চট্টগ্রামে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, মৃত্যু ১৬ জনের
- আপডেট সময় : ০৮:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামে চলতি বছরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি সেপ্টেম্বর মাসে এসে উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। বছরের প্রথম আট মাস পরিস্থিতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সেপ্টেম্বর মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ৪ হাজার ৪৬৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন, যার মধ্যে ২ হাজার ৪৩০ জনই আক্রান্ত হয়েছেন কেবল সেপ্টেম্বর মাসে। এটি মোট আক্রান্তের অর্ধেকেরও বেশি।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত মোট ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ১৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে সেপ্টেম্বর মাসেই। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি। এ পর্যন্ত ২ হাজার ১৯৩ জন পুরুষ, ১ হাজার ২৭৮ জন নারী এবং ৯৯৫ জন শিশু ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। তবে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে নারী ও শিশুর হার বেশি; মোট ২১ জন মৃতের মধ্যে ১৭ জনই নারী ও শিশু, বাকি ৪ জন পুরুষ।
নগরীর পাশাপাশি চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলাতেও ডেঙ্গুর বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলাগুলোতে মোট ১ হাজার ৯২০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সীতাকুণ্ডে সর্বোচ্চ ৫৬২ জন, কর্ণফুলীতে ২৬৭ জন, রাঙ্গুনিয়ায় ১৪৫ জন, বাঁশখালীতে ১৪২ জন, সাতকানিয়ায় ১০৯ জন, আনোয়ারায় ১০৭ জন, রাউজানে ৯৩ জন, পটিয়ায় ৮৮ জন, হাটহাজারীতে ৭৬ জন, মীরসরাইয়ে ৭৪ জন, বোয়ালখালীতে ৭১ জন, চন্দনাইশে ৬৫ জন, লোহাগাড়ায় ৬১ জন, ফটিকছড়িতে ৩৭ জন এবং সন্দ্বীপে ২৩ জন আক্রান্ত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ১০৭ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩১ জন, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩০ জন, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডিতে ১৩ জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে ১২ জন, চট্টগ্রাম সিএমএইচে ৫ জন এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ১৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকায় এডিস মশা বংশবিস্তার করছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, হালিশহর, কোতোয়ালি, পাহাড়তলী, বন্দর, আকবর শাহ, ফিরোজশাহ, অক্সিজেন ও বাকলিয়া এলাকায় রোগী বেশি শনাক্ত হয়েছে। এসব এলাকাকে গুরুত্ব দিয়ে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা হচ্ছে। এছাড়া অক্টোবরে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


























