ঢাকা ০৪:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চরফ্যাশনে ৩০ বছর ধরে গাছ লাগিয়ে সড়ক সবুজ করলেন ইমাম রেজাউল অনাপত্তি সনদ বাতিল: ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ সিরাজগঞ্জে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ৪০০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিল ফাউন্ডেশন আফগানিস্তানের আটটি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের বাংলাদেশ পুলিশের ১৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন পদায়ন গুলশান ও বনানী থানায় নতুন ওসি নিয়োগ কমিউনিটি পুলিশ কাবাডি চ্যাম্পিয়নশিপে পটুয়াখালীতে সেরা দশমিনার আরিফ ট্রাম্পের হুমকিকে কৌশলগত হতাশা বলে আরও তীব্র হামলার হুঁশিয়ারি ইরানের সরকারি সব কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে, বাদ পড়ছেন আওয়ামীপন্থীরা সরকারি কলেজের ক্লাস রুটিন চেয়ে মাউশির জরুরি নির্দেশনা জারি

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পাটের বাম্পার ফলন, দাম পেয়ে খুশি কৃষকেরা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৩০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হওয়ায় উপজেলার কৃষকেরা গত মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়িয়ে তা শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। সড়কের পাশের খাল, ডোবা ও নালায় পাটের আঁটি জাগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও শ্রমিকেরা পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কোথাও বাড়ির উঠান ও খোলা জায়গায় মেলে দেওয়া হয়েছে কাঁচা আঁশ। পাট প্রক্রিয়াজাতকরণকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে এক ধরনের কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কালিয়াবিল গ্রামের কৃষক হান্নান, খালেক ও দবির জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় তারা উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভের আশা করছেন। মো. আব্দুল আজিজ ফেকু নামে আরেকজন কৃষক জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকেরা জানান, পাট চাষে বীজ, সার, জমি প্রস্তুত, শ্রমিকের মজুরি, পাট কাটা ও জাগ দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। বিশেষ করে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়াও তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের দাবি, পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে এবং আগামীতে কৃষকেরা আবাদ বাড়াতে আগ্রহী হবেন।

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল হক জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ৯০০ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। যেখানে প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়েছে। তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বীজ বপন থেকে শুরু করে পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ সংরক্ষণ—প্রতিটি ধাপে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলন ও অনুকূল বাজার পরিস্থিতির কারণে আগামী মৌসুমে রায়গঞ্জে পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’ পাটের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে পাটের বাম্পার ফলন, দাম পেয়ে খুশি কৃষকেরা

আপডেট সময় : ০১:৩০:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন ও বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় চাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলন ভালো হওয়ায় উপজেলার কৃষকেরা গত মৌসুমের লোকসান পুষিয়ে এবার লাভের মুখ দেখার আশা করছেন। বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়িয়ে তা শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকেরা। সড়কের পাশের খাল, ডোবা ও নালায় পাটের আঁটি জাগ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও শ্রমিকেরা পাট থেকে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কোথাও বাড়ির উঠান ও খোলা জায়গায় মেলে দেওয়া হয়েছে কাঁচা আঁশ। পাট প্রক্রিয়াজাতকরণকে কেন্দ্র করে গ্রামীণ জনপদে এক ধরনের কর্মচাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

উপজেলার ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নের কালিয়াবিল গ্রামের কৃষক হান্নান, খালেক ও দবির জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের ফলন অনেক ভালো হয়েছে। বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ায় তারা উৎপাদন খরচ মিটিয়ে লাভের আশা করছেন। মো. আব্দুল আজিজ ফেকু নামে আরেকজন কৃষক জানান, বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ পাট সাড়ে ৩ হাজার থেকে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। তবে কৃষকেরা জানান, পাট চাষে বীজ, সার, জমি প্রস্তুত, শ্রমিকের মজুরি, পাট কাটা ও জাগ দেওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে বড় অঙ্কের ব্যয় হয়। বিশেষ করে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের মজুরি বেড়ে গেলে উৎপাদন খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। তাই ভালো ফলনের পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হওয়াও তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কৃষকদের দাবি, পাটের বাজার স্থিতিশীল রাখা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং পাট সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সরকারি সহযোগিতা বাড়ানো প্রয়োজন। এসব ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে পাট চাষ আরও লাভজনক হবে এবং আগামীতে কৃষকেরা আবাদ বাড়াতে আগ্রহী হবেন।

রায়গঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মমিনুল হক জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার ৯০০ বিঘা জমিতে পাটের আবাদ করা হয়েছে। যেখানে প্রতি বিঘায় গড়ে ৮ থেকে ৯ মণ পর্যন্ত পাট উৎপাদন হয়েছে। তিনি আরও জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বীজ বপন থেকে শুরু করে পরিচর্যা, পাট কাটা, জাগ দেওয়া এবং আঁশ সংরক্ষণ—প্রতিটি ধাপে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। ভালো ফলন ও অনুকূল বাজার পরিস্থিতির কারণে আগামী মৌসুমে রায়গঞ্জে পাটের আবাদ আরও বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে কৃষকের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের ঐতিহ্যবাহী ‘সোনালি আঁশ’ পাটের উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh