এক্সপ্রেসওয়েতে বাইক রেস করতে গিয়ে প্রাণ গেল তরুণের
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

মাদারীপুর জেলার শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল প্রতিযোগিতা (রেস) করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক তরুণ আরোহী নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এক্সপ্রেসওয়ের শিবচর হাইওয়ে থানা সংলগ্ন বাচামারা এলাকায় ঢাকাগামী লেনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত ওই মোটরসাইকেল চালকের নাম সাকিবুল হাসান (১৯)। তিনি মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া মৌহালী এলাকার তরিকুল ইসলামের ছেলে। সাকিবের পরিচিতদের কাছ থেকে জানা গেছে, ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় বাইক রেস করতেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ থেকে বন্ধুদের নিয়ে ১১টি মোটরসাইকেলে চড়ে ফরিদপুর হয়ে ভাঙ্গা চৌরাস্তা এলাকায় আসেন সাকিব। সেখানে ফরিদপুর থেকে তাদের সঙ্গে আরও ৯ জন বাইকার যুক্ত হন। ভাঙ্গা থেকে পদ্মা সেতু পর্যন্ত তাদের এই বাইক রেস করার কথা ছিল। তবে শিবচরের আড়িয়াল খাঁ সেতু পার হয়ে অত্যন্ত দ্রুতগতিতে যাওয়ার সময় সাকিবের মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এক্সপ্রেসওয়ের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই সাকিবের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পরপরই তার বন্ধুরা রক্তাক্ত অবস্থায় সাকিবকে সেখানে ফেলে রেখে দ্রুত পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে শিবচর হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত সাকিবের বান্ধবী আরোহী আক্তার ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, "আমরা মানিকগঞ্জ থেকে দৌলতদিয়া ফেরি পার হয়ে ফরিদপুর আসি। সেখান থেকে আরও ৯ জন আমাদের সঙ্গে যোগ দেয়। আমরা ভাঙ্গা এলাকায় পৌঁছানোর পর আমাকেসহ আরেক বান্ধবীকে সেখানে রেখে ওরা বাইক রেসিংয়ে চলে যায়। পরে খবর পাই সাকিবের দুর্ঘটনা ঘটেছে। আমি ভাঙ্গা থেকে ঘটনাস্থলে এসে দেখি সাকিব মারা গেছে। রেসিংয়ে অংশ নেওয়া অন্য বন্ধুরা কেউ সাহায্য করতে এগিয়ে আসেনি, বরং দুর্ঘটনা দেখেই তারা পালিয়ে গেছে।"
শিবচর হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মামুন জানান, দুপুরের পর এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। তবে সেখানে নিহতের পরিচিত কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা বন্ধুদের সঙ্গে দ্রুতগতিতে বাইক চালাচ্ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর তার বন্ধুরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। বর্তমানে নিহতের মরদেহ হাইওয়ে থানায় রাখা হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা এলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




























