জিপিএ-৫ পেয়ে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেল তিথি মালি
- আপডেট সময় : ০৬:২১:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

জিপিএ-৫ পেয়ে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা পেয়েছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর অদম্য শিক্ষার্থী তিথি মালি। চাঁপাইনবাবগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘শিখো-প্রথম আলো’ জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসে সে নিজের জীবনের এই গল্প শোনায়। তিথির বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করার পর ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষায় সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত কাজল পাড়ে তার বিয়ে বন্ধ করেন। কাজল পাড়ে তিথির বাবাকে বিয়ের জন্য জমানো টাকা মেয়ের উচ্চশিক্ষায় খরচ করতে উদ্বুদ্ধ করেন এবং তাকে রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি করান।
রোববার চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের শহীদ সাটু অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত কৃতী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাজল পাড়েই তিথিকে নিয়ে আসেন। সেখানে রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই যোগ দিয়ে তিথি নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে বলে, ‘আমি লেখাপড়া করে বড় হতে চাই। বাবা-মায়ের দুঃখ দূর করতে চাই।’ জীবনে প্রথমবার এমন বড় কোনো অনুষ্ঠানে এসে এবং কথা বলতে পেরে তিথি অত্যন্ত আপ্লুত। সে জানায়, কথা বলার সময় সে কিছুটা নার্ভাস থাকলেও দিনটি তার জীবনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশ পাওয়া কাজল পাড়ে জানান, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ‘ভূঁইমালি’ সম্প্রদায়ের মধ্যে তিথিই প্রথম এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সে নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী। কাজলের বড় বোন তিথির গ্রাম ঘাটনগর মালিপাড়ার বউ। বোনের কাছ থেকেই তিথির বিয়ের খবর পেয়ে কাজল সেখানে যান এবং বিয়ে বন্ধের উদ্যোগ নেন। কাজল বলেন, তিথি জিপিএ-৫ না পেলে হয়তো এতদিনে তার বিয়ে হয়ে যেত। এমনকি জিপিএ-৫ না পেলে তার বোনও তাকে খবর দিতেন না। তাই এই বিয়ে আটকানোর পেছনে তার বোনের ভূমিকাও অনেক বড় ছিল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে কাজল নিজেও বক্তব্য দেন এবং জানান, ২০১৩ সালে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার এনায়েতপুর উচ্চবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন, তবে তখন এমন সংবর্ধনা পাওয়ার সুযোগ তাঁর হয়নি।
‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে সারা দেশে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ৬৪ জেলায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে প্রথম আলো ও ডিজিটাল শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই আয়োজনটি পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় ছিল কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও প্রথম আলো বন্ধুসভা।
সকাল সাড়ে আটটা থেকেই শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানস্থলে জড়ো হতে শুরু করে। জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে সকাল ১০টায় মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আনোয়ার হোসেন। উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক রামিজ আহমেদ অন্তর ও তাঁর দল। এছাড়া কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৃত্য পরিবেশন করে আফরিনা রহমান এবং গান শোনায় নিক্সন হাসান। মহানন্দা সংগীত নিকেতনের শিল্পীরাও গান পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ বিপ্লব কুমার মজুমদার, নবাবগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রওশন আরা, রাজশাহীতে প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল কালাম মুহম্মদ আজাদ, আইপিডিসি-প্রথম আলো প্রিয় শিক্ষক সম্মাননাপ্রাপ্ত আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলাউদ্দিন এবং কৃতী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান ও এ এইচ এম মাহিমুল আজম। চাঁপাইনবাবগঞ্জ বন্ধুসভার সহসভাপতি ফারাহ উলফাৎ রহমান অর্পিতা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। সবশেষে অনলাইনে আয়োজিত কুইজ প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

























