শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা अभिनेत्री: স্পিকার হাফিজ
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম। তিনি অভিযোগ করেন, গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের গণভবনে ডেকে সান্ত্বনা দিলেও শেখ হাসিনা নিজেই জানতেন তারা কোথায় আছেন এবং তিনিই ছিলেন এসব গুমের মূল নির্দেশদাতা।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় ভোলার লালমোহন উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্পিকার এসব কথা বলেন। লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের উদ্যোগে বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্পিকার হাফিজ বলেন, শেখ হাসিনা গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী-সন্তানদের মাথায় হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন, অথচ তাঁর ভেতরেই লুকিয়ে থাকত গুমের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব। আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে গুমের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে গেছে। এ সময় তিনি একজন ব্যারিস্টারকে দীর্ঘ আট বছর হাতকড়া পরিয়ে আয়না ঘরে বন্দি রাখার নির্মমতার কথা উল্লেখ করেন, যিনি শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর মুক্ত হয়ে বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ব্যাপক লুটপাটের চিত্র তুলে ধরে স্পিকার বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ৬০ হাজার টাকা এবং একটি পর্দার দাম ৪২ হাজার টাকা ধরা হয়েছিল। এছাড়া তৎকালীন একজন ভূমি প্রতিমন্ত্রীর লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, ধারাবাহিক উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ না করে কেবল টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।
লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, বিগত সরকারের এখানকার স্থানীয় এমপি ছিলেন একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনদুপুরে তাঁর নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ভাঙচুর এবং রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল। সে সময় তাঁর নির্বাচনী প্রধান সমন্বয়ক ও ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে জখম করা হয়, যাকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েও তিনি ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালনায় সভার শেষ পর্যায়ে এক ব্যতিক্রমী ঘটনা ঘটে। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে জানতে চান, তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তারা সন্তুষ্ট কি না। এ সময় সংসদীয় পদ্ধতির আদলে ‘হ্যাঁ-না’ ভোট নেওয়া হলে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয় এবং উপস্থিত নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের করতালির মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি ঘটে।



























