ঢাকা ০৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোহেলী হত্যা চেষ্টা মামলায় ফের গ্রেপ্তার সাবেক এমপি ছানোয়ার ফ্যামিলি কার্ডের ভাতা বিতরণে নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ ১০০ বছর বয়সে মারা গেছেন মাহাথির মোহাম্মদের স্ত্রী সিতি হাসমাহ দুদকের প্রেস ব্রিফিং ও মিডিয়া ট্রায়াল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আসিফ মাহমুদ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের বিদায়ী বৈঠক ৫ কোটির কাজে ২ কোটি ঘুষ দাবি পিডিবি প্রকৌশলীর গাজীপুরে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় মা ও শিশুকন্যা নিহত যুক্তরাষ্ট্রের মঞ্চে প্রথমবার অভিনয় করতে যাচ্ছেন তমালিকা কর্মকার কাজীপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে একাদশে ফিরলেন জামাল-মোরসালিন

কাজীপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাটি যমুনা ও ইছামতি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শেষে যমুনার ভাঙন এই এলাকার মানুষের জন্য এক নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। চলতি বছর আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত উপজেলার চরাঞ্চলের চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহেই প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে অন্তত অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি যমুনার পেটে চলে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। এছাড়া নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ না করায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভেটুয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিবার আলী জানান, অবৈধভাবে বালু কাটার কারণে তার সাত পাখি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার ১৩ বিঘা ফসলি জমি নদীতে চলে যাওয়ায় তিনি এখন চরম সংকটে পড়েছেন। বিলচতল গ্রামের হারুন অর রশিদ বলেন, মাটির নিচ থেকে বালু সরানোর ফলে মাটি আলগা হয়ে স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর ও চরগিরিশ ইউনিয়ন। এছাড়া নদী তীরবর্তী মাইজবাড়ী, কাজীপুর, গান্ধাইল ও শুভগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু ও গ্রামীণ সড়ক বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে নদীর তীর সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতি বছরই ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, তারা বিষয়টি অবগত আছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার মতো প্রাথমিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চরগিরিশ ইউনিয়ন ও নদী তীরবর্তী মাইজবাড়ী, কাজীপুর, গান্ধাইল ও শুভগাছা উল্লেখিত ১০টি ইউনিয়নে প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর চরাঞ্চলের চরগিরিশ ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনার ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কাজীপুরে যমুনার ভাঙনে বিলীন অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি

আপডেট সময় : ০২:৩৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলাটি যমুনা ও ইছামতি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমের শেষে যমুনার ভাঙন এই এলাকার মানুষের জন্য এক নিয়তিতে পরিণত হয়েছে। চলতি বছর আগস্ট থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত উপজেলার চরাঞ্চলের চরগিরিশ ও ভেটুয়া গ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। গত এক সপ্তাহেই প্রায় ২০ বিঘা তিন ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। সব মিলিয়ে চলতি মৌসুমে অন্তত অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি যমুনার পেটে চলে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে গতিপথ পরিবর্তিত হচ্ছে, যা ভাঙনকে আরও ত্বরান্বিত করছে। এছাড়া নদীর তীর স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ না করায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভেটুয়া গ্রামের বাসিন্দা আজিবার আলী জানান, অবৈধভাবে বালু কাটার কারণে তার সাত পাখি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার ১৩ বিঘা ফসলি জমি নদীতে চলে যাওয়ায় তিনি এখন চরম সংকটে পড়েছেন। বিলচতল গ্রামের হারুন অর রশিদ বলেন, মাটির নিচ থেকে বালু সরানোর ফলে মাটি আলগা হয়ে স্রোতে ভেসে যাচ্ছে।

ভাঙনের ঝুঁকিতে থাকা এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর ও চরগিরিশ ইউনিয়ন। এছাড়া নদী তীরবর্তী মাইজবাড়ী, কাজীপুর, গান্ধাইল ও শুভগাছা ইউনিয়নের বিভিন্ন বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সেতু ও গ্রামীণ সড়ক বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, শুষ্ক মৌসুমে নদীর তীর সংরক্ষণের কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় প্রতি বছরই ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, তারা বিষয়টি অবগত আছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখন পর্যন্ত ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ফেলার মতো প্রাথমিক কোনো কার্যকর ব্যবস্থাও নেওয়া হয়নি।

জানা যায়, চরাঞ্চলের খাসরাজবাড়ী, নাটুয়ারপাড়া, তেকানী, নিশ্চিন্তপুর, মনসুর নগর, চরগিরিশ ইউনিয়ন ও নদী তীরবর্তী মাইজবাড়ী, কাজীপুর, গান্ধাইল ও শুভগাছা উল্লেখিত ১০টি ইউনিয়নে প্রতি বছরই ভাঙন দেখা দেয়।

গত ২৪ সেপ্টেম্বর চরাঞ্চলের চরগিরিশ ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যমুনার ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh