সিরাজগঞ্জে আখের বাম্পার ফলন, বাজারে নতুন গুড় বিক্রি করে লাভবান কৃষকেরা
- আপডেট সময় : ০১:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

শীতের আগমনীর আবহ শুরু হতেই সিরাজগঞ্জে জমে উঠেছে আখ মাড়াই ও নতুন গুড় তৈরির কাজ। জেলাজুড়ে এবার নানা জাতের আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। বাজারে নতুন তৈরি গুড় উঠতে শুরু করায় এবং দাম ভালো পাওয়ায় স্থানীয় চাষিদের মুখে আনন্দের হাসি ফুটেছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় মুনাফা বেশি হওয়ায় প্রতিবছরই এ অঞ্চলে এই লাভজনক ফসলটির চাষাবাদ বাড়ছে।
কৃষি বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও বেলকুচি উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও যমুনার চরাঞ্চলে বিপুল পরিমাণ জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। সাধারণত উঁচু ও দোআঁশ জমি আখ চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। কয়েক মাস আগে কৃষকেরা তিন চোখের ডাঁট বা টুকরা রোপণ করে এই চাষ শুরু করেন। এছাড়া তিন থেকে চার বছর মেয়াদি আখের মোতা থেকেও পুনরায় নতুন আখ গজায়। ফলে নতুন করে জমি প্রস্তুতের খরচ কমে যায় এবং দীর্ঘমেয়াদি এই পদ্ধতিতে কৃষকেরা কম খরচে বেশি লাভ করতে পারেন।
ইতিমধ্যে হাট-বাজারে নতুন গুড় বিক্রি শুরু হয়েছে। বর্তমানে তিন পোয়া ওজনের প্রতি ডিমা গুড় গড়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সম্পূর্ণ খাঁটি গুড় প্রতি কেজি বিকোচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। অনেকে আবার প্রতি বিঘা জমির পুরো আখ ক্ষেত এককালীন ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন। এর পাশাপাশি শহর ও বিভিন্ন বন্দর এলাকায় যানবাহনে করে কাঁচা আখ বিক্রি হতে দেখা যাচ্ছে। শহরের রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে মেশিনের সাহায্যে মাড়াই করা টাটকা আখের রসের চাহিদাও তুঙ্গে, যা প্রতি গ্লাস ১৫ থেকে ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যমুনা নদীর তীরবর্তী সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার পারপাঁচিল গ্রামের দুই চাষি আব্দুর রাজ্জাক ও আনোয়ার হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে তারা ৭ বিঘা জমিতে আখ চাষ করেছেন। এসব জমির সিংহভাগই আগের আখের মোতা থেকে নেওয়া। মাড়াই কাজ শুরু করে তারা নতুন গুড় বাজারজাত করছেন এবং বর্তমানের ভালো দামে বেশ লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করছেন।
তবে নতুন গুড় তৈরিতে কিছু অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগও উঠেছে। গুড়ের ওজন ও মিষ্টতা বাড়াতে অসাধু কিছু চক্র আটা, চিনি ও সোডা মেশাচ্ছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। যদিও অনেক স্থানীয় চাষির দাবি, আটা বা চিনি মেশানোকে তারা ভেজাল বলে মনে করেন না।
সার্বিক বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত উপপরিচালক জেরিন আহম্মেদ জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় আখের বাম্পার ফলন হয়েছে। লাভজনক এই ফসলের ফলন বাড়াতে স্থানীয় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্র প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাড়াই কাজ ইতিমধ্যে শুরু হলেও পুরো শীত মৌসুমজুড়ে এটি পুরোদমে চলবে বলে জানান তিনি।




























