ভারতে মসজিদ-মাদরাসা ভাঙার প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপ চাইল ছাত্রশিবির
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ভারতে ঐতিহাসিক মসজিদ, মাদরাসা ও ওয়াকফ সম্পত্তি ধ্বংস এবং মুসলিমদের ধর্মীয় স্বাধীনতা হরণের অভিযোগ তুলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটি দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিমদের অধিকার সুরক্ষায় জাতিসংঘ, ওআইসি (OIC) ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কার্যকর কূটনৈতিক ভূমিকা কামনা করেছে। মঙ্গলবার সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানান। বিবৃতিটি গণমাধ্যমে পাঠান সংগঠনের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ।
বিবৃতিতে নেতারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে উচ্ছেদ ও সড়ক সম্প্রসারণের অজুহাতে শতাব্দীপ্রাচীন মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনীতে শত শত বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শাহী মসজিদের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলার ঘটনাকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের অভিযোগ, এ উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে স্থানীয় মুসলিমদের প্রতিবাদ প্রশাসনিক বলপ্রয়োগ, দমন-পীড়ন ও গ্রেপ্তারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
ছাত্রশিবির নেতারা উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র ও গুজরাটসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আইনি প্রক্রিয়া ও বিচারিক নির্দেশনা পাশ কাটিয়ে ধর্মীয় স্থাপনা ভেঙে ফেলার প্রবণতা লক্ষ্য করছেন বলে জানান। তারা এই প্রবণতাকে ‘বুলডোজার নীতি’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এটি ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে ভারতের মুসলিমদের মৌলিক নাগরিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা সংকটের মুখে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। প্রকাশ্য স্থানে ধর্মীয় আচার পালনে বাধা, পোশাকের স্বাধীনতার ওপর বিধিনিষেধ, গবাদিপশু পরিবহন বা বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে হামলা ও গণপিটুনির মতো ঘটনাকে তারা উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া ইসলামোফোবিয়ার কারণে কর্মক্ষেত্র ও আবাসন সুবিধায় মুসলিমরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়।
শিক্ষা ব্যবস্থায় মুসলিমদের ঐতিহাসিক অবদান উপেক্ষা এবং ঐতিহাসিক স্থানগুলোর নাম পরিবর্তনের প্রবণতা নিয়েও ছাত্রশিবির উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। নেতাদের মতে, এসব প্রবণতা ভারতের বহুত্ববাদী ঐতিহ্য ও সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক অধিকারের জন্য উদ্বেগের কারণ। তারা বলেন, ভারত ঐতিহাসিকভাবেই একটি বহুত্ববাদী ও বহুধর্মীয় রাষ্ট্র, যেখানে কোনো একক আদর্শের আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হতে পারে। বিবৃতিতে ধর্মীয় মতপার্থক্যের কারণে কোনো জনগোষ্ঠীর অধিকার খর্ব করার প্রচেষ্টা বন্ধের আহ্বান জানানো হয়।





























