গুণগত শিক্ষার বদলে পাসের রাজনীতি হয়েছে: রিজভী
- আপডেট সময় : ০৩:১৭:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নৈতিক ভিত্তিকে চরমভাবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। বৃহস্পতিবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত এক শিক্ষক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজভী অভিযোগ করে বলেন, তৎকালীন সময়ে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পরীক্ষায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ পাসের হার দেখানোর রাজনীতি করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার খাতায় কিছু না লিখলেও তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার জন্য শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের ওপর ওপর মহল থেকে চাপ ও ধমক দেওয়া হতো।
বিএনপির এই নেতা বলেন, একটি জাতির মেরুদণ্ড দুর্বল হয়ে গেলে পুরো শরীর যেমন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়ে, তেমনি শিক্ষা খাত ধ্বংস হলে জাতিও পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়। বিগত সময়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত রাজনীতিকরণের ফলে শিক্ষার মান নিচে নেমে গেছে। বইয়ের পাতায় ব্যক্তির গুণকীর্তন ও ছবি প্রকাশকে গুরুত্ব দেওয়া হলেও নৈতিক শিক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত ছিল, যা শিক্ষার্থীদের মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ গঠনের প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
শিক্ষকদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, নিজেদের ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলনের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও শিক্ষক সমাজকে পালন করতে হবে। তিনি যুক্তরাজ্যের একটি ঐতিহাসিক ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, কেবল দাবি-দাওয়া আদায় নয়, জ্ঞানভিত্তিক ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী প্রজন্ম গড়ে তোলাই জাতির অগ্রগতির মূল চাবিকাঠি।
বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দল সবসময় প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখে। শিক্ষক সমাজের ন্যায্য পাওনা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষার মান উন্নয়নেও বিএনপি গুরুত্ব দেয়।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সভাপতি অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, বিএনপির স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সফু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন এবং শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুকিম উদ্দীন মাহমুদ প্রমুখ।





























