ঢাকা ০৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পানির হিস্যায় একচুলও ছাড় দেবে না বাংলাদেশ: নাহিদ ইসলাম নীলফামারীতে আশ্বিনের বৃষ্টি: আমন চাষিদের স্বস্তি, দুশ্চিন্তায় আলু ও সবজি চাষিরা মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে চিকিৎসা ও নিরাপত্তা সংকট, ঝুঁকিতে হাজারো শ্রমিক ঋণের ভারে জর্জরিত খুলনার সুপার জুট মিল ও সুপারেক্স লেদার নোয়াখালীতে কিশোর গ্যাং দমনে ৫ দিনের অভিযানে আটক প্রায় ৫০০ ১৫ বছরের চুক্তিতে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড বরিশালে মাদকবিরোধী অভিযানে এএসআইসহ চারজন আটক ফোনে ‘নামতেছি’ বলে নিখোঁজ কাজল, স্বামীও আত্মগোপনে জন্মদিনে শুটিংয়ে ব্যস্ত অভিনেত্রী হিমি সব নাগরিককে সমান সুযোগ দিতে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

মব সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দখলদারত্ব কি এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হচ্ছে?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিএনপি সরকারের ক্ষমতার আট মাসও এখনো পার হয়নি। এর মধ্যেই রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডার মতো একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসিবি এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের বিশাল স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন কিছু সহিংস ঘটনা সামনে এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হাতে সাংবাদিক পেটানো কিংবা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে স্থানীয় কৃষক দল নেতার নেতৃত্বে মব করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে নগর ভবনে অবস্থান করা এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েও পুলিশকে ফিরে আসতে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেয়র নিজেই সেই সন্ত্রাসীকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, যদিও মেয়রের দাবি ছিল সেই ব্যক্তি তখন নগর ভবনে ছিলেন না।

মিরপুরের ঘটনার পর দলীয় কিছু নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি একজন নারী সংসদ সদস্যকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হিমশিম খেলেও সরকারের এই কঠোর অবস্থান প্রশংসিত হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, সরকার এর মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা দিল এবং উদাহরণ তৈরি করল। কিন্তু বাস্তবে দেশজুড়ে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও সরকার বেশ জেরবার। ডিএমপির চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকায় যখন বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাম শীর্ষে থাকে, তখন বিষয়টি আর কেবল মুখের কথা থাকে না, এটি একটি প্রমাণিত সত্যে পরিণত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মব সহিংসতার যে ধারাবাহিকতা ছিল, তা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহত রয়েছে। পিরকে পিটিয়ে হত্যা, গানের অনুষ্ঠান বা কনসার্ট বন্ধ করা এবং নৌকাবাইচ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মব বা হুমকির ঘটনাগুলো বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই যেন এবার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এগিয়ে এলেন বিএনপি নেতারা।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে মবের এক নতুন রূপ দেখা গেছে। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলের প্রেক্ষাপটে সে সময় অনেক মবের ঘটনা ঘটলেও তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য ছিল না। তাছাড়া ‘ফ্যাসিবাদীর দোসর’ ট্যাগ দিয়ে অনেক মবের ঘটনা চরম সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। ‘তৌহিদি জনতা’ বর্গের মবের ঘটনাগুলোর কারণে ডানপন্থী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারও তোপের মুখে ছিল এবং সেই সমালোচনা এখনো জারি আছে। অনেকে আশা করেছিলেন নির্বাচিত সরকার এলে মব সংস্কৃতির অবসান ঘটবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মবের দিন শেষ। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার সম্পূর্ণ উল্টোটি।

মব কোনো প্রেসার গ্রুপ নয়, এটি আসলে নির্জলা সন্ত্রাস। পরিকল্পিত পলিটিক্যাল মব বা রাজনৈতিক মবের ধারণা নিয়ে সমাজতাত্ত্বিকদের মধ্যে নানা আলোচনা আছে। কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী যখন জন-অসন্তোষকে উসকে দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, তখন এ ধরনের মব তৈরি হয়। সমাজবিজ্ঞানী চার্লস টিলি তাঁর ‘কালেকটিভ ভায়োলেন্স’ গবেষণায় দেখিয়েছেন কীভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা মূলত রাজনৈতিক কৌশল ও সম্পদের ভাগাভাগির লড়াইয়ে পরিণত হয়। আবার সমাজবিজ্ঞানী হ্যানা আরেন্টের মতে, পলিটিক্যাল মব তৈরির পূর্বশর্ত হলো প্রতিপক্ষকে ‘শত্রু’ বা ‘অমানবিক’ হিসেবে চিত্রায়িত করা।

এই তত্ত্বের বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ক্ষেত্রে। সেখানে তাঁকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর অফিসের কম্পিউটারের সিপিইউ খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও বিদ্যুতের সংযোগ নষ্ট করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ ও কেনাকাটায় ঠিকাদারির কাজ না পেয়ে ‘আপামর ছাত্র-জনতার’ নামে স্থানীয় কৃষক দল নেতার নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাকে মবের রূপ দিতে উপাচার্যকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দেওয়া হয়। এভাবে জোরপূর্বক সই নিলেই পদত্যাগ হয় না, তবে এই অনৈতিক চর্চা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ঠিকাদারির দখলদারত্ব বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক নেতাদের ঠিকাদারি নিয়ে প্রভাব বিস্তারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে আগে উপাচার্যের সঙ্গে বিরোধ হলে দলীয় শিক্ষক বা ছাত্রনেতাদের ব্যবহার করা হতো, কিন্তু এবার সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। অনেকে রসিকতা করে প্রশ্ন তুলছেন, দল ক্ষমতায় আসার পর বেশি দিন তো হয়নি, তাহলে বিএনপি নেতাদের এত কিসের তাড়া? ভিডিও ফুটেজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের স্পষ্ট দেখা গেলেও উভয় ঘটনায় মামলা করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে। অপরাধীদের নাম, পরিচয় ও পদবি যখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, তখনো তাদের ‘অজ্ঞাতনামা’ রাখা এক অদ্ভুত বিষয়। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও, মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় না আনলে এই মব সংস্কৃতি সমাজে আরও বেশি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

ই-মেইল: rafsangalib1990@gmail.com মতামত লেখকের নিজস্ব

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

মব সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক দখলদারত্ব কি এখন স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত হচ্ছে?

আপডেট সময় : ০২:০২:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপি সরকারের ক্ষমতার আট মাসও এখনো পার হয়নি। এর মধ্যেই রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডার মতো একটি স্বনামধন্য হাসপাতাল গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসিবি এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের বিশাল স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন কিছু সহিংস ঘটনা সামনে এসেছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের হাতে সাংবাদিক পেটানো কিংবা রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে স্থানীয় কৃষক দল নেতার নেতৃত্বে মব করে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রামে নগর ভবনে অবস্থান করা এক শীর্ষ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করতে গিয়েও পুলিশকে ফিরে আসতে হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, মেয়র নিজেই সেই সন্ত্রাসীকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন, যদিও মেয়রের দাবি ছিল সেই ব্যক্তি তখন নগর ভবনে ছিলেন না।

মিরপুরের ঘটনার পর দলীয় কিছু নেতা-কর্মীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকি একজন নারী সংসদ সদস্যকেও পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে হিমশিম খেলেও সরকারের এই কঠোর অবস্থান প্রশংসিত হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, সরকার এর মাধ্যমে একটি কঠোর বার্তা দিল এবং উদাহরণ তৈরি করল। কিন্তু বাস্তবে দেশজুড়ে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

বর্তমানে চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি ও সরকার বেশ জেরবার। ডিএমপির চাঁদাবাজ ও দখলদারদের তালিকায় যখন বিএনপি নেতা-কর্মীদের নাম শীর্ষে থাকে, তখন বিষয়টি আর কেবল মুখের কথা থাকে না, এটি একটি প্রমাণিত সত্যে পরিণত হয়। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মব সহিংসতার যে ধারাবাহিকতা ছিল, তা বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরও অব্যাহত রয়েছে। পিরকে পিটিয়ে হত্যা, গানের অনুষ্ঠান বা কনসার্ট বন্ধ করা এবং নৌকাবাইচ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় মব বা হুমকির ঘটনাগুলো বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই যেন এবার রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে এগিয়ে এলেন বিএনপি নেতারা।

