ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ: ৬৫ থেকে ২১০ টাকা ভারতের উত্তর প্রদেশে বন্যা ও ভূমিধসে নিহত ৫৬ হাফপ্যান্ট পরায় অ্যাথলেট প্রশিক্ষককে মেট্রোস্টেশনে হেনস্তা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা অগ্রহণযোগ্য, মন্তব্য রাশিয়ার ভালো কিংবা মন্দ, সরকারের পাঁচ বছরের ‘চুক্তি’ মেনেই ধৈর্য ধরার পরামর্শ প্রতিবাদ ও ‘আগের ১৪ বছর’ বিতর্ক: একটি সামাজিক বিশ্লেষণ রাড্ডা ক্লিনিকে হামলায় ওসির অবহেলার প্রমাণ, ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর শাহজালাল বিমানবন্দরে ২৮ লাখ টাকার সিরিঞ্জসহ নারী যাত্রী আটক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৯ শিক্ষার্থী পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়নে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন আইনমন্ত্রী

পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ লংমার্চ: কৌশলগত অনিশ্চয়তা ও নেতৃত্বের বিভক্তি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ ঘিরে দলটির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং কৌশলগত অনিশ্চয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলটির পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ৪ অক্টোবর মার্চ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও, এই সাত দিনের ব্যবধানের পেছনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মূলত ‘কে আগে পিছু হটল’—এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি মার্চের তারিখ ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছুটা তাড়াহুড়ো করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিটিআই নেতৃত্বের মধ্যেই লং মার্চ নিয়ে পূর্ণ ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। দলের একটি অংশ যে কোনো পরিস্থিতিতে মার্চ করার পক্ষে অবস্থান নিলেও, অন্য অংশ মনে করছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

নেতৃত্বের এই বিভক্তি এবং সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা এবং রাজনৈতিক আবেগ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করছে। পিটিআই আগস্ট মাসেই ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চের ঘোষণা দিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি সামনে আনাই ছিল এই কর্মসূচির লক্ষ্য। দলীয় ঘোষণার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্য ও জনসংযোগমন্ত্রী শাফি জান দাবি করেছিলেন যে, মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেই মার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কর্মসূচিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদ হাইকোর্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে নাগরিকদের চলাচল, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়টি কেবল তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং এটি পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কৌশল, নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং সরকার ও দলের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপের জায়গা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বর্তমানে পিটিআইয়ের ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং তা অর্জনের বাস্তব কৌশলের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২৩আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পিটিআইয়ের ইসলামাবাদ লংমার্চ: কৌশলগত অনিশ্চয়তা ও নেতৃত্বের বিভক্তি

আপডেট সময় : ০১:৩০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ইসলামাবাদমুখী লং মার্চ ঘিরে দলটির অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য এবং কৌশলগত অনিশ্চয়তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দলটির পক্ষ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে ৪ অক্টোবর মার্চ আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি হলেও, এই সাত দিনের ব্যবধানের পেছনে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ বেশ জটিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মূলত ‘কে আগে পিছু হটল’—এই প্রশ্নটিই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি মার্চের তারিখ ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছুটা তাড়াহুড়ো করেছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। পিটিআই নেতৃত্বের মধ্যেই লং মার্চ নিয়ে পূর্ণ ঐকমত্যের অভাব রয়েছে। দলের একটি অংশ যে কোনো পরিস্থিতিতে মার্চ করার পক্ষে অবস্থান নিলেও, অন্য অংশ মনে করছে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

নেতৃত্বের এই বিভক্তি এবং সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকদের চাপ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণা এবং রাজনৈতিক আবেগ দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণকে প্রভাবিত করছে। পিটিআই আগস্ট মাসেই ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে লং মার্চের ঘোষণা দিয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দাবি সামনে আনাই ছিল এই কর্মসূচির লক্ষ্য। দলীয় ঘোষণার সময় খাইবার পাখতুনখাওয়ার তথ্য ও জনসংযোগমন্ত্রী শাফি জান দাবি করেছিলেন যে, মিত্রদের সঙ্গে পরামর্শ করেই মার্চের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, কর্মসূচিকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এছাড়া ইসলামাবাদ হাইকোর্ট রাজনৈতিক কর্মসূচির ক্ষেত্রে নাগরিকদের চলাচল, শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবা এবং অন্যান্য মৌলিক অধিকারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করার বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছে।

২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত সময় বাড়ানোর বিষয়টি কেবল তারিখ পরিবর্তন নয়, বরং এটি পিটিআইয়ের রাজনৈতিক কৌশল, নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় এবং সরকার ও দলের মধ্যে সম্ভাব্য সংলাপের জায়গা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। বর্তমানে পিটিআইয়ের ঘোষিত রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং তা অর্জনের বাস্তব কৌশলের মধ্যে যে ব্যবধান রয়েছে, তা সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২৩আপডেট : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩: ২৪

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh