রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ১০:১২:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

বিদেশি শক্তির কাছে রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচার, গুপ্তচরবৃত্তি ও রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে জার্মানির সাবেক গোয়েন্দাপ্রধান অগাস্ট হ্যানিংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দেশটির ফেডারেল প্রসিকিউটর অফিসের বিবৃতির বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।
অগাস্ট হ্যানিং ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত জার্মানির ফেডারেল ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (বিএনডি)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অবসর গ্রহণের পর তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবে কাজ করছিলেন। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই তথ্য পাচারের ঘটনায় হ্যানিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন ম্যানফ্রেড ডি নামে বিএনডির আরেক সাবেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ম্যানফ্রেড ডি একসময় হ্যানিংয়ের ব্যুরোপ্রধান ছিলেন এবং ২০১২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বিএনডি প্রধানদের চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ম্যানফ্রেড ডি নিজের প্রভাব খাটিয়ে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য সংরক্ষিত প্রায় ২ হাজার অত্যন্ত গোপনীয় ও সংবেদনশীল নথি সংগ্রহ করেন। পরে অর্থের বিনিময়ে সেগুলো হ্যানিংয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। সরকারি কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, ম্যানফ্রেড ডি-এর কাছ থেকে পাওয়া এসব গোপন তথ্য ব্যবহার করে হ্যানিং একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার জন্য বিশেষ বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন। এছাড়া অন্য একটি বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধির সঙ্গে দীর্ঘদিন যোগাযোগ রেখে তাদের কাছে রাজনৈতিক তথ্য সরবরাহেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে তদন্তের স্বার্থে কোন কোন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা বা বিদেশি শক্তি এর সঙ্গে জড়িত, তা প্রকাশ করা হয়নি।
অন্য একটি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে আকস্মিকভাবে হ্যানিংয়ের কাছে গোপন নথি থাকার বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। জার্মান স্টেকহাউস ব্যবসায়ী ক্রিস্টিনা ব্লকের সন্তানদের অপহরণসংক্রান্ত তদন্তের সময় একটি ইলেকট্রনিক ডেটা স্টোরেজ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়। সেটি পরীক্ষা করতে গিয়ে বিএনডির একাধিক সংবেদনশীল ও সাম্প্রতিক নথির সন্ধান পায় পুলিশ। এরপর পুলিশ মুনস্টারের কাছে নর্ডওয়াল্ডে হ্যানিংয়ের বাড়ি থেকে তাকে এবং বাভারিয়া থেকে ম্যানফ্রেড ডি-কে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে তাদের আদালতে হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।
জার্মান গোয়েন্দা সংস্থায় রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য পাচারের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৩ সালেও কার্স্টেন এল নামের এক শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ইউক্রেন যুদ্ধ ও ওয়াগনার গ্রুপসংক্রান্ত তথ্য রাশিয়ার কাছে পাচার করার অভিযোগে বিচার শুরু হয়। এর বিনিময়ে তিনি প্রায় ৪ লাখ ইউরো নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলার কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।





