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর ভেঙে পড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে মবের এক নতুন রূপ দেখা গেছে। বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলের প্রেক্ষাপটে সে সময় অনেক মবের ঘটনা ঘটলেও তা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য ছিল না। তাছাড়া ‘ফ্যাসিবাদীর দোসর’ ট্যাগ দিয়ে অনেক মবের ঘটনা চরম সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। ‘তৌহিদি জনতা’ বর্গের মবের ঘটনাগুলোর কারণে ডানপন্থী শক্তিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারও তোপের মুখে ছিল এবং সেই সমালোচনা এখনো জারি আছে। অনেকে আশা করেছিলেন নির্বাচিত সরকার এলে মব সংস্কৃতির অবসান ঘটবে। দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছিলেন যে মবের দিন শেষ। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে তার সম্পূর্ণ উল্টোটি।

মব কোনো প্রেসার গ্রুপ নয়, এটি আসলে নির্জলা সন্ত্রাস। পরিকল্পিত পলিটিক্যাল মব বা রাজনৈতিক মবের ধারণা নিয়ে সমাজতাত্ত্বিকদের মধ্যে নানা আলোচনা আছে। কোনো রাজনৈতিক গোষ্ঠী যখন জন-অসন্তোষকে উসকে দিয়ে নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিল করতে চায়, তখন এ ধরনের মব তৈরি হয়। সমাজবিজ্ঞানী চার্লস টিলি তাঁর ‘কালেকটিভ ভায়োলেন্স’ গবেষণায় দেখিয়েছেন কীভাবে রাজনৈতিক সহিংসতা মূলত রাজনৈতিক কৌশল ও সম্পদের ভাগাভাগির লড়াইয়ে পরিণত হয়। আবার সমাজবিজ্ঞানী হ্যানা আরেন্টের মতে, পলিটিক্যাল মব তৈরির পূর্বশর্ত হলো প্রতিপক্ষকে ‘শত্রু’ বা ‘অমানবিক’ হিসেবে চিত্রায়িত করা।

এই তত্ত্বের বাস্তব প্রতিফলন দেখা গেছে রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির ক্ষেত্রে। সেখানে তাঁকে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে সই করিয়ে কার্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়। শুধু তাই নয়, তাঁর অফিসের কম্পিউটারের সিপিইউ খুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সিসিটিভি ক্যামেরা, ওয়াই-ফাই ও বিদ্যুতের সংযোগ নষ্ট করা হয়েছে। রেজিস্ট্রার, ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সহকারী রেজিস্ট্রারসহ বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কাজ ও কেনাকাটায় ঠিকাদারির কাজ না পেয়ে ‘আপামর ছাত্র-জনতার’ নামে স্থানীয় কৃষক দল নেতার নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলাকে মবের রূপ দিতে উপাচার্যকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দেওয়া হয়। এভাবে জোরপূর্বক সই নিলেই পদত্যাগ হয় না, তবে এই অনৈতিক চর্চা অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও ঠিকাদারির দখলদারত্ব বাড়িয়ে দেবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক নেতাদের ঠিকাদারি নিয়ে প্রভাব বিস্তারের ঘটনা নতুন কিছু নয়। তবে আগে উপাচার্যের সঙ্গে বিরোধ হলে দলীয় শিক্ষক বা ছাত্রনেতাদের ব্যবহার করা হতো, কিন্তু এবার সরাসরি অ্যাকশন নেওয়া হয়েছে। অনেকে রসিকতা করে প্রশ্ন তুলছেন, দল ক্ষমতায় আসার পর বেশি দিন তো হয়নি, তাহলে বিএনপি নেতাদের এত কিসের তাড়া? ভিডিও ফুটেজে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় জড়িতদের স্পষ্ট দেখা গেলেও উভয় ঘটনায় মামলা করা হয়েছে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে। অপরাধীদের নাম, পরিচয় ও পদবি যখন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে, তখনো তাদের ‘অজ্ঞাতনামা’ রাখা এক অদ্ভুত বিষয়। মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় কয়েকজন বিএনপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলেও, মূল হোতাসহ জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় না আনলে এই মব সংস্কৃতি সমাজে আরও বেশি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।

ই-মেইল: rafsangalib1990@gmail.com মতামত লেখকের নিজস্ব

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo