টাঙ্গাইলে কলার চাষে নীরব বিপ্লব, সমৃদ্ধ হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতি
- আপডেট সময় : ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইল জেলায় কলার চাষ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। কম খরচ ও অল্প পরিশ্রমে ভালো লাভ হওয়ায় জেলার পাহাড়ি অঞ্চল ও যমুনার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে কলার বাগান গড়ে তুলে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয় কৃষকরা। আগে যেসব জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, এখন সেখানে সুস্বাদু অমৃতসাগর, মেহেরসাগর, চাম্পা ও সবরি কলার চাষ হচ্ছে। তবে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও হিমাগার না থাকায় অনেক সময় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলাতেই কম-বেশি কলার চাষ হচ্ছে। তবে মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের পাহাড়ি এলাকা এবং ভূঞাপুর, টাঙ্গাইল সদর ও কালিহাতীর চরাঞ্চলে এর উৎপাদন সবচেয়ে বেশি। বর্তমানে জেলায় প্রায় ৫ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের কলার চাষ হচ্ছে। এখানকার উৎপাদিত কলা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন নদী ও সড়কপথে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় চলে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকার কলার চাহিদার একটি বড় অংশ পূরণ করে মধুপুরের মেহেরসাগর কলা।
কলা চাষের বাস্তব অভিজ্ঞতা জানিয়ে ঘাটাইলের জোড়দিঘী এলাকার চাষি রহমত আলী বলেন, জমির লিজসহ প্রতি ছড়ি কলায় প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা খরচ হয়। বাজারে তা সর্বনিম্ন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। তবে তিনি হিসাব করে জানান, এক বিঘায় প্রায় ৩৫০টি কলার গাছ লাগানো হলেও সব গাছ থেকে ফলন পাওয়া যায় না। বিক্রির সময় প্রায় ৫০টি গাছের ক্ষতি ধরে লাভ-ক্ষতির হিসাব করতে হয়।
দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কলা চাষ করছেন চাষি আমিরুল ইসলাম। বর্তমানে তার তিন একর জমিতে কলার বাগান রয়েছে এবং এ বছর তিনি আরও চার একর জমিতে চাষ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন, "কলা চাষ বেশ লাভজনক। প্রতি গাছে প্রায় ২০০ টাকা খরচ করে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়। তবে সিগাটোকা রোগের কারণে পাতাগুলো মরে লাল হয়ে যায়। এই রোগ না হলে চাষে আরও ভালো লাভ করা সম্ভব।"
টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আশেক পারভেজ জানান, কৃষকদের উন্নত জাতের কলা সরবরাহের লক্ষ্যে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রদর্শনী ও সহায়তামূলক প্রকল্প পরিচালনা করা হচ্ছে। যেসব জমিতে পানামা বা সিগাটোকা রোগের প্রকোপ দেখা দেয়, সেখানে কৃষকদের বিকল্প হিসেবে পেঁপে, আখ ও তরমুজ চাষের পরামর্শ এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও হিমাগার স্থাপন করা গেলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে টাঙ্গাইলের কলা ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাজারেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।





























