হুতিদের মোকাবিলায় ইসরাইলের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চাইল সৌদি আরব
- আপডেট সময় : ০৬:২৯:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতিদের ক্রমবর্ধমান হামলা মোকাবিলায় ইসরাইলের কাছে গোয়েন্দা সহায়তা চেয়েছে সৌদি আরব। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মাধ্যমে রিয়াদ এই সহায়তা চেয়েছে বলে ইসরাইলি গণমাধ্যম ইসরাইল হায়োম, ওয়ালা এবং দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। হুতিদের অগ্রসর হওয়া, কৌশলগত দ্বীপ দখল এবং সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর, বিমানঘাঁটি ও তেল অবকাঠামোয় হামলার প্রেক্ষাপটে এই যোগাযোগের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরাইলি সেনা মোতায়েন বা সরাসরি কোনো সামরিক হস্তক্ষেপের তথ্য পাওয়া যায়নি। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও হুমকি শনাক্তকরণে সহায়তা। সৌদি বা ইসরাইল কেউই আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত করেনি।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নতুন মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার জোর তৎপরতা চলছে। গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে এক দেশের ওপর হামলাকে সবার ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করার কথা বলা হয়েছে। ৩১ আগস্ট ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত প্রথম প্রাতিষ্ঠানিক বৈঠকে সৌদি আরবে একটি সচিবালয় ও কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া পাকিস্তানের সাথে সৌদির ২০২৫ সালের কৌশলগত পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে, যার আওতায় প্রায় ৮ হাজার পাকিস্তানি সেনা, যুদ্ধবিমান ও একটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সৌদিতে মোতায়েন আছে। এ ছাড়া পাকিস্তান ও তুরস্ককে নিয়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন একটি বহুপক্ষীয় সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটও রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান সামরিক ও প্রতিরক্ষা কাঠামোর বাইরে গিয়ে ইসরাইলের কাছে সহায়তা চাওয়ার পেছনে সক্ষমতার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ইসরাইলের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে গোয়েন্দা ও নজরদারি সহযোগিতার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে, বিশেষ করে সামুদ্রিক ক্ষেত্রে। অন্যদিকে, তুরস্ক ও পাকিস্তান ইরানের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখায় হুতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হওয়া তাদের জন্য কূটনৈতিকভাবে জটিল হতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে রিয়াদ একাধিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের মুখে রয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর হুতিরা পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং তার আগের দিন ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের পেট্রোলাইন পাইপলাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই জটিল প্রেক্ষাপটে দ্রুত গোয়েন্দা সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যেই ইসরাইলের সাথে যোগাযোগের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, মক্কায় সম্ভাব্য আকাশ হামলার আশঙ্কায় সেখানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।



























