কোমরে শিকল বেঁধে তরুণীকে নির্যাতনের ঘটনায় সিলেটে গ্রেপ্তার ৩
- আপডেট সময় : ০৪:৩৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সিলেটে এক তরুণীর কোমরে লোহার শিকল বেঁধে রাস্তায় টেনে নেওয়ার অমানবিক ঘটনায় জড়িত তিন ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নির্যাতনের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর শাহপরান থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বুধবার সকালে তাদের আটক করে। পরবর্তীতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়েরের পর তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—শাহজালাল উপশহর সি ব্লকের ৪৪ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাসার মৃত জালাল উদ্দিনের দুই ছেলে মো. জাকির হোসেন ও মো. মোজাক্কির হোসেন এবং একই এলাকার ৫৪ নম্বর বাসার মো. মজিবুর রহমানের ছেলে মো. বুরহান উদ্দিন। তারা সবাই উপশহরের মসজিদ মার্কেটের ব্যবসায়ী। ভিডিও ফুটেজ দেখে পুলিশ তাদের শনাক্ত করে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যার দিকে উপশহরের মসজিদ মার্কেটের একটি দোকানে ক্যাশ চুরির অভিযোগ ওঠে ওই তরুণীর বিরুদ্ধে। সিসিটিভি ফুটেজে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার দাবি করে ১৬ বা ১৭ বছর বয়সী বোরকা পরা ওই তরুণীকে দোকানের সামনে ফেলে বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন করা হয়। একপর্যায়ে তার কোমরে লোহার শিকল বেঁধে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সে সময় কান্নায় ভেঙে পড়েছিল ওই তরুণী। এই অমানবিক দৃশ্যটি কেউ একজন ক্যামেরাবন্দি করেন এবং মঙ্গলবার বিকালে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়।
এর আগে, সোমবার রাতেই শিকল বাঁধা অবস্থায় তরুণীকে শাহপরান থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন ব্যবসায়ীরা। তবে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় পরদিন মঙ্গলবার পুলিশ তাকে সিলেট মেট্রোপলিটন আইনে প্রসিকিউশন দিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত শুনানি শেষে তরুণীটিকে তার বাবার জিম্মায় ছেড়ে দেন। বর্তমানে সে তার বাবার কাছেই রয়েছে।
শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফেরদৌস আহমদ জানান, চুরির অভিযোগে ব্যবসায়ীরা তরুণীটিকে পুলিশের কাছে দিলেও কোনো এজাহার করেননি। হস্তান্তরের সময় তার ওপর এমন অমানবিক নির্যাতনের বিষয়টি পুলিশের জানা ছিল না। মঙ্গলবার বিকালে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং দ্রুত আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) মো. মঞ্জুরুল আলম জানিয়েছেন, পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ।



























