ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আদালতে হাতকড়া ও সিঁড়ি ব্যবহার নিয়ে পলকের ক্ষোভ বিশ্বনাথে দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি, অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি ইলিশ সম্পদ রক্ষায় জেলেদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর ঢাকার রাস্তায় নারী চালকের মোটরসাইকেলে নারী যাত্রী, স্বস্তি দিচ্ছে ‘মায়া রাইড’ ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিতে মার্কিন বাহিনীকে পেন্টাগনের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে বিস্ফোরক মামলায় পদচ্যুত ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার দুর্গাপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভা, ২৩ মণ্ডপে সিসিটিভি বাধ্যতামূলক গোপালগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণ, আতঙ্ক ২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হবে ঢাকা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ মা ইলিশ রক্ষা অভিযান: প্রথম রাতেই পটুয়াখালীতে তিনজনের কারাদণ্ড

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০টি হামলার তথ্য নথিভুক্ত করেছে হেট ল্যাব

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অন্তত ৬০টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করেছে ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (আইএইচএল)। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের ১৩টি জেলায় এসব ঘটনা ঘটেছে। আইএইচএলের দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর খ্রিস্টানদের ওপর হামলার প্রবণতা বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হামলাকারীরা সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নথিভুক্ত ৬০টি ঘটনার মধ্যে ৫২টি ছিল ব্যক্তিগত প্রার্থনাসভা, বাড়ি, গির্জা ও অন্যান্য খ্রিস্টান সমাবেশে হানা দেওয়ার ঘটনা। এছাড়া আটটি ঘটনায় শারীরিক হামলা, সংঘবদ্ধ আক্রমণ বা ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের পাঁচটি ঘটনা এবং ধর্মান্তরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনটি বিক্ষোভের তথ্যও আইএইচএল সংগ্রহ করেছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রার্থনাসভায় সবচেয়ে বেশি ১৩টি করে হানার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বজরং দল, হিন্দু সুরক্ষা সমিতি, হিন্দু একতা মঞ্চ ও হিন্দু সংহতির মতো সংগঠনের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে। আইএইচএলের ভাষ্যমতে, এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রার্থনাসভায় ঢুকে আয়োজকদের ধর্মান্তর কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ধর্মীয় পরিচয় ও আধার কার্ডের দাবি জানান।

ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩ মে, ২০ মে ও ৮ জুন চন্দ্রকোনায়; ২৮ মে গোসাবায়; ৬ জুন বাসন্তীতে এবং ৯ জুন ক্যানিংয়ে প্রার্থনাসভায় হানা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাসন্তীর একটি গির্জায় ছয়জনকে ধর্মান্তরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়। এছাড়া ৮ জুলাই সন্দেশখালিতে ভিএইচপি ও বিজেপির সদস্যরা খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় প্রবেশ করেন, যেখানে এক হিন্দু সন্ন্যাসী বাসিন্দাদের আধার কার্ড দেখতে চান এবং খ্রিস্টধর্মকে ব্রিটিশ শাসনের উত্তরাধিকার বলে মন্তব্য করেন।

৩০ আগস্ট উত্তর দিনাজপুরের হিঙ্গলগঞ্জে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা প্রার্থনাসভায় হানা দিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে আসা এক মিশনারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কেন গীতার পরিবর্তে বাইবেল পড়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় ভিএইচপি ও বজরং দলের সদস্যরা একটি সমাবেশে বাধা দিয়ে ‘নতুন বাংলা’য় ধর্মান্তর কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া ১২ জুলাই বারাসতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা অক্সিলিয়াম সেলেসিয়ান সিস্টার্সের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় তাদের কর্মকাণ্ড আর সহ্য করা হবে না বলে দাবি করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০টি হামলার তথ্য নথিভুক্ত করেছে হেট ল্যাব

আপডেট সময় : ০৪:১৪:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে অন্তত ৬০টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত করেছে ইন্ডিয়া হেট ল্যাব (আইএইচএল)। সংস্থাটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৩ মে থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের ১৩টি জেলায় এসব ঘটনা ঘটেছে। আইএইচএলের দাবি, রাজ্যে বিজেপি সরকার গঠনের পর খ্রিস্টানদের ওপর হামলার প্রবণতা বেড়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে হামলাকারীরা সরাসরি রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনেছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নথিভুক্ত ৬০টি ঘটনার মধ্যে ৫২টি ছিল ব্যক্তিগত প্রার্থনাসভা, বাড়ি, গির্জা ও অন্যান্য খ্রিস্টান সমাবেশে হানা দেওয়ার ঘটনা। এছাড়া আটটি ঘটনায় শারীরিক হামলা, সংঘবদ্ধ আক্রমণ বা ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে। একই সময়ে খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্যের পাঁচটি ঘটনা এবং ধর্মান্তরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে তিনটি বিক্ষোভের তথ্যও আইএইচএল সংগ্রহ করেছে।

জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পশ্চিম মেদিনীপুরে প্রার্থনাসভায় সবচেয়ে বেশি ১৩টি করে হানার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় হিন্দু জাগরণ মঞ্চ, বঙ্গীয় হিন্দু জাগরণ, বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি), বজরং দল, হিন্দু সুরক্ষা সমিতি, হিন্দু একতা মঞ্চ ও হিন্দু সংহতির মতো সংগঠনের সদস্যদের নাম উঠে এসেছে। আইএইচএলের ভাষ্যমতে, এসব সংগঠনের সদস্যরা প্রার্থনাসভায় ঢুকে আয়োজকদের ধর্মান্তর কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ করেন এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ধর্মীয় পরিচয় ও আধার কার্ডের দাবি জানান।

ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৩ মে, ২০ মে ও ৮ জুন চন্দ্রকোনায়; ২৮ মে গোসাবায়; ৬ জুন বাসন্তীতে এবং ৯ জুন ক্যানিংয়ে প্রার্থনাসভায় হানা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বাসন্তীর একটি গির্জায় ছয়জনকে ধর্মান্তরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ করা হয়। এছাড়া ৮ জুলাই সন্দেশখালিতে ভিএইচপি ও বিজেপির সদস্যরা খ্রিস্টান অধ্যুষিত এলাকায় প্রবেশ করেন, যেখানে এক হিন্দু সন্ন্যাসী বাসিন্দাদের আধার কার্ড দেখতে চান এবং খ্রিস্টধর্মকে ব্রিটিশ শাসনের উত্তরাধিকার বলে মন্তব্য করেন।

৩০ আগস্ট উত্তর দিনাজপুরের হিঙ্গলগঞ্জে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা প্রার্থনাসভায় হানা দিয়ে আর্জেন্টিনা থেকে আসা এক মিশনারিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং কেন গীতার পরিবর্তে বাইবেল পড়া হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ৩ সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরের পাঁশকুড়ায় ভিএইচপি ও বজরং দলের সদস্যরা একটি সমাবেশে বাধা দিয়ে ‘নতুন বাংলা’য় ধর্মান্তর কার্যক্রম বন্ধের হুমকি দেন এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অবস্থানের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া ১২ জুলাই বারাসতে হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সদস্যরা অক্সিলিয়াম সেলেসিয়ান সিস্টার্সের সদস্যদের হুমকি দিয়ে বিজেপি ক্ষমতায় থাকায় তাদের কর্মকাণ্ড আর সহ্য করা হবে না বলে দাবি করেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh