চুয়েটে নতুন উপাচার্য প্রত্যাখ্যান, শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড ও বিক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৪:২৯:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। শনিবার বেলা ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন সড়ক থেকে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। বিভিন্ন আবাসিক হল থেকে যোগ দেওয়া শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্বাধীনতা চত্বর হয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ করেন।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ‘অনলাইন ভিসি মানি না’ এবং ‘রেড কার্ড টু অনলাইন ভিসি’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এর আগে সকাল ১০টা থেকেই ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ব্যঙ্গাত্মক ও প্রতিবাদী গ্রাফিতি আঁকেন তারা। গ্রাফিতিতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়।
শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ বিন নয়ন বলেন, তাদের একমাত্র দাবি হলো অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য হিসেবে ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, এতদিনেও দাবি পূরণ না হওয়া হতাশাজনক এবং তারা একাডেমিক জীবনে ফিরতে চান। জেনিয়া তাসনিম নামে আরেক শিক্ষার্থী জানান, সায়েম স্যার ২৪ দিনে চুয়েটকে আধুনিকায়নের পথে এগিয়ে নিয়েছিলেন, তাই তাকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত।
নতুন উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসতে পারেন এমন খবরে শুক্রবার রাত থেকে শিক্ষার্থীরা প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে অবস্থান নেন। নারী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে রাতে বিক্ষোভ মিছিলও অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার রাতে উপাচার্যের কার্যালয়েও তালা ঝুঁলিয়ে দেন তারা। এদিকে, নতুন উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম গণমাধ্যমে আন্দোলনকে ‘ক্ষুদ্র’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী অবস্থান করছেন বলে দাবি করলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ে। পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুর রহমান তার এই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে বলেন, প্রতিটি হল থেকে শত শত শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সাথে সংহতি জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি, অফিসার্স এসোসিয়েশন ও কর্মচারী সমিতি। শিক্ষক সমিতি জরুরিসেবা ছাড়া সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। এই অচলাবস্থায় ক্যাম্পাসে ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অব্যাহতি দিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার পর থেকেই এই অস্থিরতা শুরু হয়। এর আগে গত ২৭ জুলাই অধ্যাপক সায়েম দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার অনলাইনে নতুন উপাচার্যের যোগদানের পর রাতে ক্যাম্পাসে মশাল মিছিলও করেছিলেন শিক্ষার্থীরা।
তার ভাষ্য, ‘সায়েম স্যারকে ৫৬ দিনের মাথায় অপসারণ করা হয়েছে। উনি ভালো কাজ করছিলেন। অবশ্যই উনাকে সুযোগ দিতে হবে। উনার কাজগুলো করার পর্যাপ্ত সময় যেন উনি পান।’ এদিকে নবনিযুক্ত উপাচার্য ক্যাম্পাসে আসতে পারেন-এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর শুক্রবার দিবাগত রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। নতুন উপ
তিনি বলেন, ‘নতুন উপাচার্য আমাদের আন্দোলনকে ৩০-৩৫ জনের আন্দোলন হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অথচ প্রতিটি হল থেকে শত শত শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে আন্দোলনে অংশ নিচ্ছেন। তার এই বক্তব্য ও অনলাইনে যোগদানকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি।’শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে চুয়েট শিক্ষক সমিতি জরুরিসেবা ছাড়া সর্বাত্মক কর্মবিরতির ঘোষণ





























