এমপি মালিকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে ফের লাইভে ইউপি চেয়ারম্যান ওলিদ
- আপডেট সময় : ১০:৫৪:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের সিলামে রাসেল আহমদ শাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমএ মালিককে জড়িয়ে আগে দেওয়া বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ ওলিদুর রহমান। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে লাইভে এসে তিনি তার পূর্বের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচারে এমপির সহযোগিতা কামনা করেন। এর আগে, ভাতিজা খুনের পর এক লাইভ বক্তব্যে তিনি এই বিরোধে হস্তক্ষেপ করার জন্য স্থানীয় এমপি এমএ মালিক ও লন্ডন বিএনপি নেতা আবেদ রাজাকে দায়ী করেছিলেন।
সিলামে শেখ ও শাহ বংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের পুরনো দ্বন্দ্বের মূলে রয়েছে শাহ তৈয়র ছয়লানী (রহ.) ওয়াকফ এস্টেটের বিশাল সম্পত্তি এবং মাজারের খাদেম হওয়া নিয়ে বিরোধ। সম্প্রতি এই সম্পত্তি নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিলে ওয়াকফ এস্টেট প্রশাসন উভয়পক্ষের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে দেয়, যার সভাপতি করা হয় এমপি এমএ মালিককে। তবে এমপির ঘনিষ্ঠজনদের দাবি, তিনি এই কমিটির বিষয়ে অবগত ছিলেন না এবং লন্ডন বিএনপি নেতা আবেদ রাজাই এমপির নাম জড়িয়েছেন। গত ২১শে আগস্ট এই ভূমি দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও পাল্টাপাল্টি মামলা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার মানুষের হস্তক্ষেপে সমঝোতা বৈঠক হলেও গত ২রা অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে পুনরায় উত্তেজনা তৈরি হয়।
সেই উত্তেজনার জেরে ওই দিনই শেখ গোষ্ঠীর হামলায় স্থানীয় সিলাম বাজারে খুন হন সিলাম ইউপি চেয়ারম্যান ও আওয়ামী ঘরানার রাজনীতিবিদ শাহ ওলিদুর রহমানের ভাতিজা রাসেল আহমদ শাহ। ভাতিজার মৃত্যুর পর শোকাহত অবস্থায় ওলিদুর রহমান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভে এসে এমপি এমএ মালিক এবং বিএনপি নেতা আবেদ রাজাকে দায়ী করেন। তবে এ নিয়ে এমপি বা বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ঘটনার চার দিন পর গত সোমবার এমপির স্ত্রী ও সন্তান নিহত রাসেলের বাড়িতে যান। এরপরই চেয়ারম্যান ওলিদুর রহমান পুনরায় লাইভে এসে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, এমপি মালিক এই বিরোধের বিষয়ে অবগত ছিলেন না, আবেদ রাজাই তাকে জড়িয়েছেন।
এদিকে গতকাল সন্ধ্যায় সৌদি আরবের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার আগে সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিক 'মানবজমিন'কে জানান, সাধারণত বিরোধ দমাতে ওয়াকফ এস্টেট এমপি বা সরকারি কর্মকর্তাদের সভাপতি করে থাকে, তাকেও সেভাবেই করা হয়েছিল। তবে এই বিরোধ বা সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি কিছুই জানতেন না। তিনি বলেন, ওলিদ প্রথমে আবেগের বশে বক্তব্য দিলেও পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এমপি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কোনো অন্যায়কে প্রশ্রয় দেবেন না এবং সিলামে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবেন।
অন্যদিকে, রাসেল আহমদ শাহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২২ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা মোছাম্মৎ রাজনা বেগম। ঘটনার দুই দিন পর দায়ের করা এই মামলায় শেখ বংশের মুরব্বি ফজলু মিয়াকে প্রধান এবং লন্ডন বিএনপি নেতা আবেদ রাজাকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়েছে। তবে লন্ডন থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে আবেদ রাজা জানান, তিনি গত ২৬শে আগস্টই লন্ডনে চলে গেছেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে কিছুই জানেন না। নিজের দাবির সপক্ষে তিনি পাসপোর্টও প্রদর্শন করেন। মামলায় অন্য আসামিরা হলেন— ইয়াসিন আহমদ ফাহিম, আব্দুস সামাদ, রনি, তানিম আহমদ, সুমন আলী, শহীদ আলী, কামরান, মাহবুব, জুবের আহমদ জুবেল, রাফি, সালমান, আহমাদুর রহমান সাদেক, মাসুম, মুহিন, রাজু মিয়া, মোজাহির আলী, আলী রুবেল, গুল্লি সুয়েব, সিরাজুল ইসলাম ও উজ্জ্বল মিয়া।


























