ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি বাংলাদেশ নারী দল ১৫ অক্টোবর থেকে চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলতে পারবেন ন্যাশনাল ব্যাংকের গ্রাহকরা ঢাবিতে নিকাবধারী শিক্ষার্থী হেনস্তার প্রতিবাদে ছাত্রীসংস্থার মানববন্ধন দুর্যোগ-সহনশীল আবাসনে পিকেএসএফ ও এডিবির ১০ কোটি ডলারের চুক্তি আমরা ভারতবিরোধী নই, বরং আধিপত্যবাদবিরোধী: আসিফ মাহমুদ জেসুসকে গালাগাল করেই রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়া উচিত ছিল: রোমারিও বোরহানউদ্দিনে প্রবাসীর স্ত্রীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণ লুট দেশের সব খামারিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি পূরণে সরকার আন্তরিক: উপদেষ্টা মাহদী আমিন ১৫ বছরের জন্য নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পেল ডিপি ওয়ার্ল্ড

ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে নগর পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান বিআইপি’র

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ডেঙ্গু, হাম, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, নগর তাপ ও অনিরাপদ পানির মতো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘হাম ও ডেঙ্গু : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এই আহ্বান জানায়। বিআইপি’র সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়; বরং শহরের ভূমি ব্যবহার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাশয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আবাসন ঘনত্ব ও উন্মুক্ত জায়গার পরিকল্পনার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, সংকট দেখা দেওয়ার পর জরুরি চিকিৎসায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলেও অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার বা দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো মূল কারণগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। তাই রোগের প্রাদুর্ভাবের পর প্রতিকারের চেয়ে ঝুঁকি তৈরির আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন এবং মারা গেছেন ২৪৫ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ৪১৩ জন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মে মাসের প্রাক-বর্ষা জরিপের তথ্য তুলে ধরে বিআইপি সভাপতি জানান, ৬৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ি পরিদর্শনের সময় ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বহুতল ভবন এবং ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবন। তাই ভবন নির্মাণের শর্তে পানি জমা প্রতিরোধ ও বেজমেন্ট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় বিআইপি।

হামের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিআইপি জানায়, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১টি সন্দেহভাজন এবং ২১ হাজার ৫২০টি নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাম-সম্পর্কিত ১ হাজার ১০৮টি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জমে থাকা পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও হামের ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি হলো টিকা কভারেজের ঘাটতি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন ও ভ্রাম্যমাণ টিকাদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, জলাশয় ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল হারানো এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ জলাবদ্ধতা ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া বায়ুদূষণ ও নগর তাপ নিয়ন্ত্রণে সবুজ-নীল অবকাঠামো, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার, ওয়াসা, রাজউক ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং জিআইএস-এর মাধ্যমে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি’র সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, কোষাধ্যক্ষ আবু ছালেহ মো. শহীদুল্লাহ এবং বোর্ড সদস্য সাদী মো. হারুন উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে নগর পরিকল্পনায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান বিআইপি’র

আপডেট সময় : ০২:৫৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু, হাম, জলাবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, নগর তাপ ও অনিরাপদ পানির মতো জনস্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘হাম ও ডেঙ্গু : জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় নগর পরিকল্পনার ভূমিকা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটি এই আহ্বান জানায়। বিআইপি’র সভাপতি ও পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, জনস্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসা বা স্বাস্থ্যসেবার বিষয় নয়; বরং শহরের ভূমি ব্যবহার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাশয়, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আবাসন ঘনত্ব ও উন্মুক্ত জায়গার পরিকল্পনার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, সংকট দেখা দেওয়ার পর জরুরি চিকিৎসায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করা হলেও অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার বা দুর্বল নিষ্কাশন ব্যবস্থার মতো মূল কারণগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত থাকে। তাই রোগের প্রাদুর্ভাবের পর প্রতিকারের চেয়ে ঝুঁকি তৈরির আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৯ হাজার ৬২০ জন এবং মারা গেছেন ২৪৫ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং মৃতের সংখ্যা ছিল ৪১৩ জন।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মে মাসের প্রাক-বর্ষা জরিপের তথ্য তুলে ধরে বিআইপি সভাপতি জানান, ৬৩টি ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২৭টি ওয়ার্ড সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। ২ হাজার ২৩৮টি বাড়ি পরিদর্শনের সময় ২৮১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৩৫ দশমিক ২৩ শতাংশ বহুতল ভবন এবং ১৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ নির্মাণাধীন ভবন। তাই ভবন নির্মাণের শর্তে পানি জমা প্রতিরোধ ও বেজমেন্ট ব্যবস্থাপনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দেয় বিআইপি।

হামের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিআইপি জানায়, ১৫ মার্চ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৩১টি সন্দেহভাজন এবং ২১ হাজার ৫২০টি নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ সময়ে হাম-সম্পর্কিত ১ হাজার ১০৮টি মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জমে থাকা পানি ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ হলেও হামের ক্ষেত্রে প্রধান ঝুঁকি হলো টিকা কভারেজের ঘাটতি। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন ও ভ্রাম্যমাণ টিকাদানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উল্লেখ করা হয়, জলাশয় ও বন্যাপ্রবাহ অঞ্চল হারানো এবং অপরিকল্পিত নগরায়ণ জলাবদ্ধতা ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। এছাড়া বায়ুদূষণ ও নগর তাপ নিয়ন্ত্রণে সবুজ-নীল অবকাঠামো, হাঁটার উপযোগী পরিবেশ ও গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার, ওয়াসা, রাজউক ও সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং জিআইএস-এর মাধ্যমে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিআইপি’র সহ-সভাপতি শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান, কোষাধ্যক্ষ আবু ছালেহ মো. শহীদুল্লাহ এবং বোর্ড সদস্য সাদী মো. হারুন উপস্থিত ছিলেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh