
সরকারি বা বেসরকারি খাতে কর্মসংস্থানের সংকট থাকা সত্ত্বেও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থী চাকরিতে যোগ দেননি। সরকারি চাকরির নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধার কারণে একে ‘সোনার হরিণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এত বিপুল সংখ্যক প্রার্থীর অনুপস্থিতি বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। ১৩তম গ্রেডের এই পদে ২০২৬ সালের নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী শুরুতে ভাতাসহ বেতন প্রায় ৩৬ হাজার টাকা, যা আগের চেয়ে আকর্ষণীয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৫টি পদে নিয়োগের জন্য পরীক্ষা হয়। চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১৩ হাজার ৮৩১ জন প্রার্থী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন, আর নিয়োগপত্র পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিয়েছিলেন ৫২৭ জন। যাদের মধ্যে ১৩ হাজার ৭৪৮ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ১ অক্টোবর ছিল যোগদানের নির্ধারিত দিন। অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে ১২ হাজার ৮৩০ জন যোগ দিয়েছেন এবং ৯১৮ জন যোগ দেননি। এছাড়া ৫৫৩ জন প্রার্থী কোনো কাগজপত্রই জমা দেননি।
চট্টগ্রাম জেলার চিত্রটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সুপারিশপ্রাপ্ত ৫৫১ জনের মধ্যে ৫২৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তাদের মধ্যে ৬৪ জনই কর্মস্থলে যোগদান করেননি। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম জানান, যোগ না দেওয়া প্রার্থীদের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা না গেলেও, ধারণা করা হচ্ছে তারা হয়তো অন্য কোনো ভালো চাকরি পেয়েছেন বা ব্যক্তিগত কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, যোগ না দেওয়ার বিষয়টি ব্যক্তিগত স্বাধীনতার হলেও অধিদপ্তরের জন্য এটি একটি ক্ষতি। সাধারণত নির্ধারিত সময়ে যোগদান না করা ব্যক্তিদের এ চাকরিতে যোগ দেওয়ার আর সুযোগ থাকে না।
বর্তমানে সারা দেশে ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক কর্মরত আছেন। শিক্ষক সংকটের এই সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগ না দেওয়া নতুন সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। ফলে শূন্য থাকা ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষক পদে সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হলে সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদও শূন্য হবে। এ অবস্থায় চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগপত্র পেয়েও ৯১৮ জন প্রার্থীর চাকরিতে যোগ না দেওয়া প্রাথমিক শিক্ষার শিক্ষকসংকটে নতুন মাত্রা যোগ করছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুরুতে গোয়েন্দা সংস্থার নেতিবাচক মন্তব্যের কারণে অনেক প্রার্থীর নাম প্রথম তালিকায় ছিল না, যা নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন ও সমালোচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে সরকার অধিকাংশ প্রার্থীকে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত করে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো ৮০ জনের বেশি প্রার্থীকে বিভিন্ন আইনি বা অন্যান্য জটিলতার কারণে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২