সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে পাঠাতে ৩৮০ কোটি টাকার প্রকল্প
- আপডেট সময় : ১২:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানির পথ সুগম করতে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশে একটি সর্বাধুনিক 'প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ' নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেট অঞ্চলের শিম, নাগা মরিচ, ফরাস, কচুমুখী, জারা লেবু ও সাতকড়াসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্য সরাসরি ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে পাঠানোর বড় সুযোগ তৈরি হবে।
দীর্ঘদিন ধরে সিলেটের কৃষিপণ্যের একটি বড় বাজার দেশের বাইরে থাকলেও যথাযথ সংরক্ষণ, মান যাচাই এবং আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং সুবিধার অভাবে এই সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছিল না। এই সংকট দূর করতে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ওসমানী বিমানবন্দরের নিকটবর্তী বড়শালা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর খাসজমিতে এই আধুনিক কমপ্লেক্সটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এই উদ্যোগের বিষয়ে জানান, বিমানবন্দরের পাশে বড়শালা এলাকায় খাসজমিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইতিমধ্যেই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেখানে এই প্রকল্পের জন্য জায়গা বরাদ্দ দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সমস্যা নেই।
কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের উপপরিচালক ও প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট কমিটির আহ্বায়ক জুলিয়া যেসমিন মিলি বলেন, অংশীজনদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার পর খসড়া ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বড়শালা এলাকায় প্রায় পাঁচ একর জায়গায় এই কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এই কমপ্লেক্সে এক হাজার মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার কোল্ড স্টোরেজ, গ্রেডিং ও প্যাকিং সুবিধা, ১০টি ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সম্মেলনকক্ষ, অফিস ভবন এবং বিদেশি ক্রেতাদের থাকার জন্য গেস্ট হাউস থাকবে। এছাড়া পণ্য পরিবহন, লোডিং-আনলোডিং, মান নিয়ন্ত্রণ ও সনদ দেওয়ার ব্যবস্থার পাশাপাশি সিলেটের হাওরের মাছ রপ্তানির জন্য সার্টিফিকেশন সুবিধা ও একটি সেল সেন্টার যুক্ত করার প্রস্তাবও খসড়ায় রাখা হয়েছে。
সিলেট থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানির দীর্ঘদিনের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে এর আগে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হয়েছিল। গত বছরের ২৭ এপ্রিল সেখান থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইট চলাচল আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলেও প্যাকিং হাউস ও কোল্ড স্টোরেজ না থাকায় স্থানীয় কৃষিপণ্য রপ্তানিতে কোনো কার্যকর সুবিধা পাওয়া যাচ্ছিল না। এ কারণে স্থানীয় রপ্তানিকারক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় একটি প্যাকিং হাউস নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন।
এ বিষয়ে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও গবেষক ড. ফজলে এলাহী মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, এই সুবিধা নিশ্চিত হলে রপ্তানিকারক ও আমদানিকারকেরা সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনে যেতে পারবেন। এতে স্থানীয় কৃষকদের জন্য ফসল উৎপাদন ও বিক্রির একটি স্থায়ী বাজার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ফালাহ উদ্দিন আলী আহমদ মনে করেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণই যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে আমরা পুরোপুরি অবগত নই, তবে এটি নিঃসন্দেহে একটি ভালো উদ্যোগ। তবে এখানে ওয়্যারহাউস নির্মাণের পাশাপাশি খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য একজন যোগ্য কর্মকর্তা নিয়োগ দিতে হবে এবং তার সার্টিফিকেট দেওয়ার ক্ষমতাও থাকতে হবে। অন্যথায় এই প্রকল্প থেকে প্রত্যাশিত সুফল পাওয়া যাবে না।


























