আল্লাহর বিধান ছাড়া প্রকৃত শান্তি অসম্ভব: মিয়া গোলাম পরওয়ার
- আপডেট সময় : ০৫:১৪:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬: ৫১
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, আল্লাহর বিধান ছাড়া মানুষের তৈরি কোনো মতবাদ পৃথিবীতে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা কোনো ব্যক্তিকে প্রাধান্য দেয় না, বরং আল্লাহর হুকুম ও আদর্শকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে থাকে।
শনিবার রাত ৯টায় চট্টগ্রাম নগরীর কিশালয় কমিউনিটি সেন্টারে চকবাজার থানা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোনো মুসলিম আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কারও কর্তৃত্বকে চূড়ান্তভাবে মেনে নিতে পারে না। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর নির্দেশনা অনুসরণ করা একজন মুমিনের প্রধান দায়িত্ব। তাই ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের নিজেদের জীবনকে ইসলামের আদর্শ অনুযায়ী গড়ে তুলতে হবে।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাবেক এই এমপি বলেন, দেশের মানুষের মতামত ও গণরায়কে গুরুত্ব দিতে হবে। জনগণের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ যে রায় দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান দেখানো সরকারের দায়িত্ব। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, '৭০ ভাগ লোকের রায় মেনে নিন, না হয় তাদের নিয়ে মাঠে নামতে বাধ্য হবো।' তিনি আরও যোগ করেন, দেশের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান সংঘাতের মাধ্যমে নয়, বরং জনগণের মতামতকে সম্মান করা এবং গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাবি বাস্তবায়নের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। জনগণের অধিকার ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হলে তা দীর্ঘমেয়াদে গ্রহণযোগ্য হবে না।
সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, জনগণের স্বার্থ ও দেশের স্থিতিশীলতার কথা বিবেচনা করে আমরা শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায়ে সংসদ ও রাজপথে রয়েছি। সম্প্রতি গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচির কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের সাম্প্রতিক লংমার্চ কর্মসূচিকে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন বলে অভিহিত করেন।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও চাকরির ক্ষেত্রে দলীয়করণ করা হচ্ছে। মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া জুলাইয়ের আন্দোলন ও গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐকমত্য প্রয়োজন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনা দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের পক্ষে সাংগঠনিকভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশা বোঝার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি বলেন, সরকার যদি পুরাতন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করে, তবে দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। দেশের কল্যাণে সরকারকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ ও মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, অতীতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল, তারা জনগণের প্রত্যাশা ও চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ করতে পারেনি। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের মতামত, অধিকার ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। ক্ষমতাকে জনগণের সেবার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে হবে, কোনোভাবেই জনগণের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার হাতিয়ার হিসেবে নয়। অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করার পাশাপাশি সরকারের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও জাতীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্র গড়তে চাই, যেখানে অন্যায়-অবিচারের কোনো স্থান থাকবে না; থাকবে ন্যায়, ইনসাফ ও জবাবদিহিতা। রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক তার অধিকার পাবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং মানুষের জানমাল ও সম্মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকারের কল্যাণকর হয়, যখন রাষ্ট্রের শক্তি সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগে। সততা, যোগ্যতা, ন্যায়বিচার ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে মানুষের জন্য শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
অপর বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, আমাদের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তোষ অর্জন। এজন্য নিয়মিত ব্যক্তিগত অধ্যয়ন, কুরআন-হাদিস চর্চা এবং আমলের মাধ্যমে নিজেদের জীবনকে সুন্দর করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের পরিবারগুলোকে ইসলামী আদর্শ ও নৈতিকতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে হবে। একটি সুন্দর পরিবার থেকেই একটি আদেশ সমাজ গড়ে ওঠে। পরকালে আমাদের প্রত্যেককে নিজের কাজের হিসাব দিতে হবে। সেই হিসাবের কথা মনে রেখে প্রতিটি কাজ করার আগে নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে—এই কাজটি কি আল্লাহর সন্তোষ অর্জনে সহায়ক হবে?
চকবাজার থানা জামায়াতে ইসলামীর আমীর আহমদ খালেদুল আনোয়ার, সেক্রেটারি সাদুর রশিদ চৌধুরী ও এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি শহিদুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. এ কে এম ফজলুল হক, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাসান রুমী, চকবাজার থানা নায়েবে আমীর আব্দুল হান্নান চৌধুরী, চকবাজার থানা কর্মপরিষদ সদস্য ও ১৬ নম্বর চকবাজার ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ ইলিয়াছ এবং ১৫ নম্বর বাগমনিরাম ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী তাউসিফ সুলতান রাফি।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খায়রুল বাশার, সদরঘাট থানা আমীর এম এ গফুর, চকবাজার থানা কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দিন আল হাসান, মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, এরশাদুল ইসলাম, সাইফুদ্দিন খালেদ, আমজাদ হোসাইন, মাওলানা খালেদ জামাল প্রমুখ। এছাড়াও চকবাজার থানা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।





























