তাবও দেয় বাংলাদেশ।
বাণিজ্য কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম, শেড এবং পণ্য পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর বিষয়গুলো অন্যতম। সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া দ্রুত করার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকে তাদের আলোচ্যসূচিতে তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে যে বিধিনিষেধ রয়েছে, তা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়গুলোও ভারতের এজেন্ডায় ছিল। এছাড়া আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, রেল যোগাযোগের উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়। দুই দেশের স্থলবন্দর, কাস্টমস ও সীমান্ত কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে সময় ও ব্যয় কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বৈঠকে।



























