ঢাকা ১০:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়ন্ত্রণহীন এআইয়ে ১০০ কোটি মৃত্যুর শঙ্কা: বিল গেটস সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় মূলহোতাসহ গ্রেফতার ৪ উখিয়ায় বন বিভাগের অভিযান: ৩০ একর বনভূমি উদ্ধার, ৭ স্থাপনা উচ্ছেদ এসআরএফটিআই ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সংঘর্ষ, আহত অনেকে পটিয়ায় কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে টাইলস মিস্ত্রির মৃত্যু গাজা শান্তি পরিকল্পনার পথে বড় বাধা নেতানিয়াহু, অভিযোগ কাতারের তজুমদ্দিনে মেঘনার তীব্র স্রোতে ট্রলার ডুবি, ৪ জেলে উদ্ধার পুলিশ প্রতিবেদনে বাদ আড়াই হাজার, ক্ষুব্ধ প্রাথমিক শিক্ষক প্রার্থীরা কোটালীপাড়ায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন যুবক বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদী থেকে নিখোঁজ ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

কুমিল্লার ১৮ থানায় অভিযানে আটক ২৫৪, রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ গ্রেপ্তার

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে ১৮টি থানায় একযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের কুখ্যাত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চারজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ১৯ বছর বয়সী আনিসুর রহমান ওরফে আনিক, যিনি এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় তাঁর ভাগনে আনিকই দলটির পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। আনিক কুমিল্লা নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। এর আগে ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন তিনি। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বের হওয়ার পর আবারও গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন আনিক। শনিবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করে, যার মধ্যে আনিকসহ রতন গ্রুপের ওই চার সদস্য রয়েছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা বসে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব স্থানেই অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় ও আগের অপরাধের রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও বখাটেদের উৎপাত ঠেকাতে জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ২৫৪ জনের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিশোরেরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একই ধরনের এক অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অপরাধে সম্পৃক্ততা না থাকায় ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সম্প্রতি কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নতুন করে আলোচনায় আসে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ঘটনার মূলহোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং অন্য একজনকে সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই ঘটনার সূত্র ধরেই কুমিল্লায় ২০১৫ সাল থেকে সক্রিয় আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’ সহ অন্যান্য গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লার ১৮ থানায় অভিযানে আটক ২৫৪, রতন গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ০৯:১২:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে ১৮টি থানায় একযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। শনিবার রাত আটটা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা নগরের কুখ্যাত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’-এর চারজন সক্রিয় সদস্য রয়েছেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন ১৯ বছর বয়সী আনিসুর রহমান ওরফে আনিক, যিনি এই গ্যাংয়ের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, রতন গ্রুপের প্রধান ইমরান হোসেন ওরফে রতন বর্তমানে আত্মগোপনে থাকায় তাঁর ভাগনে আনিকই দলটির পুরো কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। আনিক কুমিল্লা নগরের ছোটরা মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশের ছেলে। এর আগে ২০২২ সালে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে সংঘটিত একটি হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছিলেন তিনি। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে বের হওয়ার পর আবারও গ্যাংয়ের নেতৃত্বে যুক্ত হন আনিক। শনিবার রাতে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ কুমিল্লা নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৭ জনকে আটক করে, যার মধ্যে আনিকসহ রতন গ্রুপের ওই চার সদস্য রয়েছেন।

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, নগরের যেসব এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের আড্ডা বসে এবং তারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের চেষ্টা করে, সেসব স্থানেই অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ছিনতাই ও নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় ও আগের অপরাধের রেকর্ড যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ও বখাটেদের উৎপাত ঠেকাতে জেলা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই একযোগে অভিযান চালানো হয়েছে। আটক ২৫৪ জনের অপরাধের সম্পৃক্ততা যাচাই করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। কিশোরেরা যাতে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে না পারে, সেজন্য এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

এর আগে গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কুমিল্লার ১৮টি থানায় একই ধরনের এক অভিযানে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে অপরাধে সম্পৃক্ততা না থাকায় ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে মাদক সেবন, নিয়মিত মামলা, ভ্রাম্যমাণ আদালত, নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসহ বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

সম্প্রতি কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা নতুন করে আলোচনায় আসে ১৩ বছর বয়সী সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর। গত ১৮ সেপ্টেম্বর কোটবাড়ির গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যাদের মধ্যে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। ঘটনার মূলহোতা ১৯ বছর বয়সী সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং অন্য একজনকে সহযোগী হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এই ঘটনার সূত্র ধরেই কুমিল্লায় ২০১৫ সাল থেকে সক্রিয় আলোচিত ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’ সহ অন্যান্য গ্যাংগুলোর বিরুদ্ধে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo