শিক্ষকদের মূল্যায়ন নিয়ে ডাকসুর ওয়েবসাইট, প্রশ্ন তুলল ঢাবি প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৩:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পাঠদানের মান ও পেশাদারত্ব যাচাই করতে শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। এই উদ্দেশ্যে ‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মানদণ্ডে শিক্ষকদের রেটিং দিতে পারবেন। বৃহস্পতিবার ডাকসু ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ওয়েবসাইটের উদ্বোধন করা হয়।
‘ডিইউ ইভাল্যুয়েশন’ ওয়েবসাইটে শিক্ষকদের মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি নির্দিষ্ট বিষয় রাখা হয়েছে। ডাকসু নেতাদের ভাষ্যমতে, ওয়েবসাইটটিতে কোর্সের কাঠামো ও পাঠ্যসূচি, শিক্ষাদান পদ্ধতি, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ, পরীক্ষা ও মূল্যায়ন, পেশাদারত্ব এবং সার্বিক সন্তুষ্টির মতো বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে শিক্ষকদের রেটিং পয়েন্ট দেওয়া হচ্ছে। আবার কারও রেটিং নেমে এসেছে ১ কিংবা ২-এ। কোনো শিক্ষার্থী তাদের একাডেমিক ই-মেইল ব্যবহার করে কোড সংগ্রহের মাধ্যমে ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে কেবল নিজ বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়ন করতে পারবেন। অন্য বিভাগের শিক্ষকদের মূল্যায়নের সুযোগ এখানে নেই। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার তত্ত্বাবধানে এই ওয়েবসাইটটি পরিচালিত হচ্ছে। দুই দিন আগে পরীক্ষামূলকভাবে চালু হওয়ার পর ইতিমধ্যে প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী শিক্ষকদের মূল্যায়ন করেছেন। আগামী সাত দিন পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলার পর প্রাপ্ত সমালোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে তিন মাসের মতামতের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম জানান, নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবং প্রশাসনিকভাবে কার্যকর কোনো মূল্যায়ন ব্যবস্থা না থাকায় ডাকসু এই উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর দাবি, এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধ তৈরি নয়, বরং পাঠদানের মান উন্নয়ন করা।
তবে ডাকসুর এই উদ্যোগ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা রয়েছে, যা সর্বোচ্চ পর্যায়ে অনুমোদিত। তিনি মনে করেন, এ ধরনের মূল্যায়ন ডাকসুর কাজের মধ্যে পড়ে না এবং এটি কোনো অফিশিয়াল মূল্যায়ন নয়। সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীও এই উদ্যোগকে সঠিক মনে করছেন না। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে নিজস্ব মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রেখেছে, যা ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হবে। তিনি আরও বলেন, ডাকসুর পাবলিকলি এই ওয়েবসাইট তৈরি করাটা কোনোভাবেই সঠিক নয়।
এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. খোরশেদ আলম এই উদ্যোগকে ‘অনধিকার চর্চা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এর ফলে ক্যাম্পাসে বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে এবং অনানুষ্ঠানিক এই রেটিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা উল্টো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

























