ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জুলাই যোদ্ধাদের সাংবিধানিক সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গের উপ-নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, পুনর্নির্বাচনের দাবি বিরোধীদের সার্বিয়ার ভিসা দেওয়ার নামে ৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক চক্র সামাজিক নিরাপত্তায় ধনীরা বেশি সুবিধা পান, গরিবেরা বঞ্চিত: বিশ্বব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংকে আটকে আছে বরিশাল জেলা পরিষদের পৌনে ১১ কোটি টাকা মালয়েশিয়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় শেরপুরের এক প্রবাসী নিহত ঢাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলে শিগগিরই আসছে নীতিমালা পুলিশের চোখ এড়িয়ে আকাশবাণী ভবনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, দিল্লিতে তুমুল বিক্ষোভ জাজিরায় খেলনা ভেবে ককটেল তুলতে গিয়ে বিস্ফোরণ, কিশোর আহত আজমিরীগঞ্জে শয্যাশায়ী বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

নিয়োগপত্র পেয়েও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেননি ৯১৮ জন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সরকারি বা বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সংকট থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে একে ‘সোনার হরিণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর অনুপস্থিতি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ১৩তম গ্রেডের এই পদে ২০২৬ সালের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী শুরুতে ভাতাসহ বেতন প্রায় ৩৬ হাজার টাকা, যা আগের চেয়ে আকর্ষণীয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হয়। চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, আর নিয়োগপত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ৫২৭ জন। যাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ১ অক্টোবর ছিল যোগদানের নির্ধারিত দিন। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন যোগ দিয়েছেন এবং ৯১৮ জন যোগ দেননি। এছাড়া ৫৫৩ জন প্রার্থী কোনো কাগজপত্রই জমা দেননি।

চট্টগ্রাম জেলার চিত্রটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৫১ জনের মধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে ৬৪ জনই কর্মস্থলে যোগদান করেননি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম জানান, যোগ না দেওয়া প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে তারা হয়তো অন্য কোনো ভালো চাকরি পেয়েছেন বা ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, যোগ না দেওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার হলেও অধিদপ্তরের জন্য এটি একটি ক্ষতি। সাধারণত নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করা ব্যক্তিদের এ চাকরিতে যোগ দেওয়ার আর সুযোগ থাকে না।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষক সংকটের এই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ না দেওয়া নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদও শূন্য হবে। এ অবস্থায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থীর চাকরিতে যোগ না দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষকসংকটে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে অনেক প্রার্থীর নাম প্রথম তালিকায় ছিল না, যা নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন ও সমালোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার অধিকাংশ প্রার্থীকে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত করে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৮০ জনের বেশি প্রার্থীকে বিভিন্ন আইনি বা অন্যান্য জটিলতার কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

নিয়োগপত্র পেয়েও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেননি ৯১৮ জন

আপডেট সময় : ০৫:৫৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি বা বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সংকট থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে একে ‘সোনার হরিণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর অনুপস্থিতি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ১৩তম গ্রেডের এই পদে ২০২৬ সালের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী শুরুতে ভাতাসহ বেতন প্রায় ৩৬ হাজার টাকা, যা আগের চেয়ে আকর্ষণীয়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হয়। চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, আর নিয়োগপত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ৫২৭ জন। যাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ১ অক্টোবর ছিল যোগদানের নির্ধারিত দিন। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন যোগ দিয়েছেন এবং ৯১৮ জন যোগ দেননি। এছাড়া ৫৫৩ জন প্রার্থী কোনো কাগজপত্রই জমা দেননি।

চট্টগ্রাম জেলার চিত্রটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৫১ জনের মধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে ৬৪ জনই কর্মস্থলে যোগদান করেননি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম জানান, যোগ না দেওয়া প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে তারা হয়তো অন্য কোনো ভালো চাকরি পেয়েছেন বা ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, যোগ না দেওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার হলেও অধিদপ্তরের জন্য এটি একটি ক্ষতি। সাধারণত নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করা ব্যক্তিদের এ চাকরিতে যোগ দেওয়ার আর সুযোগ থাকে না।

বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষক সংকটের এই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ না দেওয়া নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদও শূন্য হবে। এ অবস্থায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থীর চাকরিতে যোগ না দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষকসংকটে নতুন মাত্রা যোগ করছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে অনেক প্রার্থীর নাম প্রথম তালিকায় ছিল না, যা নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন ও সমালোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার অধিকাংশ প্রার্থীকে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত করে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৮০ জনের বেশি প্রার্থীকে বিভিন্ন আইনি বা অন্যান্য জটিলতার কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo