নারীর অধিকারের পাশাপাশি দায়িত্ব সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে: নূরুন্নিসা সিদ্দিকা
- আপডেট সময় : ০৫:২০:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

নারীদের শুধু অধিকার আদায়ের আন্দোলন করলেই হবে না, বরং নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কেও সমানভাবে সচেতন হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি। তিনি বলেন, শুধু নারীর অধিকার নিয়ে চিৎকার করলে চলবে না; অধিকারের পাশাপাশি নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কেও সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে।
শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সীরাত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। “কর্মজীবী নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নীতিমালা” শীর্ষক এই সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক রোজিনা আক্তার।
নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এমপি দেশের উৎপাদন ও অর্থনীতিতে নারীদের অনবদ্য অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, একজন কৃষক মাঠ থেকে ফসল ঘরে তোলার পর সেই কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত পরিবারের নারী সদস্যরাও সমানভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এভাবে পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও দেশের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি সচল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
মানবসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিটি শিশু একটি মুখ নিয়ে খাবারের জন্য এবং দুটি হাত নিয়ে উপার্জনের জন্য জন্ম নেয়। সেই হাত দুটিকে কর্মক্ষম করে গড়ে তুলতে মায়েদের পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে। দেশের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠী এবং ২০২৪ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের হতাহতদের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে সাত শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধী। সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকার যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এর ফলে আট শতাধিক মানুষ তাদের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন এবং ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বিভিন্নভাবে আঘাত পেয়ে প্রতিবন্ধী হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের ‘শেষ স্বৈরাচারী’ শেখ হাসিনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সীরাত অনুসরণ করে সমাজ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মারদিয়া মমতাজ এমপি এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট লেখিকা ও নারী সংগঠক কামরুন্নেসা মাকসুদা।
অনুষ্ঠানে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে একটি ২০ দফা দাবি উত্থাপন ও অনুমোদন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা, নতুন মজুরি বোর্ড গঠন, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রতি বছর মজুরি পুনর্নির্ধারণ এবং বন্ধ থাকা কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা।
এছাড়াও শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে ছাঁটাই ও কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধ করা, শ্রম আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, শ্রম আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা, নারী শ্রমিকদের জন্য ৬ মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রদান এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ, আবাসন, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে এই সেমিনারে।





























