ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে ভারতের সঙ্গে সংলাপে আগ্রহী বাংলাদেশ বরগুনায় বিশ্ব দৃষ্টি দিবস পালন: বিনামূল্যে চিকিৎসা পেলেন শতাধিক মানুষ ইসরাইলের নির্বাচন ঘিরে ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা বাড়ার শঙ্কা পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি উপদেষ্টা হলেন অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী উপজেলা পরিষদের সভার কার্যবিবরণী ১৪ দিনের মধ্যে পাঠানোর নির্দেশ সিলেটের কৃষিপণ্য সরাসরি বিদেশে পাঠাতে ৩৮০ কোটি টাকার প্রকল্প টেক্সাসে ট্রাম্পের নির্বাচনী সমাবেশে বিক্ষোভকারীদের হট্টগোল ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রাম্পের সাড়ে ৮ ফুটের নগ্ন ভাস্কর্য ‘অরেঞ্জ প্লেগ’ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন ২৩ জানুয়ারি, আবেদন শুরু ১২ অক্টোবর ইউক্রেনে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা: ৫ শিশুসহ নিহত ৩২

সুনামগঞ্জে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে পিতার আত্মহত্যার চেষ্টা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন শিশুসন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেছেন এক পিতা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিন শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের বাবা সরাফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সরাফত আলীর সঙ্গে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লাকমা গ্রামের ভুট্টো মিয়ার মেয়ে ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে ফাতেমা তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান এবং সেখান থেকে স্বামীর কাছে ১০-১২ লাখ টাকা পাঠান। অভিযোগ রয়েছে, ফাতেমার পাঠানো টাকা সরাফত মাদক ও অনলাইন জুয়ায় ব্যয় করতেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। দুই বছর পর ফাতেমা দেশে ফিরে আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার তিন দিন আগে ফাতেমা পুনরায় সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা যান এবং শনিবার রাত ২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। একই সময়ে সরাফত আলী এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটান।

নিহত শিশুদের দাদি জানান, সরাফত আলী প্রথমে তিন সন্তানকে লিচুর সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান এবং পরে নিজেও বিষপান করেন। রাত আড়াইটার দিকে তিনি ঢাকায় তার ফুফু স্বরুপা বেগমকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজনরা ঘরের দরজা খুলে শিশুদের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও পরে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার দুপুরে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিষ মেশানো লিচুর বোতলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সরাফত আলী মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ জানান, সকাল ৮টার দিকে শিশুদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

সুনামগঞ্জে তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে পিতার আত্মহত্যার চেষ্টা

আপডেট সময় : ০৪:১২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী রজনী লাইন গ্রামে পারিবারিক কলহের জের ধরে তিন শিশুসন্তানকে বিষপান করানোর পর নিজেও বিষপান করেছেন এক পিতা। এই মর্মান্তিক ঘটনায় তিন শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাদের বাবা সরাফত আলীকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত শিশুরা হলো সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০), ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে সরাফত আলীর সঙ্গে শ্রীপুর উত্তর ইউনিয়নের লাকমা গ্রামের ভুট্টো মিয়ার মেয়ে ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে ফাতেমা তিন বছর আগে সৌদি আরবে যান এবং সেখান থেকে স্বামীর কাছে ১০-১২ লাখ টাকা পাঠান। অভিযোগ রয়েছে, ফাতেমার পাঠানো টাকা সরাফত মাদক ও অনলাইন জুয়ায় ব্যয় করতেন, যা নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। দুই বছর পর ফাতেমা দেশে ফিরে আর্থিক অবস্থার কোনো উন্নতি না দেখে স্বামীর সঙ্গে মনোমালিন্যে জড়িয়ে পড়েন। ঘটনার তিন দিন আগে ফাতেমা পুনরায় সৌদি আরব যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঢাকা যান এবং শনিবার রাত ২টার দিকে বিমানবন্দর থেকে রওনা হন। একই সময়ে সরাফত আলী এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটান।

নিহত শিশুদের দাদি জানান, সরাফত আলী প্রথমে তিন সন্তানকে লিচুর সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান এবং পরে নিজেও বিষপান করেন। রাত আড়াইটার দিকে তিনি ঢাকায় তার ফুফু স্বরুপা বেগমকে ফোন করে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে আত্মীয়স্বজনরা ঘরের দরজা খুলে শিশুদের মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের একটি চিকিৎসাকেন্দ্র ও পরে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

শনিবার দুপুরে তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ ফারুক আহমেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম ও বিষ মেশানো লিচুর বোতলসহ বিভিন্ন আলামত জব্দ করেন। প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, সরাফত আলী মাদক ও জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমেদ জানান, সকাল ৮টার দিকে শিশুদের মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। বর্তমানে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে এবং এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin