ঢাকা ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ক্লপ ও জাভির নতুন শুরুর ম্যাচে ড্র জার্মানি-নেদারল্যান্ডসের ছাতকে ক্যাম্পাসে হামলা ও ভাঙচুরের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ ট্রাম্প-শি বৈঠক: বিশ্বমঞ্চে দুই পরাশক্তির নতুন সমীকরণ ন্যাটো দেশে রাশিয়ার ‘সীমিত’ হামলার সতর্কতা ডেনমার্কের এশিয়ান গেমসে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ, ঘুচল বাংলাদেশের ৪০ বছরের অপেক্ষা বয়স লুকিয়ে পর্দায় অভিনয় করবেন না দীপা খন্দকার হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে এনসিপি ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ পল্টন থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করল ডিএসসিসি নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই জাতিসংঘে প্রতিনিধিদের গণ-ওয়াকআউট জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এখতিয়ারবহির্ভূত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেকায়দায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রশাসন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:২২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ০২। নিজের জেলার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে গিয়ে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা আদায় এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য জব্দ করার ঘটনায় চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এই অভিযান ঘিরে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি আইনি বৈধতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে, যখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন নাচোল উপজেলার ভেরেন্ডি বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি অভিযান চালায়। অভিযানে নিয়ামতপুর উপজেলার মুন্দিখৈর গ্রামের ‘চৌধুরী ট্রেডিং’-এর মালিক মো. হুমায়ুন চৌধুরীর গোডাউন থেকে ১৫ ব্যারেল ডিজেল জব্দ করা হয় এবং তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে ব্যবসায়ীর স্বজনদের দাবি, অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বারবার জানানো হয়েছিল যে, গোডাউনটি পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সেই মৌখিক আপত্তি ও আইনি সীমানার বিষয়টি আমলে না নিয়েই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহমেদ রোবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। এমনকি বার্তা পাঠানোর পরেও তিনি কোনো উত্তর দেননি এবং মুঠোফোন বন্ধ রাখেন।

জব্দ করা তেল উদ্ধারের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। ঘটনার পরদিন শুক্রবার দুপুরে তেল উদ্ধার করতে গিয়ে প্রশাসন আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে। ওই সময় নিয়ামতপুরের গোডাউনের সামনে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও গ্রাম পুলিশকে পাহারায় থাকতে দেখা যায়। প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গোডাউন থেকে ডিজেল এনে ধানসুরা ফিলিং স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গোডাউনটি নিয়ামতপুরের ভেতরে হওয়ায় তিনি তা করতে পারেননি এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন চৌধুরীর ছেলে শিফাত চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের কাছে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের বিস্ফোরক লাইসেন্স রয়েছে এবং এই তেল ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের ১০টি গাড়ি চালানোর জন্য রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খানম বলেন, তাদের প্রশাসনিক এলাকায় অন্য কোনো জেলা এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে তেল উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

এখতিয়ারবহির্ভূত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে বেকায়দায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রশাসন

আপডেট সময় : ০৪:২২:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩: ০২। নিজের জেলার ভৌগোলিক সীমানার বাইরে গিয়ে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, জরিমানা আদায় এবং পেট্রোলিয়াম পণ্য জব্দ করার ঘটনায় চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন। এই অভিযান ঘিরে প্রশাসনিক সমন্বয়হীনতার পাশাপাশি আইনি বৈধতা নিয়েও বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত বৃহস্পতিবার রাতে, যখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসন নাচোল উপজেলার ভেরেন্ডি বাজারসংলগ্ন এলাকায় একটি অভিযান চালায়। অভিযানে নিয়ামতপুর উপজেলার মুন্দিখৈর গ্রামের ‘চৌধুরী ট্রেডিং’-এর মালিক মো. হুমায়ুন চৌধুরীর গোডাউন থেকে ১৫ ব্যারেল ডিজেল জব্দ করা হয় এবং তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তবে ব্যবসায়ীর স্বজনদের দাবি, অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে বারবার জানানো হয়েছিল যে, গোডাউনটি পার্শ্ববর্তী নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সেই মৌখিক আপত্তি ও আইনি সীমানার বিষয়টি আমলে না নিয়েই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাব্বির আহমেদ রোবেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাড়া দেননি। এমনকি বার্তা পাঠানোর পরেও তিনি কোনো উত্তর দেননি এবং মুঠোফোন বন্ধ রাখেন।

জব্দ করা তেল উদ্ধারের ক্ষেত্রেও দেখা দিয়েছে জটিলতা। ঘটনার পরদিন শুক্রবার দুপুরে তেল উদ্ধার করতে গিয়ে প্রশাসন আইনি মারপ্যাঁচে পড়ে। ওই সময় নিয়ামতপুরের গোডাউনের সামনে নাচোল ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ও গ্রাম পুলিশকে পাহারায় থাকতে দেখা যায়। প্যানেল চেয়ারম্যান জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে গোডাউন থেকে ডিজেল এনে ধানসুরা ফিলিং স্টেশনে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু গোডাউনটি নিয়ামতপুরের ভেতরে হওয়ায় তিনি তা করতে পারেননি এবং নওগাঁ জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

ব্যবসায়ী মো. হুমায়ুন চৌধুরীর ছেলে শিফাত চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের কাছে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের বিস্ফোরক লাইসেন্স রয়েছে এবং এই তেল ব্যবসার উদ্দেশ্যে নয়, বরং তাদের ১০টি গাড়ি চালানোর জন্য রাখা হয়েছিল।

এ বিষয়ে নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুর্শিদা খানম বলেন, তাদের প্রশাসনিক এলাকায় অন্য কোনো জেলা এসে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করার বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান পরিস্থিতির জটিলতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে নওগাঁ জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে এবং নিয়ম মেনে তেল উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh