নানা পাটেকরের অভিনয়জীবনের সেরা ১০ সিনেমা, যা না দেখলেই নয়
- আপডেট সময় : ১১:০৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

প্রায় পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর কখনো হয়েছেন নির্মম খলনায়ক, কখনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর, কখনো শান্ত কিন্তু কঠোর পুলিশ কর্মকর্তা, আবার কখনো নিখাদ কমেডিয়ান। নিজের সংলাপ বলার স্বতন্ত্র শৈলী, চোখের তীক্ষ্ণ ভাষা এবং চরিত্রের ভেতরের মানসিক দ্বন্দ্বকে পর্দায় জীবন্ত করে তোলার এক অসাধারণ ক্ষমতা ছিল তাঁর। সম্প্রতি এই দাপুটে অভিনেতার প্রয়াণের পর তাঁর অভিনয়জীবনের সেরা ১০টি সিনেমা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে, যা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য অবশ্যই শিক্ষণীয় ও উপভোগ্য।
নানা পাটেকরের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হয় বিধু বিনোদ চোপড়া পরিচালিত অপরাধভিত্তিক সিনেমা ‘পারিন্দা’কে। এই ছবিতে তিনি ‘আন্না’ নামের এক ভয়ংকর গ্যাংস্টারের চরিত্রে অভিনয় করেন। চরিত্রটি কেবল নির্মম ছিল না, বরং তার মধ্যে রাগ, হতাশা ও অস্থিরতার এক জটিল মিশ্রণ ছিল। এই ছবিতে দুর্দান্ত অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
অভিনেতা হিসেবে নানা পাটেকরের ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও আবেগের চরম বহিঃপ্রকাশ দেখা গেছে ‘ক্রান্তিবীর’ সিনেমায়। সামাজিক অবিচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা প্রতাপ নারায়ণ তিলক চরিত্রের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সেরা অভিনেতার সম্মান পান এবং একই সঙ্গে ফিল্মফেয়ার পুরস্কারও লাভ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর এই সিনেমার একটি বিখ্যাত বক্তৃতার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া ১৯৯৭ সালে ‘অগ্নিসাক্ষী’ সিনেমায় অনবদ্য অভিনয়ের জন্য তিনি ক্যারিয়ারের তৃতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (সেরা পার্শ্ব অভিনেতা) ঘরে তোলেন।
জীবনের শেষভাগে এসে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘নটসম্রাট’-এ এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছান নানা। অবসর নেওয়া কিংবদন্তি মঞ্চ অভিনেতা গণপতরাও বেলওয়ালকরের চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দেখিয়েছেন যে বয়স বাড়লেও তাঁর অভিনয়ের ধার কমেনি। মঞ্চের আলো থেকে অবসরজীবনের একাকীত্ব ও উত্থান-পতনের এই আবেগঘন গল্পে অভিনয়ের জন্য তিনি মারাঠি ফিল্মফেয়ারে সেরা অভিনেতার পুরস্কার পান। অন্যদিকে, মীরা নায়ারের অস্কার মনোনীত সিনেমা ‘সালাম বম্বে!’ তাঁকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পরিচিত করে তোলে। মূলধারার তারকা হওয়ার আগেই চরিত্রনির্ভর অভিনয় দিয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করার এক বড় উদাহরণ ছিল এই ছবি।
পুলিশি অপরাধজগতের গল্প নিয়ে তৈরি ‘আব তক ছাপ্পান’ সিনেমায় মুম্বাইয়ের এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট সাধু আগাশে চরিত্রে অভিনয় করেন নানা। কোনো অতিরিক্ত নাটকীয়তা বা সংলাপ ছাড়াই ঠান্ডা মাথার এক পুলিশ কর্মকর্তার ক্লান্তি ও কঠোরতা তিনি ফুটিয়ে তুলেছিলেন চোখের ভাষায়। আবার প্রকাশ ঝার রাজনৈতিক-অপরাধভিত্তিক সিনেমা ‘অপহরণ’-এ তেহেলকা যাদব চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি ফিল্মফেয়ারে সেরা খলনায়কের পুরস্কার পান। এর আগে ‘অঙ্গার’ সিনেমার জন্যও একই বিভাগে পুরস্কৃত হয়েছিলেন তিনি।
নানা পাটেকর যে কেবল গম্ভীর বা রাগী চরিত্রেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না, তার বড় প্রমাণ ‘ওয়েলকাম’ সিনেমাটি। গ্যাংস্টার উদয় শেঠির চরিত্রে তাঁর কমেডি টাইমিং দর্শকদের দারুণভাবে চমকে দেয়। অনিল কাপুরের ‘মজনু ভাই’ চরিত্রের সঙ্গে তাঁর রসায়ন সিনেমাটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়। সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারার আরেকটি কাজ ছিল সঞ্জয় লীলা বানসালির ‘খামোশি: দ্য মিউজিক্যাল’। শ্রবণ ও বাক্প্রতিবন্ধী দম্পতির পারিবারিক টানাপোড়েনের এই গল্পে অত্যন্ত সংযত ও গভীর আবেগপূর্ণ অভিনয় করেছিলেন তিনি। সবশেষে প্রকাশ ঝার তারকাবহুল রাজনৈতিক সিনেমা ‘রাজনীতি’র কথা বলতেই হয়। অজয় দেবগন ও রণবীর কাপুরের মতো তারকাদের ভিড়ে নানা এখানে এমন এক অভিজ্ঞ রাজনৈতিক চরিত্রে অভিনয় করেন, যেখানে চিৎকার চেঁচামেচির চেয়ে নীরব কৌশল ও ক্ষমতার হিসাব-নিকাশই ছিল প্রধান। জটিল এই চরিত্রে তাঁর অভিনয় আবারও প্রমাণ করে যে চরিত্র যত কঠিন, নানা পাটেকরের অভিনয়ের ধার ততটাই প্রখর।





























