ঢাকা ১০:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাইবার সুরক্ষা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে: অধিকার যমুনা নদীতে নিখোঁজের কয়েক ঘণ্টা পর ১০৩ বছরের বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার ভুয়া করোনা সনদ: গ্রানিত শাকার দুই কোটি টাকা জরিমানা মদনে ইউএনওর বাসভবনের পাশে ময়লার স্তূপ, বিলে অনিয়মের অভিযোগ বোরহানউদ্দিনে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগ জনদাবি পূরণে ৩১ অক্টোবর ১১ দলের লংমার্চ, সফল করার আহ্বান জামায়াতের ভারতে পণ্য রপ্তানির বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের ‘আরেকটু ভালো হতে পারত’, ব্যাটিং ধসে আক্ষেপ ওপেনার সাদমানের ইউনেস্কোকে এআই ব্যবহারের কৌশল নির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশের খতিবের বক্তব্যে উত্তপ্ত বায়তুল মোকাররম, ইসলামপন্থী রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ

সংবিধান সংশোধনে সরকারের পথে আপত্তি জামায়াতের, রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধনের যে পথে এগোচ্ছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মতে, সরকার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের বদলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে জামায়াত এখন সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের নেতাদের মতে, সংবিধান ‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’ দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁদের ভাষ্যমতে, গণভোটে জনগণ বিদ্যমান সংবিধানের কিছু ধারা সংশোধনের জন্য নয়, বরং জুলাই সনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল। সরকার বিশেষ কমিটি গঠন করে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে প্রতিনিধি না দেওয়ার কারণ হলো এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বৈধতা না দেওয়া।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ৬ অক্টোবর জানান, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে, যা রুখতে তারা মাঠের আন্দোলন জোরদার করতে চায়। তবে নেতারা একে আপাতত সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিতে জনমত গড়ে তোলা। দাবি উপেক্ষা করা হলে কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও জামায়াত প্রশ্ন তুলেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ৬ অক্টোবর জানান, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নতুন করে গণভোটের কথা বলছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্রসংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বিএনপি ও তাদের জোটের নির্বাচিত সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ না নেওয়ায় সেই পরিষদ গঠিত হয়নি।

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়, যার সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো এই কমিটিতে প্রতিনিধি দেয়নি। কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। ৬ অক্টোবর তিনি পুনরায় প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ‘গণবিরোধী ও আইনবিরোধী’ পথে এগোচ্ছে। দাবি না মানলে লংমার্চসহ রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সংবিধান সংশোধনে সরকারের পথে আপত্তি জামায়াতের, রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আপডেট সময় : ০২:০৩:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনে করে, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সংবিধান সংশোধনের যে পথে এগোচ্ছে, তা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মতে, সরকার গণভোটের রায় অনুযায়ী সংস্কারের বদলে প্রচলিত পদ্ধতিতে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে জামায়াত এখন সংসদের পাশাপাশি রাজপথে আন্দোলন জোরদার করার পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের নেতাদের মতে, সংবিধান ‘সংশোধন’ ও ‘সংস্কার’ দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই। তাঁদের ভাষ্যমতে, গণভোটে জনগণ বিদ্যমান সংবিধানের কিছু ধারা সংশোধনের জন্য নয়, বরং জুলাই সনদে থাকা সাংবিধানিক সংস্কারের প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদন দিয়েছিল। সরকার বিশেষ কমিটি গঠন করে নিজেদের মতো করে সংবিধান সংশোধনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তাতে প্রতিনিধি না দেওয়ার কারণ হলো এই প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক বৈধতা না দেওয়া।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের ৬ অক্টোবর জানান, সরকার দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কমিটি গঠন করে সংবিধান সংশোধনের চেষ্টা করছে, যা রুখতে তারা মাঠের আন্দোলন জোরদার করতে চায়। তবে নেতারা একে আপাতত সরকার পতনের আন্দোলন হিসেবে দেখছেন না। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই সনদ কার্যকর করা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দাবিতে জনমত গড়ে তোলা। দাবি উপেক্ষা করা হলে কর্মসূচি আরও জোরদার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

নতুন করে গণভোট আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও জামায়াত প্রশ্ন তুলেছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ ৬ অক্টোবর জানান, সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে নতুন করে গণভোটের কথা বলছে, যা জাতির সঙ্গে প্রতারণা। এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ রাষ্ট্রসংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছিল। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কথা থাকলেও বিএনপি ও তাদের জোটের নির্বাচিত সদস্যরা দ্বিতীয় শপথ না নেওয়ায় সেই পরিষদ গঠিত হয়নি।

গত ১৩ জুলাই জাতীয় সংসদে ১২ সদস্যের ‘সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি’ গঠন করা হয়, যার সভাপতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো এই কমিটিতে প্রতিনিধি দেয়নি। কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ২০ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতীয় সংসদ সংবিধানসৃষ্ট প্রতিষ্ঠান, কিন্তু সংবিধানের মৌলিক পুনর্বিন্যাসের প্রশ্নে জনগণই চূড়ান্ত সার্বভৌম ক্ষমতার উৎস। ৬ অক্টোবর তিনি পুনরায় প্রথম আলোকে বলেন, সরকার ‘গণবিরোধী ও আইনবিরোধী’ পথে এগোচ্ছে। দাবি না মানলে লংমার্চসহ রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo