আয়কর রিটার্ন জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সুযোগ আর মাত্র চার দিন
- আপডেট সময় : ০৯:৩৩:১২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

বার্ষিক আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দিয়ে করছাড় পাওয়ার সময় হাতে আছে আর মাত্র চার দিন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর বা বুধবারের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে করছাড় পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। এই নিয়মে করদাতারা রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপর ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত করছাড় পেতে পারেন।
তবে এই করছাড়ের বিষয়টি সবার জন্য প্রযোজ্য নয়। পুরো বছরের মোট করের ওপর এই ছাড় হিসাব করা হবে না। মূলত যেসব করদাতা জুনের আগেই অগ্রিম কর, পেরোল ট্যাক্স বা অন্য কোনো উপায়ে আগাম আয়কর পরিশোধ করেছেন, তাঁরা সেই টাকার ওপর করছাড় সুবিধা পাবেন না। শুধুমাত্র রিটার্ন জমার সময় প্রদেয় করের ওপরই এই ছাড় কার্যকর হবে। এর ফলে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার উৎসে কর, ব্যাংক এফডিআরের মুনাফার ওপর কর বা প্রতি মাসে বেতন থেকে কেটে রাখা অগ্রিম করের ওপর কোনো ছাড় মিলবে না। সংশ্লিষ্টদের মতে, সারা বছর নিয়ম মেনে কর পরিশোধকারী করদাতাদের ক্ষেত্রে এটি বৈষম্যমূলক হতে পারে।
করছাড় পাওয়ার একটি উদাহরণ দিয়ে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাক। ধরুন, ১ জুলাই থেকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আপনার করযোগ্য আয় ৭ লাখ টাকা। প্রথম চার লাখ টাকার ওপর কর নেই, বাকি তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ হারে আপনার প্রদেয় কর দাঁড়ায় ৩০ হাজার টাকা। বুধবারের মধ্যে রিটার্ন জমা দিলে আপনি এই ৩০ হাজার টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে ১ হাজার ৫০০ টাকা করছাড় পাবেন। ফলে আপনাকে কর পরিশোধ করতে হবে ২৮ হাজার ৫০০ টাকা।
এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে টিআইএনধারী করদাতার সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ। চলতি অর্থবছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার রিটার্ন জমা পড়েছে। গত অর্থবছরে মোট ৪৯ লাখ ৫৫ হাজার রিটার্ন জমা হয়েছিল। এছাড়া পাঁচ শ্রেণির করদাতা ছাড়া বাকি সবাইকে এবার অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দিতে হবে।
রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়ের ওপর ভিত্তি করে করছাড়ের হার ভিন্ন হতে পারে। প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রিটার্ন দিলে ৫ শতাংশ বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা ছাড় পাওয়া যাবে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) কোনো প্রণোদনা নেই। তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) রিটার্ন দিলে প্রদেয় করের ২ শতাংশ বা ৩ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে। চতুর্থ প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) রিটার্ন দিলে ৫ শতাংশ বা ৫ হাজার টাকার মধ্যে যেটি বেশি, সেই পরিমাণ টাকা দিতে হবে।





























