এক বাবার ৬ সন্তানই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, স্বপ্নপূরণের অনন্য দৃষ্টান্ত
- আপডেট সময় : ১১:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ফাজিল মিয়ার হাট এলাকার ‘ছায়েদ মাস্টার বাড়ি’ এখন সাফল্যের এক অনন্য প্রতীক। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছায়েদ উল্লাহ এবং তার স্ত্রী শামীমা বেগমের কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগের ফসল হিসেবে তাদের ছয় সন্তানই দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার গৌরব অর্জন করেছেন। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দক্ষিণ ওয়াপদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ বছর শিক্ষকতা করা ছায়েদ উল্লাহ তার সন্তানদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে একসময় নিজের জমিজমাও বিক্রি করেছিলেন। সেই ত্যাগের পথ ধরেই আজ তাদের পরিবারে সাফল্যের এই নতুন মাইলফলক যুক্ত হলো।
পরিবারটির এই সাফল্যের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে, যখন বড় ছেলে শামসুল আলম দিপু রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) পরিচালক হিসেবে কর্মরত আছেন। দ্বিতীয় ছেলে শাহজাহান সিরাজ আল মামুন ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে লোকপ্রশাসন বিভাগে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে কর্মসংস্থান ব্যাংকের হাজীগঞ্জ শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় ছেলে আশরাফুল ইসলাম শহীদ ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক শাখায় সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।
পরিবারের চতুর্থ ছেলে শরীফুল ইসলাম বিজয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পরিবারের একমাত্র মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগে অধ্যয়নরত। সর্বশেষ ছোট ছেলে আরাফাত হোসেন ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ‘এ’ ইউনিটে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে পরিবারের সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখেছেন।
২০২২ সালে এই পরিবারের পাঁচ সন্তানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার খবরটি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছিল। তিন বছর পর ছোট ছেলের ভর্তির মধ্য দিয়ে এই পরিবারটি এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও এলাকাবাসীরা ছায়েদ উল্লাহর এই অর্জনকে নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি রূপকথার মতো অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন। কমলনগরের এক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সানা উল্লাহ সানু বলেন, এটি কেবল ছয় সন্তানের ভর্তির গল্প নয়, বরং শিক্ষাকে সামাজিক বিনিয়োগ হিসেবে দেখার এক প্রোজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. আরিফ হোসেনের মতে, সততা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা যে হার মানে, ছায়েদ উল্লাহর পরিবার তার বাস্তব প্রমাণ।





























