ঢাকা ০৯:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২১ আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৩৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে একটি নতুন কাঠামোয় পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা। সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্য ও বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না, বরং সম্পর্কের ভিত্তি, অগ্রাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থকে নতুন করে নির্ধারণ করতে আগ্রহী। ঢাকার ঘোষিত এই অবস্থানের মূল কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত ১৩ সেপ্টেম্বর জানান, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রথম বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় হওয়া স্বাভাবিক। এ সময় তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন উদ্বেগ কূটনৈতিক চ্যানেলে আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত প্রটোকল ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আলোকে উত্থাপনের কথাও জানান।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন যে, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সরকার পর্যালোচনা করছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের ব্যবস্থাপনাও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। তবে কোনো চুক্তি বাতিল হবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নুরুল ইসলাম মনি স্পষ্ট করেছেন, ভারত প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ রয়েছে, তবে সম্পর্ক পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৫ ও ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের বন্দর ও নৌপথ ব্যবহার করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিবহনের সুযোগ পায়। তবে এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের অংশ। বাংলাদেশ এখন যাচাই করতে চাইছে, এই সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে দেশ কী ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, স্থানীয় অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব কী এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার কতটা সুরক্ষিত আছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, রেল, সড়ক, অভ্যন্তরীণ নৌপথ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পানি বণ্টনের মতো দীর্ঘদিনের আন্তঃনির্ভরতা রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে, তিস্তা ও অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা সামনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের তথ্যেও চুক্তিটির ৩০ বছরের মেয়াদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ঢাকা এখন চাইছে বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে।

পরিশেষে, ঢাকার এই নতুন নীতিকে কেবল ‘ভারতবিরোধী’ বা ‘ভারতঘনিষ্ঠ’ হিসেবে না দেখে একটি স্বার্থভিত্তিক কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন বহুমুখী বৈদেশিক সম্পর্কের মাধ্যমে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান আন্তঃনির্ভরতাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক কাঠামোয় নিয়ে আসা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ঢাকা

আপডেট সময় : ০২:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ২১ আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৩৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে একটি নতুন কাঠামোয় পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়েছে ঢাকা। সাম্প্রতিক সরকারি বক্তব্য ও বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ থেকে এটি স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে চায় না, বরং সম্পর্কের ভিত্তি, অগ্রাধিকার এবং পারস্পরিক স্বার্থকে নতুন করে নির্ধারণ করতে আগ্রহী। ঢাকার ঘোষিত এই অবস্থানের মূল কেন্দ্রে রয়েছে জাতীয় স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং সরাসরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির গত ১৩ সেপ্টেম্বর জানান, বাংলাদেশ ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ‘রিসেট’ করতে চায় এবং নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন, ভালো সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য প্রথম বৈঠকটি দ্বিপক্ষীয় হওয়া স্বাভাবিক। এ সময় তিনি সীমান্তে হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন উদ্বেগ কূটনৈতিক চ্যানেলে আন্তর্জাতিক আইন, সীমান্ত প্রটোকল ও বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির আলোকে উত্থাপনের কথাও জানান।

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি জানিয়েছেন যে, আগের সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি সরকার পর্যালোচনা করছে। চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের ব্যবস্থাপনাও এই পর্যালোচনার আওতায় রয়েছে। তবে কোনো চুক্তি বাতিল হবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। নুরুল ইসলাম মনি স্পষ্ট করেছেন, ভারত প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ রয়েছে, তবে সম্পর্ক পরিচালনায় জাতীয় স্বার্থই অগ্রাধিকার পাবে।

চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের বিষয়টি এই সম্পর্কের ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৫ ও ২০১৮ সালের চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় পণ্য বাংলাদেশের বন্দর ও নৌপথ ব্যবহার করে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিবহনের সুযোগ পায়। তবে এই পর্যালোচনার উদ্দেশ্য কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের অংশ। বাংলাদেশ এখন যাচাই করতে চাইছে, এই সুবিধা প্রদানের বিনিময়ে দেশ কী ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা পাচ্ছে, স্থানীয় অবকাঠামো ও পরিবহন ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব কী এবং বন্দর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নিজস্ব অগ্রাধিকার কতটা সুরক্ষিত আছে।

দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, রেল, সড়ক, অভ্যন্তরীণ নৌপথ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং পানি বণ্টনের মতো দীর্ঘদিনের আন্তঃনির্ভরতা রয়েছে। বিশেষ করে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে, তিস্তা ও অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা সামনে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠতে পারে। বাংলাদেশের যৌথ নদী কমিশনের তথ্যেও চুক্তিটির ৩০ বছরের মেয়াদের কথা উল্লেখ রয়েছে। ঢাকা এখন চাইছে বহুপক্ষীয় অনুষ্ঠানের চেয়ে প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে দ্বিপক্ষীয় সফরের মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে।

পরিশেষে, ঢাকার এই নতুন নীতিকে কেবল ‘ভারতবিরোধী’ বা ‘ভারতঘনিষ্ঠ’ হিসেবে না দেখে একটি স্বার্থভিত্তিক কূটনৈতিক পুনর্বিন্যাসের প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন বহুমুখী বৈদেশিক সম্পর্কের মাধ্যমে নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো এবং বিদ্যমান আন্তঃনির্ভরতাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও পারস্পরিক সুবিধাভিত্তিক কাঠামোয় নিয়ে আসা।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh