ঢাকা ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
টাঙ্গাইলে ভবঘুরে নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে কিশোর গ্রেপ্তার অবসরের ইঙ্গিত দিলেন মেসির দীর্ঘদিনের সতীর্থ নিকোলাস তালিয়াফিকো নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের কাছে সন্দেহজনক স্যুটকেস ঘিরে বোম আতঙ্ক পথঘাট পরিচ্ছন্ন রাখা ঈমানের দাবি ও সদকার সওয়াব গফরগাঁওয়ে প্রবাসীর স্ত্রীকে গণধর্ষণ: অভিযুক্তদের বাড়িঘরে ভাঙচুর বার্সেলোনায় ফিরল ‘এমএসএন’ যুগের স্মৃতি, রাফিনিয়া-ইয়ামালদের গোলবন্যা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিশ্চিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লঞ্চ ভাড়া ৬০ শতাংশ বাড়ানোর দাবি মালিকদের যুদ্ধ জিতলে লুটের মালে বিজয়ীরই অধিকার, জাতিসংঘে ঘোষণা ট্রাম্পের বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনিক পদে সেনা কর্মকর্তাদের নিয়োগ

কেবল শক্তি দিয়ে বৈশ্বিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়: গুতেরেস

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের সংকটগুলো এখন এক গভীর অতল খাদে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার বিদায়ী ভাষণে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করেন যে, কেবল সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তি দিয়ে বৈশ্বিক সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।

গুতেরেস বলেন, পরাশক্তিগুলোর এখন উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে তাদের ক্ষমতা অসীম নয়। কেবল সামরিক শক্তি দ্বারা শান্তি, অর্থনৈতিক শক্তি দ্বারা স্থিতিশীলতা বা প্রযুক্তিগত শক্তি দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। তিনি ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন, বৈষম্য এবং পারস্পরিক আস্থার অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জলবায়ু সংকট এখন আর দূরবর্তী কোনো সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি একটি নির্মম বাস্তবতা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ নির্মাতাদেরও দিশেহারা করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার কথা উল্লেখ করে গুতেরেস জানান, মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এমন ভয়াবহ দৃশ্য তিনি আগে দেখেননি। তিনি বিশ্বকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ব্লকে বিভক্ত না করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার মূল চ্যালেঞ্জ হলো পরিবর্তিত ক্ষমতার কাঠামোর সাথে শাসনব্যবস্থার সামঞ্জস্যহীনতা। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন রাষ্ট্রগুলোর হাত থেকে গুটিকয়েক বেসরকারি কর্পোরেশন ও ধনকুবের ব্যক্তির হাতে চলে গেছে, যা রাজনীতি ও তথ্যের প্রবাহসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলছে।

গুতেরেস প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ব কি আরও বিভক্ত হবে, নাকি জাতিসংঘের নেতৃত্বে এক সুষম বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দিকে মোড় নেবে? তিনি দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে আন্তর্জাতিক সনদ রক্ষা ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করেন। তবে সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব। তিনি আরও জানান, তার সময়েই জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ নেতৃত্বে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন এক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, যা মহাসচিব হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনকালে আগে দেখিনি।’

২১ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘তহবিল সংকট ও নানা সমালোচনার মধ্যেও জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।’ জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রধান কার্যালয় ও পেশাদার পদে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

কেবল শক্তি দিয়ে বৈশ্বিক সংকট সমাধান সম্ভব নয়: গুতেরেস

আপডেট সময় : ১২:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, বর্তমান বিশ্বের সংকটগুলো এখন এক গভীর অতল খাদে পরিণত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে দেওয়া তার বিদায়ী ভাষণে তিনি বিশ্বনেতাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করেন যে, কেবল সামরিক, অর্থনৈতিক কিংবা প্রযুক্তিগত শক্তি দিয়ে বৈশ্বিক সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়।

গুতেরেস বলেন, পরাশক্তিগুলোর এখন উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে তাদের ক্ষমতা অসীম নয়। কেবল সামরিক শক্তি দ্বারা শান্তি, অর্থনৈতিক শক্তি দ্বারা স্থিতিশীলতা বা প্রযুক্তিগত শক্তি দ্বারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। তিনি ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন, বৈষম্য এবং পারস্পরিক আস্থার অভাবের দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, জলবায়ু সংকট এখন আর দূরবর্তী কোনো সতর্কবার্তা নয়, বরং এটি একটি নির্মম বাস্তবতা। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিত বিকাশ নির্মাতাদেরও দিশেহারা করে তুলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলার কথা উল্লেখ করে গুতেরেস জানান, মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে এমন ভয়াবহ দৃশ্য তিনি আগে দেখেননি। তিনি বিশ্বকে অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ব্লকে বিভক্ত না করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার মূল চ্যালেঞ্জ হলো পরিবর্তিত ক্ষমতার কাঠামোর সাথে শাসনব্যবস্থার সামঞ্জস্যহীনতা। ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু এখন রাষ্ট্রগুলোর হাত থেকে গুটিকয়েক বেসরকারি কর্পোরেশন ও ধনকুবের ব্যক্তির হাতে চলে গেছে, যা রাজনীতি ও তথ্যের প্রবাহসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে প্রভাব ফেলছে।

গুতেরেস প্রশ্ন তোলেন, বিশ্ব কি আরও বিভক্ত হবে, নাকি জাতিসংঘের নেতৃত্বে এক সুষম বহুপাক্ষিক ব্যবস্থার দিকে মোড় নেবে? তিনি দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে আন্তর্জাতিক সনদ রক্ষা ও বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ বন্ধ করার ওপর জোর দিয়ে তিনি নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে ‘অন্যায়’ বলে অভিহিত করেন। তবে সব সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনি উল্লেখ করেন যে, জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা সম্ভব। তিনি আরও জানান, তার সময়েই জাতিসংঘের ইতিহাসে প্রথমবার শীর্ষ নেতৃত্বে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে।

ইসরায়েলের নাম সরাসরি উচ্চারণ না করে তিনি বলেন, ‘২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের আক্রমণের পর গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর এমন এক হত্যাযজ্ঞ ও ধ্বংসলীলা চালানো হয়েছে, যা মহাসচিব হিসেবে আমার দায়িত্ব পালনকালে আগে দেখিনি।’

২১ শতকের নিরাপত্তা পরিষদে আফ্রিকার স্থায়ী প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে ‘অন্যায়’ আখ্যা দিয়ে গুতেরেস বলেন, ‘তহবিল সংকট ও নানা সমালোচনার মধ্যেও জাতিসংঘই একমাত্র জায়গা যেখানে শক্তিশালী পক্ষগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা যায়।’ জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম শীর্ষ নেতৃত্ব, প্রধান কার্যালয় ও পেশাদার পদে পুরুষের পাশাপাশি সমসংখ্যক নারী নিয়

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh