ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মাদারগঞ্জে অনিয়মের দায়ে দুই ফার্মেসিকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা নেত্রকোনা-১ আসনের সাবেক এমপি মোশতাক আহমেদ রুহী গ্রেপ্তার নিউ ইয়র্কে নামছে না নেতানিয়াহুর উড়োজাহাজ মূল্যস্ফীতির চাপে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখল কেন্দ্রীয় ব্যাংক টাকায় আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে নতুন নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের পাকিস্তান–চীন নতুন সীমান্ত চুক্তি নিয়ে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া গুলশানে ককটেল বিস্ফোরণ মামলায় ১৫ আসামির ৩ দিনের রিমান্ড ক্ষমতার পাঁচ মাসে কেন হতাশ পশ্চিমবঙ্গের মানুষ, কী বলছে পরিস্থিতি মাদরাসা প্রধানদের ইআইআইএনভিত্তিক সিম কার্ড সচল রাখার নির্দেশ পাংশায় প্রবাসীর স্ত্রী রুনা হত্যায় প্রধান আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বাংলা কিউআর কোডের অপব্যবহার: ঝুঁকিতে এমএফএস খাতের ২০ লাখ এজেন্ট

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



দৈনন্দিন কেনাকাটার বিল পরিশোধের জন্য চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ কোড এখন অনেক ক্ষেত্রে নগদ টাকা উত্তোলনের অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পণ্য বা সেবা বিক্রেতা মার্চেন্ট কোনো পণ্য বিক্রি ছাড়াই কিউআর কোডের মাধ্যমে গ্রাহকদের নগদ অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিচ্ছেন। এই অপব্যবহারের ফলে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা এজেন্ট ইকোসিস্টেম বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে সারা দেশে এমএফএস খাতে প্রায় ২০ লাখ এজেন্ট রয়েছে, যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

এমএফএস ইকোসিস্টেম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক যখন এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করেন, তখন তাকে ১২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মাশুল দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ আউটে গ্রাহককে সর্বনিম্ন ৩৮৭ টাকা ফি দিতে হয়। কিন্তু মার্চেন্টদের মাধ্যমে কিউআর কোড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বা নামমাত্র খরচে বড় অঙ্কের টাকা তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। এই মার্চেন্টদের এক ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান ৪-৫টি পর্যন্ত বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে। এতে একদিকে গ্রাহক যেমন ফি সাশ্রয় করছেন, অন্যদিকে মার্চেন্টরা কোনো পণ্য বিক্রি ছাড়াই বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন।

এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এই অপব্যবহারের ফলে তাদের ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম নষ্ট হচ্ছে এবং অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে কিউআর কোডে। এমএফএস লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও বাংলা কিউআর লেনদেনে সেই ধরনের সীমা না থাকায় এটি অবৈধ লেনদেনের সুযোগ করে দিচ্ছে। গত জুলাই মাসে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর থেকে সারা দেশে ৩৫ লাখ মার্চেন্ট কিউআর কোড স্থাপন করেছে, যা এখন নগদ অর্থ উত্তোলনের বিকল্প ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

অস্বাভাবিক লেনদেনের বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরে এসেছে। যেমন নেত্রকোনার ৩০ বছর বয়সী জাকিয়া আফরিন নামের বিকাশের এক গ্রাহক গত ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট দুটি ব্যাংকের কিউআর কোড ব্যবহার করে ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯০ টাকা লেনদেন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক গ্রাহক দুই দিনে ৪০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব লেনদেনের প্রেরক ও অর্থের গতিপথ অজানা। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং মার্চেন্টভিত্তিক লেনদেনের সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে।

আগামী অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণে বিক্রেতাদের খরচ শূন্য করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ মনে করেন, তড়িঘড়ি করে এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা এবং মাশুল প্রত্যাহার করায় মার্চেন্টরা পণ্য বিক্রির বদলে অর্থ উত্তোলনের ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং অবৈধ অর্থের লেনদেনের সুযোগ বাড়বে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এই সুবিধার অপব্যবহার হলে আইনের আওতায় শাস্তির সুযোগ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

বাংলা কিউআর কোডের অপব্যবহার: ঝুঁকিতে এমএফএস খাতের ২০ লাখ এজেন্ট

আপডেট সময় : ০১:১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দৈনন্দিন কেনাকাটার বিল পরিশোধের জন্য চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ কোড এখন অনেক ক্ষেত্রে নগদ টাকা উত্তোলনের অনানুষ্ঠানিক মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পণ্য বা সেবা বিক্রেতা মার্চেন্ট কোনো পণ্য বিক্রি ছাড়াই কিউআর কোডের মাধ্যমে গ্রাহকদের নগদ অর্থ উত্তোলনের সুবিধা দিচ্ছেন। এই অপব্যবহারের ফলে মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা বা এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গড়ে তোলা এজেন্ট ইকোসিস্টেম বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমানে সারা দেশে এমএফএস খাতে প্রায় ২০ লাখ এজেন্ট রয়েছে, যারা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে।

এমএফএস ইকোসিস্টেম অনুযায়ী, একজন গ্রাহক যখন এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউট করেন, তখন তাকে ১২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে ১৮ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত মাশুল দিতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী ৩০ হাজার টাকা ক্যাশ আউটে গ্রাহককে সর্বনিম্ন ৩৮৭ টাকা ফি দিতে হয়। কিন্তু মার্চেন্টদের মাধ্যমে কিউআর কোড ব্যবহার করলে গ্রাহকরা কোনো ধরনের ফি ছাড়াই বা নামমাত্র খরচে বড় অঙ্কের টাকা তোলার সুযোগ পাচ্ছেন। এই মার্চেন্টদের এক ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান ৪-৫টি পর্যন্ত বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে। এতে একদিকে গ্রাহক যেমন ফি সাশ্রয় করছেন, অন্যদিকে মার্চেন্টরা কোনো পণ্য বিক্রি ছাড়াই বাড়তি অর্থ পাচ্ছেন।

এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, এই অপব্যবহারের ফলে তাদের ব্যবসায়িক ইকোসিস্টেম নষ্ট হচ্ছে এবং অর্থ পাচারের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৩৭ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে কিউআর কোডে। এমএফএস লেনদেনে বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর বিধিনিষেধ থাকলেও বাংলা কিউআর লেনদেনে সেই ধরনের সীমা না থাকায় এটি অবৈধ লেনদেনের সুযোগ করে দিচ্ছে। গত জুলাই মাসে বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর থেকে সারা দেশে ৩৫ লাখ মার্চেন্ট কিউআর কোড স্থাপন করেছে, যা এখন নগদ অর্থ উত্তোলনের বিকল্প ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

অস্বাভাবিক লেনদেনের বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যে এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরে এসেছে। যেমন নেত্রকোনার ৩০ বছর বয়সী জাকিয়া আফরিন নামের বিকাশের এক গ্রাহক গত ১৪ থেকে ১৮ আগস্ট দুটি ব্যাংকের কিউআর কোড ব্যবহার করে ৩৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৯০ টাকা লেনদেন করেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেক গ্রাহক দুই দিনে ৪০ লাখ টাকা লেনদেন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব লেনদেনের প্রেরক ও অর্থের গতিপথ অজানা। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং মার্চেন্টভিত্তিক লেনদেনের সীমা বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে।

আগামী অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণে বিক্রেতাদের খরচ শূন্য করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিআইডিএসের সাবেক মহাপরিচালক কে এ এস মুরশিদ মনে করেন, তড়িঘড়ি করে এই ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা এবং মাশুল প্রত্যাহার করায় মার্চেন্টরা পণ্য বিক্রির বদলে অর্থ উত্তোলনের ব্যবসায় ঝুঁকে পড়েছে। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে এবং অবৈধ অর্থের লেনদেনের সুযোগ বাড়বে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানিয়েছেন, এই সুবিধার অপব্যবহার হলে আইনের আওতায় শাস্তির সুযোগ রয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo