যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫, সরানো হলো ৮৫ পরিবার
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাজ্যে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক বিমানঘাঁটির কাছে সন্দেহভাজন পাঁচ ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে ব্রিটিশ পুলিশ। আজ রোববার সকালে তিনটি ভ্যান নিয়ে ওই ঘাঁটির দিকে যাওয়ার সময় সশস্ত্র পুলিশ তাদের আটক করে। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রস্তুতির সন্দেহে গ্রেপ্তার করা এই ব্যক্তিরা বিমানঘাঁটিতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিলেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই ঘটনার পর বিমানঘাঁটির চারপাশের ৪০০ মিটার এলাকা জুড়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী গড়ে তোলা হয়েছে এবং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে নিকটবর্তী একটি গ্রামের ৮৫টি বাড়ির বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তদন্তকারী ব্রিটিশ ও মার্কিন কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে এই চক্রটির ওপর নজর রাখছিল বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই অভিযানকে ‘অসাধারণ কাজ’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, ‘যুক্তরাজ্যে গ্রেপ্তারের ঘটনাটি চমৎকার হয়েছে। তারা আমাদের ঘাঁটির বড় ধরনের ক্ষতি করার পরিকল্পনা করছিল। ব্রিটিশদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়টি দারুণভাবে সফল হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত আমরা তাদের ধরতে পেরেছি।’
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী গোয়েন্দা কর্মকর্তারা এই ঘটনার তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, রোববার ভোরে ইংল্যান্ডের পশ্চিমাঞ্চলের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির দিকে তিনটি সন্দেহজনক গাড়ি এগিয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালায়। সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেন। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সন্ত্রাসবাদবিরোধী পুলিশের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়কারী ভিকি ইভান্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে তারা পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন এবং গ্রেপ্তার হওয়া পাঁচজন এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। এদিকে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল সন্দেহভাজন ভ্যানগুলো পরীক্ষা করে দেখছে। পুরো এলাকায় সশস্ত্র পুলিশ টহল দিচ্ছে এবং বিমানঘাঁটির প্রবেশপথগুলো ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামকে এই ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। গ্লস্টারশায়ার পুলিশের সহকারী প্রধান কনস্টেবল রিচার্ড ওকোনে সাংবাদিকদের বলেন, যেকোনো বড় ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর সুপরিকল্পিত প্রস্তুতি রয়েছে। সতর্কতার অংশ হিসেবেই নিরাপত্তাবেষ্টনী দেওয়া হয়েছে এবং স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে জরুরি সেবাদানকারী দলের উপস্থিতি দেখতে পাবেন।
যুক্তরাজ্যের এই ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিটি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজে হামলা চালানো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনায় মার্কিন বোমারু বিমান ব্যবহার করে হামলা চালানোর কাজে ব্যবহৃত হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার মার্কিন বাহিনীকে এই ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। এর আগে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) সতর্ক করে বলেছিল, ফেয়ারফোর্ড থেকে যেন মার্কিন বোমারু বিমান উড়তে দেওয়া না হয়, অন্যথায় হামলার কাজে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি তাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য হবে। জবাবে গত জুলাইয়ে ব্রিটেন জানিয়েছিল, যেকোনো হামলা থেকে দেশকে রক্ষা করতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত।
এই ঘটনার পর যুক্তরাজ্যের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পূর্ব ইংল্যান্ডের আরএএফ লেকেনহিথ ঘাঁটির প্রবেশপথে সাঁজোয়া যান ও সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর একজন মুখপাত্র নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি কেবল জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ৫০আইতম কমব্যাট সাপোর্ট উইং এবং তাদের সহযোগী উইংগুলো সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং সামরিক কর্মী, বেসামরিক স্টাফ, ঠিকাদার ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যুক্তরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এর আগে রাশিয়ার সম্ভাব্য নাশকতা ও সাইবার হামলার হুমকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন ব্রিটিশ মন্ত্রীরা। যদিও পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে এ ধরনের হাইব্রিড হামলা চালানোর অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে মস্কো। এছাড়া, ২০২৫ সালের জুনে মধ্য ইংল্যান্ডের একটি ব্রিটিশ সামরিক বিমানঘাঁটিতে ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভকারী গোষ্ঠী ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর কর্মীরা অনুপ্রবেশ করেছিলেন, যা পরে একটি নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষিত হয়। ডেইলি মেইল তাদের ওয়েবসাইটে গ্রেপ্তার হওয়া শার্টবিহীন পাঁচ ব্যক্তির ছবি প্রকাশ করেছে।





























