বিকল্প পথে তেলের সরবরাহ, বিশ্ববাজারে কমলো দাম
- আপডেট সময় : ০৬:২৪:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগ কিছুটা কেটে যাওয়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম হ্রাস পেয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার মাঝেই এশিয়ার শোধনাগারগুলোতে বিকল্প উপায়ে অতিরিক্ত তেল পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ওমানের উপকূলবর্তী এলাকায় এক জাহাজ থেকে অন্য জাহাজে তেল স্থানান্তরের (শিপ-টু-শিপ) মাধ্যমে এই সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ খবরে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ অনেকটাই কমেছে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৯২ ডলার বা ২ দশমিক ৭ শতাংশ কমে ১০৫ দশমিক ৮৩ ডলারে নেমে এসেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ দশমিক ৪০ ডলার কমে ১০২ দশমিক ৪৩ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মঙ্গলবার তেলের দাম তিন ডলারের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার পর বিশ্ববাজারে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা কাটাতে রিয়াদ ওমানের সোহার বন্দরের কাছে জাহাজ থেকে জাহাজে তেল স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয়। ইউবিএসের বিশ্লেষক জিওভানি স্তাউনোভো এ প্রসঙ্গে জানান, উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সৌদি আরবের তেল রপ্তানি সচল রাখার এই বিকল্প উদ্যোগ বাজারে বড় ধরনের সংকটের আশঙ্কা কমিয়ে এনেছে।
এর আগে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনে হামলার জেরে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে অপরিশোধিত তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে ইউরোপের কিছু ক্রেতার জন্য তেলের চালান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছিল রিয়াদ। ইরানের সাথে দ্বন্দ্বের জেরে ইয়ানবু বন্দরটি সৌদি আরবের তেল রপ্তানির অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছিল। এদিকে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমেছে। প্রাথমিক জাহাজ চলাচলের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাত্র চারটি জাহাজ পার হয়েছে, যা তার আগের দিনের সাতটি এবং গত ১০ দিনের গড় ১৮টির তুলনায় অনেক কম।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমার পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত সংক্রান্ত তথ্যও প্রভাব ফেলেছে। মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন এডমিনিস্ট্রেশনের (আইইএ) তথ্যমতে, গত সপ্তাহে দেশটির অপরিশোধিত তেলের মজুত কমেছে প্রায় ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল। তবে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশা ছিল এই কমার পরিমাণ হবে ১৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। প্রত্যাশার চেয়ে কম মজুত হ্রাস পাওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে গ্যাসোলিন ও ডিস্টিলেটের (ডিজেল) মজুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্লেষক জন কিলডাফ মনে করেন, পরিশোধিত জ্বালানির মজুত স্থিতিশীল থাকা ও বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তেলের দামের ওপর এক ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এখনো তেলের বাজারের জন্য অন্যতম বড় ঝুঁকি। সম্প্রতি ইয়েমেনে সৌদি বিমান হামলা এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর লক্ষ্য করে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে জটিল করে রেখেছে। হুথিরা ইয়ানবু বন্দরেও নতুন করে হামলার দাবি করেছে। সিটি গ্রুপের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত অব্যাহত থাকলে অপরিশোধিত ও পরিশোধিত জ্বালানির বাজারে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব থাকবে। তবে ব্যাংকটির অনুমান, আঞ্চলিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে ২০২৬ সালের চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবারও পুরোপুরি সচল হতে পারে।





























