গৌরীপুরে ভয়াবহ আগুনে পুড়ল শতবর্ষী ঐতিহাসিক ‘ঝলমল সিনেমা হল’
- আপডেট সময় : ১০:১৬:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে জমিদার আমলের নাট্যচর্চা ও সিনেমার রঙিন পর্দার সাক্ষী শতবর্ষী ঐতিহাসিক ‘ঝলমল সিনেমা হল’ ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বন্ধ থাকা এই সিনেমা হল ভবনটি বিভিন্ন গুদাম ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। আগুনে ভবনের ভেতরে থাকা ফার্নিচার কারখানা, এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম, লাইটিং ও ডেকোরেটরের মালামাল এবং সামনে অবস্থিত ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয় পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা লাখ থেকে কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন।
অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের ধারণা, গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তানভীর এলপিজি স্টোরের মালিক তানভীর আহমেদ জানান, গত তিন বছর ধরে হলের একটি অংশ ভাড়া নিয়ে তিনি গ্যাস সিলিন্ডারের গুদাম হিসেবে ব্যবহার করছিলেন। আগুন লাগার আগের রাতেই সেখানে ২৫০টি গ্যাসভর্তি সিলিন্ডারের নতুন একটি চালান এসেছিল। আগুনে তার গুদামের সব সিলিন্ডার ও মালামাল পুড়ে প্রায় ৩৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ভবনটির ভেতরে থাকা ফার্নিচার কারখানার মালিক তাজউদ্দীন ভূট্টো জানান, আগুনে তার কারখানায় থাকা কাঠ, নির্মাণাধীন আসবাবপত্র ও বিভিন্ন মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। এতে তার এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে, লাইটিং ডেকোরেটর ব্যবসায়ী বকুল ইসলাম জানান, আগুনে তার বেশ কয়েকটি বৈদ্যুতিক জেনারেটরসহ অন্যান্য মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এছাড়া সিনেমা হলের মূল ভবনের সামনে থাকা ড্রাইভার শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যালয়টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতি মো. মজনু মিয়া। এতে তাদের প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ মো. খবিরুল আলম জানান, প্রথমে গৌরীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বেশি থাকায় পরে ঈশ্বরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি এবং ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ইউনিট এসে যোগ দেয়। অবশেষে পাঁচটি ইউনিটের যৌথ প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।



























