সাইবার সুরক্ষা আইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করবে: অধিকার
- আপডেট সময় : ১০:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

মানবাধিকার সংগঠন 'অধিকার' তাদের প্রতিষ্ঠার ৩২ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন প্রণয়নের উদ্যোগ মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে। বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করায় মতপ্রকাশকারীদের সন্ত্রাস দমন আইনে অভিযুক্ত করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। শুক্রবার মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ৩২ বছর পূর্তিতে অধিকার টিমের পক্ষ থেকে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে।
অধিকার তাদের বিবৃতিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, এই আইনগুলোর মাধ্যমে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করার ক্ষমতা রহিত করা হয়েছে। এই সরকারের আমলেই মিরাজ শেখ নামের এক জেলে গুমের শিকার হয়েছেন, যার সন্ধান এখনও মেলেনি। এছাড়া, র্যাব-এর নাম পরিবর্তন করে একই কাঠামো বহাল রেখে এসআরবি গঠন করা হয়েছে, যা আগের মতোই মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে আইনগুলো দ্রুত সংশোধনের দাবি জানিয়েছে অধিকার।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে সরকারের বহু কর্মকাণ্ড গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠেছে। এর ফলে দেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই বিএনপি সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায় এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো সংসদে পাস না করায় সেগুলো বাতিল হয়ে যায়।
১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর এরশাদের অবৈধ শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে সংগঠনটি। দীর্ঘ এই পথচলায় বিভিন্ন সরকারের আমলে অধিকার এবং এর সঙ্গে যুক্ত মানবাধিকার কর্মীরা নানাভাবে হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে তাদের ওপর নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছিল।
৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিবৃতিতে বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হওয়া মানুষদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে অধিকার বলেছে, সুশাসন ও মানবাধিকার ছাড়া কোনো দেশ এগিয়ে যেতে পারে না। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তাদের আপসহীন সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে গত ৩২ বছর ধরে পাশে থাকা শুভানুধ্যায়ী, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও স্থানীয় নেটয়ার্কের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।
























