ঢাকা ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রামেবি উপাচার্যকে লাঞ্ছনাকারীরা রাষ্ট্র ও জনগণের শত্রু: ভূমিমন্ত্রী কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে একরাতে আটক আরও ২৫২ জন পাটগ্রামে ১৭ লাখ টাকার দেনমোহর জালিয়াতি করে কমানোর অভিযোগ কাজির বিরুদ্ধে মানসিক প্রশান্তি ও সুস্থতায় ইসলামের জীবনদর্শন সম্পদের অপচয় রোধে ইসলামের নির্দেশনা ও আমাদের করণীয় নর্থ সাউথ গ্রুপের সবুজ আবাসন: মিলনমেলা ও উৎসব আজ ম্যানচেস্টার সিটির পাশে থাকার আহ্বান আর্লিং হালান্ডের মায়ের গর্ভে শিশুর ফুসফুসের টিউমার ধ্বংস করলেন চীনের চিকিৎসকেরা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে হামলা নয়: ট্রাম্প ভারতে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জেনজির লড়াই

ঢাবি লাইব্রেরি চত্বরে গণরুম নিপীড়নের স্মৃতিস্তম্ভ ‘আর্তনাদ’ উদ্বোধন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৬:০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা রাজনৈতিক গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির নামে শিক্ষার্থীদের ওপর যে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালানো হতো, তার স্মৃতি সংরক্ষণে ‘আর্তনাদ-নীরব ক্রন্দন’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নিপীড়নের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে স্মরণে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ভয়াবহতা তুলে ধরার প্রতীক হিসেবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে এটি স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তার সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠানে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনিরসহ বিভিন্ন হল সংসদের নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মৃতিস্তম্ভটির নামকরণ করেন ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান এবং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। স্থাপনাটির নির্মাণ ও বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার। এছাড়া ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এই প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধান করেছেন। স্থপতি নাজমুল ও তার দল এর নকশা তৈরি করেছেন। স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা রয়েছে, ‘যে কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছিল, স্থাপত্যে আজ সেই কণ্ঠই প্রতিধ্বনিত।’

অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে আবরার তার মত প্রকাশ করেছিল, কিন্তু সেই অপরাধে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সন্তানের এমন মৃত্যু একজন বাবার পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আবাসিক হলগুলোতে গণরুম-গেস্টরুমের অপসংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। এর ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন, এমনকি অনেকের জীবনও ঝরে গেছে। এই ‘আর্তনাদ’ স্মৃতিস্তম্ভটি সেই নিপীড়নের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে এবং শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাবি লাইব্রেরি চত্বরে গণরুম নিপীড়নের স্মৃতিস্তম্ভ ‘আর্তনাদ’ উদ্বোধন

আপডেট সময় : ০৬:০৭:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসা রাজনৈতিক গণরুম ও গেস্টরুম সংস্কৃতির নামে শিক্ষার্থীদের ওপর যে শারীরিক ও মানসিক নিপীড়ন চালানো হতো, তার স্মৃতি সংরক্ষণে ‘আর্তনাদ-নীরব ক্রন্দন’ নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। নিপীড়নের সেই অন্ধকার অধ্যায়কে স্মরণে রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এর ভয়াবহতা তুলে ধরার প্রতীক হিসেবে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি চত্বরে এটি স্থাপন করা হয়েছে।

বুধবার দুপুরে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তার সঙ্গে স্মৃতিস্তম্ভটি উদ্বোধন করেন ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম। অনুষ্ঠানে ডাকসুর ক্রীড়া সম্পাদক আরমান হোসেন, কার্যনির্বাহী সদস্য আনাস ইবনে মুনিরসহ বিভিন্ন হল সংসদের নেতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মৃতিস্তম্ভটির নামকরণ করেন ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান এবং এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ। স্থাপনাটির নির্মাণ ও বাস্তবায়নের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডাকসুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইকবাল হায়দার। এছাড়া ছাত্র পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম এবং সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের এই প্রক্রিয়ায় তত্ত্বাবধান করেছেন। স্থপতি নাজমুল ও তার দল এর নকশা তৈরি করেছেন। স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা রয়েছে, ‘যে কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছিল, স্থাপত্যে আজ সেই কণ্ঠই প্রতিধ্বনিত।’

অনুষ্ঠানে আবরার ফাহাদের বাবা বরকত উল্লাহ আক্ষেপ করে বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী হিসেবে আবরার তার মত প্রকাশ করেছিল, কিন্তু সেই অপরাধে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সন্তানের এমন মৃত্যু একজন বাবার পক্ষে মেনে নেওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, আবাসিক হলগুলোতে গণরুম-গেস্টরুমের অপসংস্কৃতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হতো। এর ফলে অসংখ্য শিক্ষার্থী শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন, এমনকি অনেকের জীবনও ঝরে গেছে। এই ‘আর্তনাদ’ স্মৃতিস্তম্ভটি সেই নিপীড়নের ইতিহাস প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে এবং শিক্ষার্থীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা স্মরণ করিয়ে দেবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh