বোরহানউদ্দিনে সার ডিলার নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক, অনিয়মের অভিযোগ
- আপডেট সময় : ১০:৩৭:২৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার দেউলা ইউনিয়নে নতুন সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার এলাকার ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’-এর মালিক লোকমান হোসেনকে ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর এই বিতর্ক শুরু হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, লোকমান হোসেন ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা বা ভোটার নন। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক সার ডিলারশিপ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে কৃষি মন্ত্রণালয় এই নিয়োগে কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করেছে।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দেউলা ইউনিয়নের তালুকদার হাট বাজার এলাকায় সরেজমিনে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা ও কৃষকেরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও কৃষক আব্দুর রব জানান, ভাই ভাই ট্রেডার্সের মালিক লোকমান হোসেন এই ইউনিয়নের বাসিন্দা নন। স্থানীয়দের অগ্রাধিকার না দিলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। লিটন নামের অপর এক কৃষক অভিযোগ করেন, ওই ডিলারের পরিবারে একাধিক ডিলারশিপ রয়েছে এবং সম্পূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে তিনি সাংবাদিকদের কাছে একটি কল রেকর্ডও সরবরাহ করেন।
এ বিষয়ে দেউলা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামরুন্নেছা বলেন, লোকমান হোসেন এই এলাকার ভোটার বা বাসিন্দা নন। কীভাবে তিনি এখানে নতুন ডিলারশিপ পেলেন, তা খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই ও তদন্তের দাবি জানান তিনি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি কলটি কেটে দেন, যার ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ কুমার মণ্ডল জানান, ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী লোকমান হোসেন দেউলা ইউনিয়নের ভোটার বা বাসিন্দা নন—বিষয়টি তার জানা ছিল। তিনি বলেন, “যাচাই-বাছাই কমিটির দায়িত্বে থাকা সদস্যদের আমি বিষয়টি সে সময় সতর্ক করেছিলাম। তবে তারা সে বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।” অন্যদিকে, জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং ভোলার জেলা প্রশাসক ড. শামীম রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে সব অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম খান জানান, ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের অনিয়ম বা রাজনৈতিক সুপারিশ বিবেচনা করা হয়নি। নির্ধারিত নীতিমালা মেনেই তালিকা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর কৃষি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষরিত এক আদেশে সারাদেশে ইউনিয়নভিত্তিক নতুন সার ডিলার নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়। স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, সঠিক তদারকি ও স্বচ্ছতা বজায় রাখলে সার সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।



























